নাটোরে তেল দিতে দেরি হওয়ায় ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুর, বিক্রি বন্ধ
![]() |
| বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে কানন ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার আহম্মদপুর এলাকায় | ছবি: সিসিটিভি ফুটেজ থেকে সংগৃহীত |
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় একটি জ্বালানি তেল বিক্রয় কেন্দ্রে ভাঙচুরের ঘটনায় তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে উপজেলার আহম্মদপুর এলাকার কানন ফিলিং স্টেশনে এই ঘটনা ঘটে।
প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা জানান, সন্ধ্যায় প্রায় ৯ হাজার লিটার ডিজেল আসার পর তা গ্রাহকদের কাছে বিক্রি শুরু হয়। রাত দেড়টার দিকে কর্মীরা খাবার খেতে গেলে স্থানীয় ট্রাকচালক আবদুল ওহাব তাৎক্ষণিকভাবে তেল দেওয়ার দাবি করেন। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলায় তিনি রেগে গিয়ে ক্যাশ ঘর ও ব্যবস্থাপকের কক্ষে ভাঙচুর চালান। দুটি ঘরের আসবাব ও মালামাল তছনছ করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ আসার আগেই তিনি পালিয়ে যান।
এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানের কোষাধ্যক্ষ ফজর আলী বলেন, ‘আমি ২৫ বছর ধরে তেল বিক্রি করি। কোনো ক্রেতার কাছ থেকে এমন আচরণ আগে দেখিনি। তেল পেতে একটু দেরি হওয়ায় ওহাব চালক ব্যাপক ভাঙচুর ও তছনছ করেছে; আমাকে অপমানও করেছে। আমরা এর বিচার চাই।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আবদুল ওহাব জানান, তিনি নিজের ট্রাকে তেল নিতে গিয়ে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করছিলেন। তাঁর দাবি, কর্তৃপক্ষ নিয়ম ভেঙে একটি ইটভাটার গাড়িতে একটানা তেল দিচ্ছিল। তিনি শুধু এর প্রতিবাদ করেছেন, কোনো ভাঙচুর করেননি।
ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন জানিয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিক ধীরেন সাহা বলেন, কর্মীরা খাবার খেতে যাওয়ার সময় ওই চালক দ্রুত তেল না পেয়ে ভাঙচুর ও কর্মীদের নাজেহাল করেন। বিষয়টি পুলিশ ও জ্বালানি তেল বিক্রয় কেন্দ্র মালিক সমিতিকে জানানো হয়েছে। অভিযুক্তের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হবে।
ইটভাটার গাড়িতে তেল দেওয়ার বিষয়ে ধীরেন সাহা বলেন, ‘তারা আমাদের নিয়মিত গ্রাহক। তাদের তেল দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। তাই বলে ভাঙচুর করার কোনো সুযোগ নেই।’
অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ এলাকা পরিদর্শন করেছে। নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ইফতেখার আহমেদ বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

Comments
Comments