রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান
| রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে শিল্পীদের পরিবেশনা। ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
রাজধানীর রমনার বটমূলে ভোরের আলো ফোটার পরপরই শুরু হয়েছে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে সম্মেলক কণ্ঠে ‘জাগো আলোক-লগনে’ গানের সুরে যাত্রা শুরু হয় এই আয়োজনের।
এরপর পরিবেশিত হয় ‘এ কী সুগন্ধহিল্লোল বহিল’ ও ‘তোমার হাতের রাখীখানি বাঁধো আমার দখিন-হাতে’ গান দুটি। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩–কে বরণ করে নেওয়ার এই প্রভাতি অনুষ্ঠানের এবারের মূল ভাবনা ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন সাঁই, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অজয় ভট্টাচার্য, আবদুল লতিফ ও জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্রের গান দিয়ে সাজানো হয়েছে পুরো আয়োজন। এর পাশাপাশি আরও রয়েছে লোকগান।
![]() |
| এবার বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’। রমনার বটমূল ঢাকা, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
ছায়ানট থেকে আগে জানানো হয়েছিল, এই আয়োজনে মোট ২২টি গান থাকছে। এর মধ্যে ৮টি দলীয় এবং ১৪টি একক গান। এ ছাড়া রয়েছে দুটি পাঠ।
ছায়ানটের শিশু বিভাগসহ সব বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিশিষ্ট শিল্পী মিলিয়ে প্রায় ২০০ জন এই অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। রমনার বটমূল থেকে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করছে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও দীপ্ত টেলিভিশন এবং সংবাদ মাধ্যমগুলোর নিজস্ব ইন্টারনেট পাতা। এ ছাড়া ছায়ানটের নিজস্ব ভিডিও বিনিময়ের মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় অনুষ্ঠানটি সরাসরি দেখা যাচ্ছে। পুরো অনুষ্ঠান চলবে প্রায় দুই ঘণ্টা।
![]() |
| রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বাবার কোলে চড়ে এসেছে এক শিশু। পেছনে গানের সুরে নতুন বছর ১৪৩৩-কে বরণ করে নিচ্ছেন ছায়ানটের শিল্পীরা। ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
দেশের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট ১৯৬৭ সাল থেকে রমনার এই বটমূলে পহেলা বৈশাখে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে। এই আয়োজনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ভয়ের পরিবেশ কাটিয়ে সংগীতের মধ্য দিয়ে বাঙালির আত্মপরিচয়কে তুলে ধরা। সময়ের হাত ধরে পহেলা বৈশাখের এই অনুষ্ঠান দেশের সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের কাছে এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।


Comments
Comments