মাটি ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্ব, ফেনীতে ছাত্রদল নেতার বাড়িতে আগুন
![]() |
| আগুনে পুড়ছে ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের বাড়ি। গতকাল রাত ৯টার দিকে সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের উত্তর ফতেহপুর গ্রামে | ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া |
ফেনীতে এক ছাত্রদল নেতার বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত নয়টার দিকে সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের উত্তর ফতেহপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, মাটির ব্যবসা নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের দুটি পক্ষের বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে।
আগুনে পুড়ে যাওয়া দুটি বসতঘর মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের। তিনি ফেনী আলিয়া কামিল মাদ্রাসা ছাত্রদলের সভাপতি ও শর্শদি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক।
পুলিশ, দমকল বাহিনী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, শর্শদি ইউনিয়নের ফতেহপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাটির ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিএনপির সহযোগী সংগঠনগুলোর একাধিক পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে একটি ইটভাটার জন্য মাটি নেওয়ার সময় কয়েকটি গাড়ি আটকে দেয় একটি পক্ষ। ওই পক্ষে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসমবায় বিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন, উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব মীর মোশাররফ হোসেন, শর্শদি ইউনিয়ন যুবদলের সমন্বয় কমিটির সদস্য জাফর আহমদ এবং যুবদল কর্মী দেলোয়ার হোসেন ও আলাউদ্দিন ছিলেন। গাড়ি আটকে দেওয়া নিয়ে তাঁদের সঙ্গে সাইফুদ্দিন ও তাঁর সমর্থকদের কথা-কাটাকাটি হয়। এই ঘটনায় ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনার পর থেকে তাঁরা আমাকে বিভিন্ন হুমকি দিতে থাকেন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর শর্শদি ইউনিয়ন যুবদলের সমন্বয় কমিটির সদস্য জাফর আহমদ ও তাঁর লোকজন আমার মেজ ভাইকে মারধর করে হাত ভেঙে দেন। একপর্যায়ে আমার দুজন কর্মীকে তুলে নিয়ে পাশের দেবীপুর এলাকার একটি ক্লাবে বেঁধে রাখেন। এরপর রাতে জাফরের নেতৃত্বে দেলোয়ার, জামাল ও আরফান আমার বাড়িতে হামলা করেন।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘বসতঘরে হামলার সময় আমার মা ও বোনকে একটি রুমে আটকে রাখা হয়। পরে মা ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে বাড়ির সামনের রাস্তায় গেলে হামলাকারীরা আমাদের ঘরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।’
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে যুবদলের সমন্বয় কমিটির সদস্য জাফর আহমদ ও যুবদল কর্মী দেলোয়ার হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও কেউ ধরেননি। তবে উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব মীর মোশাররফ হোসেন বলেন, তিনি হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। বরং হামলার খবর পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ তিনি দ্রুত সেখানে যান। তাঁর বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ ভিত্তিহীন।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসমবায় বিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাস্থলে অনেকগুলো নজরদারি ক্যামেরা আছে, সেখানে খোঁজ নিয়ে দেখুন আমার উপস্থিতি আছে কি না। আমি এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই।’
এদিকে আগুনের খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে ফেনী ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আগুনে বসতঘর ও রান্নাঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।’
জানতে চাইলে শর্শদি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তারেক ইকবাল বলেন, ‘আমরা কোনো সন্ত্রাসী রাজনীতি করি না, করবও না এবং কাউকে করতেও দেব না। সাইফুদ্দিনের বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় আমাদের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। যাঁরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাঁদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি করছি।’
ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাস বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এটি দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে ঘটা ঘটনা বলে জানা গেছে। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। ওই এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

Comments
Comments