পদ্মা ট্রিবিউন | বাংলা নিউজ পেপার
বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্ব বাণিজ্য মতামত খেলা বিনোদন চাকরি জীবনযাপন ভিডিও

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রকোপ চরমে

সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন বাড়ছে রোগীর চাপ, সঙ্গে মিলছে মৃত্যুর খবরও

প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জ
ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশা
ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশা | গ্রাফিক্স: পদ্মা ট্রিবিউন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন বাড়ছে রোগীর চাপ, সঙ্গে মিলছে মৃত্যুর খবরও।


হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত জানুয়ারি থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩,৫১৮ জনে। এর মধ্যে শুধু সদর হাসপাতালেই বর্তমানে ১১১ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ১ নভেম্বর নতুন করে ২৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর গত ২ নভেম্বর বিকেল পর্যন্ত জেলার ৫টি উপজেলায় নতুন করে আরও ৫৬ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হন। এতে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩,৫৬৫ জনে।


উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯৩ জনে। এছাড়া গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ১৮০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন; যার মধ্যে বর্তমানে ১৭ জন চিকিৎসাধীন এবং ৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ১০০ জন ভর্তি রোগীর মধ্যে বর্তমানে ৪ জন চিকিৎসাধীন ও ২ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। আর ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট রোগীর সংখ্যা ১১২ জন, যেখানে বর্তমানে ৩ জন ভর্তি রয়েছেন এবং ৪ জনকে রিলিজ দেওয়া হয়েছে।


এর আগে ৩০ অক্টোবরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন ছিলেন ১২৭ জন রোগী। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ৯৩ জন, শিবগঞ্জে ৭ জন, গোমস্তাপুরে ১৪ জন, নাচোলে ৮ জন এবং ভোলাহাটে ৯ জন চিকিৎসাধীন ছিলেন। ওই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন ৪২ জন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয় ৬ জনকে।


হাসপাতালে মৃত্যুর সরকারি হিসাব ৪ জন বলা হলেও, বিভিন্ন সূত্র ও স্বজনদের দাবি অনুযায়ী জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ জনে। এর মধ্যে গত ৩ অক্টোবর উন্নত চিকিৎসার নেওয়ার পথে মারা যান শিবগঞ্জের মো. সাদেক আলী (৩৫) এবং ৩০ অক্টোবর ওই উপজেলার আরও এক বাসিন্দা ডেঙ্গুতে মারা যান। তবে প্রত্যন্ত অঞ্চলে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সঠিক হিসাব না পাওয়ায় প্রকৃত চিত্র নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।


এদিকে মশা নিধনে জোরালো ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানিয়েছে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে তাদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।


চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম সাহাবুদ্দিন জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে গত ১ নভেম্বর সদর উপজেলার আরামবাগ এলাকায় ৮টি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে ৫টি বাড়ির ড্রামের পানিতে এডিস মশার লাভা পাওয়া যায়। জেলার বিভিন্ন ড্রেনে ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশার ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি সচেতনতামূলক প্রচারণাও চলছে। এছাড়া ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য শিবগঞ্জে ১,৪৪৫টি, গোমস্তাপুরে ১,২৭০টি, নাচোলে ২,০০৬টি এবং ভোলাহাটে ৭৫০টি এনএসআই কম্বো কিট সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে শিবগঞ্জে ১,০৫০টি, গোমস্তাপুরে ৯২০টি, নাচোলে ১,৩৬৬টি এবং ভোলাহাটে ৭৫০টি কিট ব্যবহার করা হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

0 Comments

No comments yet. Be the first to share your thoughts!

Leave a Comment

Moderated — may take a moment.