শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানা অনিয়মের অভিযোগ
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই জরুরি বিভাগে প্রশাসনিক শৃঙ্খলার চরম অভাব দেখা যাচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও রোগীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। বহিরাগতদের দিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়া, দালাল চক্রের দাপট, সেবাগ্রহীতাদের স্বজনদের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ দাবি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে প্রশাসনিক কর্মকর্তার অসদাচরণের মতো ঘটনা ঘটছে বলে ভুক্তভোগী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
হাসপাতালের নথি ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন এক নারী রোগীকে ইনজেকশন দেন এক বহিরাগত অ্যাম্বুলেন্স চালক। ওই সময় কক্ষে উপ-সহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা আব্দুস সালাম উপস্থিত ছিলেন এবং দায়িত্বে ছিলেন চিকিৎসক আলমগীর হোসেন। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই জরুরি বিভাগে প্রশাসনিক শৃঙ্খলার চরম অভাব দেখা যাচ্ছে।
একই সঙ্গে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সক্রিয় দালাল চক্রের কারণে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। রোগীদের জোরপূর্বক বাইরের বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া এবং নির্দিষ্ট রোগ নির্ণয় কেন্দ্রে পরীক্ষা করাতে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে।
দাইপুকুরিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা দুরুল হোদা জানান, বিষপান করা ছেলেকে জরুরি চিকিৎসার জন্য আনলে নৈশপ্রহরী সেলিম তাঁর কাছ থেকে জোরপূর্বক ৫০০ টাকা আদায় করেন।
প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজির আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, কারণ ছাড়াই তাঁদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করা হয় এবং প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে আধা ঘণ্টা প্রশাসনিক কার্যালয়ে সাধারণ মানুষের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মী জানান, প্রশাসনিক অসদাচরণের কারণে অভিজ্ঞ চিকিৎসকেরা এখানে কাজ করতে আগ্রহী হন না।
এদিকে গতকাল সোমবার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট বিতরণ কর্মসূচিতে হাসপাতালে যান শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাজাহারুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে নোংরা পরিবেশ ও চিকিৎসাসেবার সার্বিক ঘাটতি দেখে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে ইউএনও জানান, স্বাস্থ্যসেবার মতো সংবেদনশীল স্থানে বহিরাগতদের উপস্থিতি ও বিশৃঙ্খলা অনাকাঙ্ক্ষিত। চিকিৎসার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হাসপাতাল প্রশাসনকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজির আহমেদ বলেন, ‘কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ সত্য নয়। অ্যাম্বুলেন্স চালক কর্তৃক ইনজেকশন দেওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং এক দালালকে মুচলেকা নিয়ে ছাড়া হয়েছে।’ পাশাপাশি জনবলসংকট ও চিকিৎসা যন্ত্রাংশের ঘাটতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।