চন্দ্রায় ১০-১২ কিলোমিটারজুড়ে যানজট, ভোগান্তির তুঙ্গে ঘরমুখী মানুষ
![]() |
| ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় অতিরিক্ত চাপে যানবাহন চলছে ধীরগতিতে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তোলা | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় আজ বুধবার সকাল থেকে ১০–১২ কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। থেমে থেমে যানবাহন চলাচলের কারণে যাত্রী ও চালকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখী মানুষের চাপ মহাসড়কগুলোতে বাড়তে শুরু করেছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ থাকলেও বড় ধরনের যানজট দেখা যায়নি। কিন্তু ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা বাস টার্মিনাল সংলগ্ন প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকায় ধীরগতির কারণে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে।
চালকদের মতে, আজ দুপুরের পর গাজীপুরের প্রায় ৪০ শতাংশ কারখানা ছুটি শুরু করলে যানবাহনের চাপ আরও কয়েক গুণ বাড়বে।
জানাগেছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে সফিপুর থেকে চন্দ্রা ত্রিমোড় পর্যন্ত এবং চন্দ্রা-নবীনগর সড়কের বাড়ইপাড়া এলাকা থেকে ত্রিমোড় পর্যন্ত যানজট বিস্তার পেয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকলেও যাত্রী ও যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চন্দ্রা ত্রিমোড়, নবীনগর সড়ক ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যানবাহন কোথাও দীর্ঘ সময় স্থির আছে, আবার কোথাও ধীরগতিতে এগোচ্ছে। ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা অধিকাংশ বাস যাত্রীপূর্ণ থাকায় চন্দ্রা এলাকায় নতুন যাত্রী তোলার সুযোগ কম। ফলে স্থানীয় যাত্রী পরিবহনের জন্য মহাসড়কের দুই পাশে অসংখ্য যানবাহন দাঁড় করানো হয়েছে। অনেক পরিবহন আগেই কারখানা শ্রমিকদের জন্য রিজার্ভ করা থাকায় এটি যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।
এছাড়া আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঘরমুখী মানুষের ভিড় বেড়ে যাওয়ায় যাত্রী ওঠানামার সময় যানজট আরও তীব্র হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অতিরিক্ত যানবাহন, সড়কের সংকীর্ণতা এবং নির্ধারিত স্থানের বাইরে গাড়ি থামানো—এসব কারণে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে প্রায় পাঁচ হাজার ছোট-বড় কারখানা আছে। গতকাল মঙ্গলবার প্রায় ২৫ শতাংশ কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছিল। আজ বুধবার অধিকাংশ কারখানা বন্ধ থাকবে এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবার আরও ৮৩৩টি কারখানা বন্ধ হওয়ার কারণে যাত্রীর চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চন্দ্রা উড়ালসড়কের নিচে কথা হয় সেলিম হোসেন নামে এক শ্রমিকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘গতকাল কারখানা ছুটি ছিল। তবে আজ সকালে রওনা দিয়েছি। যানজট থাকলেও গাড়ির খুব একটা সংকট নেই, দরদাম করে যেকোনোভাবে বাড়ি চলে যাব।’
কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম প্রথম আলোকে জানান, গতকাল থেকেই যাত্রীর চাপ বেড়েছে। আজ দুপুরের পর তা আরও কয়েক গুণ বাড়বে। মহাসড়কের পাশে শ্রমিকদের জন্য ভাড়া করা অসংখ্য গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকায় যানজটের চাপ বেড়েছে।

Comments
Comments