[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

কেউ গান করছিলেন, কারও হাতে বাঁশি, ‘উল্লাসের’ মধ্যেই যুবকটিকে পেটাতে পেটাতে মেরে ফেলেন

প্রকাশঃ
অ+ অ-
খুঁটিতে দুই হাত বেঁধে শাহাদাত হোসন নামের এক যুবককে মারধর করছে একদল তরুণ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ভিডিওটি | ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

কেউ গান গাইছিলেন, কেউবা বাজাচ্ছিলেন বাঁশি। সেই ‘উল্লাসের’ মধ্যেই স্টিলের পাইপে দুই হাত বাঁধা এক যুবক অচেতন হয়ে ঢুলছিলেন। আর তাঁকে ঘিরে চলছিল এলোপাথাড়ি মারধর। চট্টগ্রাম নগরের দুই নম্বর গেট এলাকার সেই ঘটনায় দীর্ঘ দেড় বছর তদন্ত শেষে পুলিশের অভিযোগপত্রে উঠে এসেছে এক নৃশংস চিত্র। সেখানে বলা হয়েছে, একদল লোক জড়ো করে ছিনতাইকারী সন্দেহে শাহাদাত হোসেন নামের ওই যুবককে নেচেগেয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তাঁর লাশ অটোরিকশায় করে আধা কিলোমিটার দূরে নালার পাশে ফেলে আসা হয়।

এ ঘটনায় এক কিশোরসহ পাঁচজনকে আসামি করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন—ফরহাদ আহমেদ চৌধুরী (৪৩), আনিসুর রহমান (২০), মেহেদী হাসান (২৭) ও মো. মাজেদ (২২)। এ ছাড়া ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের বিরুদ্ধে আলাদা দোষীপত্র দেওয়া হয়েছে। গত ৮ এপ্রিল পাঁচলাইশ থানা-পুলিশ চট্টগ্রাম আদালতে এই অভিযোগপত্র জমা দেয়।

নিহত শাহাদাত হোসেন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার পাঁচবাড়িয়া ইউনিয়নের নদনা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নগরের কোতোয়ালি থানার বিআরটিসি এলাকার বয়লার কলোনিতে থাকতেন এবং ফলমণ্ডির একটি দোকানে কাজ করতেন। তবে পুলিশের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের একটি মামলা রয়েছে।

২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট পাঁচলাইশের প্রবর্তক মোড় এলাকার একটি নালার পাশ থেকে শাহাদাতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবি দেখে তাঁর বাবা মো. হারুন লাশটি শনাক্ত করেন। পরদিন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন তিনি।

মামলার বিবরণীতে বলা হয়, ১৩ আগস্ট দুপুরে কাজের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন শাহাদাত। সন্ধ্যায় স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। গভীর রাত পর্যন্ত বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

লাশ উদ্ধারের প্রায় এক মাস পর, ২১ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ২০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, কয়েকজন তরুণ চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গান গাইছেন আর কেউ বাঁশি বাজাচ্ছেন। তাঁদের মাঝখানে এক যুবকের দুই হাত বাঁধা এবং তাঁকে ঘিরে মারধর চলছে।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার চার দিনের মধ্যে পুলিশ ফরহাদ, আনিসুর ও এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করে। পরে ওই কিশোর আদালতে জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার সঙ্গে নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। সে জানায়, ছিনতাইকারী সন্দেহে ১৫ থেকে ২০ জন মিলে ওই যুবককে মারধর করে। একপর্যায়ে সে নিজেও মারধরে অংশ নেয়।

অভিযোগপত্রে ২০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অন্যতম সাক্ষী প্রত্যক্ষদর্শী খিচুড়ি বিক্রেতা মীর নাজমুল হোসেন। তিনি জানান, ৫ আগস্টের পর রাস্তায় পুলিশ না থাকায় শিক্ষার্থীরা যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছিল। ১৩ আগস্ট রাত ১১টার দিকে দুই নম্বর গেট এলাকায় শাহাদাতকে ট্রাফিক সংকেতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। 

গান গেয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার ফরহাদ আহমেদ চৌধুরী ও আনিসুর রহমান। পরে তাঁদের জামিন হয় | ফাইল ছবি 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক এস এম সফিউল আজম মুন্সী জানান, ভিডিও এবং জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ছিনতাইকারী সন্দেহে শাহাদাতকে নেচেগেয়ে মারধর করা হয়। পরে তাঁর লাশ অন্য জায়গায় ফেলে রাখা হয়। সোহান ও আসিফ উল মেজবাহ নামের আরও দুজনকে শনাক্ত করা গেলেও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা না পাওয়ায় তাঁদের এখনই আসামি করা সম্ভব হয়নি। ঠিকানা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

নিহতের বাবা মো. হারুন বলেন, ‘আমার ছেলেকে যারা পিটিয়ে হত্যা করেছে, আমি তাদের বিচার চাই। আমি দিনমজুর, আমার ছেলেও দিনমজুর ছিল। কী অপরাধে তাকে এভাবে মারা হলো? এমন ঘটনা যেন আর কোনো পরিবারের সঙ্গে না ঘটে।’

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন