ঘর থেকে মা ও দুই বছরের শিশুকন্যার মরদেহ উদ্ধার
| নিহত গৃহবধূ সুমি আক্তার ও দুই বছরের শিশুকন্যা ওয়াজিহা | ছবি: সংগৃহীত |
চট্টগ্রামের আনোয়ারার আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘর থেকে সুমি আক্তার (১৯) নামের এক গৃহবধূ ও তাঁর দুই বছরের মেয়ে ওয়াজিহার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের গুয়াপঞ্চক দেয়াঙ বাজার আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে তাঁদের লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত গৃহবধূর স্বজনদের দাবি, সুমি ও তাঁর মেয়েকে হত্যা করেছেন স্বামী ও শাশুড়ি। হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে প্রচার করার চেষ্টা করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে মোহাম্মদ মিজান (৩৫), তাঁর মা, স্ত্রী সুমি ও মেয়ে ওয়াজিহাকে নিয়ে থাকতেন। সন্ধ্যায় মিজান স্থানীয় ইউপি সদস্যকে ফোন করে স্ত্রীর আত্মহত্যার কথা জানান। পরে মোহাম্মদ মিজান ও তাঁর মা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পুলিশ গিয়ে লাশ দুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
নিহত সুমি আক্তারের স্বামী মোহাম্মদ মিজানের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যান বৈরাগ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. ইদ্রিস। তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ওই ঘরে গিয়ে দেখি, টিনের চালের সিলিংয়ের সঙ্গে আলাদাভাবে সুমি ও তাঁর শিশুকন্যার লাশ ঝুলছিল। সঙ্গে সঙ্গে আমি পুলিশকে জানাই। পুলিশ এসে লাশ দুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।’
![]() |
| নিহত সুমি আক্তারের মা হোসনে আরা বেগমের আহাজারি থামছে না। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আনোয়ারার গুয়াপঞ্চক দেয়াঙ বাজার আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
সুমির পরিবারের সদস্যরা জানান, সুমি কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের নুরুল ইসলামের মেয়ে। তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে পটিয়া উপজেলার কৈয়গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে মোহাম্মদ মিজানের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর সুমির মায়ের পাওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে ওঠেন মিজান।
নিহত সুমির মা হোসনে আরা বেগম বলেন, ‘আমাকে মেয়ের স্বামী মিজান মাগরিবের আগে ফোন করে। তখন আমি মেয়ের গোঙানির শব্দ পাই। মেয়ের জামাই ও তার মা মিলে আমার মেয়েকে মেরে পালিয়ে গেছে।’
মা–মেয়ের মৃত্যুকে রহস্যজনক বললেও এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারেনি পুলিশ। আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ‘আমরা লাশ উদ্ধার করেছি। প্রাথমিক প্রতিবেদন তৈরি করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। ঘটনাটি রহস্যজনক মনে হচ্ছে। আমরা তদন্ত শুরু করেছি।’

Comments
Comments