[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

দেশজুড়ে গরম, এ মাসে একাধিক তীব্র তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস

প্রকাশঃ
অ+ অ-
গরমে মাথায় গামছা বেঁধে রিকশা চালাচ্ছেন এক চালক। ৩ এপ্রিল, রাজশাহী | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

চলতি এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা গরম হাওয়া বা মৃদু তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। গতকাল দেশের অন্তত ২৭ জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। আবহাওয়া দপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ মাসে এক থেকে দুটি তীব্র তাপপ্রবাহ হতে পারে। তবে ২০২৪ সালে দেশে যতটা গরম পড়েছিল বা যেভাবে টানা ৩৬ দিন ধরে তাপপ্রবাহ চলেছিল, এবার পরিস্থিতি তেমনটা না-ও হতে পারে।

শনিবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে তাপপ্রবাহ থাকতে পারে বলে আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গেছে। গতকাল রাজধানীতেও আগের দিনের চেয়ে তাপমাত্রা বেড়ে গেছে। তবে শরীয়তপুরসহ দেশের কিছু এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। রাজধানীর কাছাকাছি কয়েকটি এলাকাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

সূত্র জানিয়েছে, গতকাল রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের সব জায়গায় এবং ঢাকাসহ ৯ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে মোট জেলার সংখ্যা ১৮। এর সঙ্গে আরও ৯ জেলা যুক্ত হয়ে মোট ২৭ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। ঢাকা ছাড়া বাকি যে আট জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে, সেগুলো হলো—ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর, রাঙামাটি, বরিশাল ও পটুয়াখালী।

সাধারণত কোনো এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ ধরা হয়। তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি হলে তাকে মাঝারি এবং ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়। আর তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রির বেশি হয়ে গেলে তাকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে গণ্য করা হয়।

গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়, ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপরই ছিল রাজশাহী; উত্তরের এই নগরীর তাপমাত্রা ছিল ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গতকাল রাজধানীতেও তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন এই তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তবে রোববার থেকে দেশের কিছু এলাকায় ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে। এতে সাময়িকভাবে গরমের দাপট বা তাপপ্রবাহ কমে আসতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর প্রতি মাসের শুরুতে দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস দিয়ে থাকে। এপ্রিল মাসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ মাসে এক থেকে দুটি তীব্র তাপপ্রবাহ হতে পারে। এ ছাড়া এ মাসে দুই থেকে চারটি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে।

অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিকের মতে, এবারের এপ্রিল মাসে তাপমাত্রা স্বাভাবিক বা তার কাছাকাছি থাকলেও গরমের তীব্রতা অনেক বেশি অনুভূত হবে। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল অর্থাৎ খুলনা বিভাগ, ঢাকা, সিলেট ও বরিশালের কিছু এলাকায় গরমের দাপট বেশি থাকতে পারে।

২০২৪ সালে বাংলাদেশ ৭৬ বছরের মধ্যে দীর্ঘতম ৩৫ দিনের টানা তাপপ্রবাহ দেখেছিল। তবে এবার তেমন পরিস্থিতি না-ও হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবুল কালাম মল্লিক। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, চলতি মাসে একাধিক বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা আছে। তেমনটা হলে তীব্র গরম পড়লেও তা কমে আসতে পারে। পরে আবার নতুন করে গরম পড়তে পারে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে টানা তাপপ্রবাহ থাকার আশঙ্কা কম।

এপ্রিল মাসে গড়ে নয়টি বজ্রঝড় হয়। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালেও তেমনটি হয়েছিল। এ মাসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পাঁচ থেকে সাত দিন হালকা থেকে মাঝারি এবং এক থেকে তিন দিন তীব্র কালবৈশাখী বা বজ্রঝড় হতে পারে। এ ছাড়া সাগরে এক থেকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এই লঘুচাপ থেকে একটি নিম্নচাপ বা সেখান থেকে ঘূর্ণিঝড়ও হতে পারে।

এখন তাপপ্রবাহের ধরনে বদল এসেছে এবং এটি এখন বর্ষাকাল অর্থাৎ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে। সেই বিষয়টি তুলে ধরে আবুল কালাম মল্লিক বলেন, এখন তাপমাত্রা যা-ই থাকুক, গরমের তীব্রতা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মনে হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আগামী জুন মাস পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসেও দেখা গেছে, এ সময়ে তিন থেকে চারটি তীব্র তাপপ্রবাহ হতে পারে এবং ছয় থেকে আটটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ হতে পারে। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন