[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

বিশ্বকাপে খেললে আর খেললেই কত ক্ষতি হতে পারে বাংলাদেশে?

প্রকাশঃ
অ+ অ-

গ্রাফিক্স: পদ্মা ট্রিবিউন 

বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত বদলায়নি। টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সহ–আয়োজক দেশ ভারত যদি ম্যাচ সরাতে না চায়, নিরাপত্তা বিষয়ক কারণে এবার বাংলাদেশ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলবে না। এটি এখন চূড়ান্ত। গতকাল হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিশ্বকাপের দলে থাকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে এক সভার পর যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই।’

এর অর্থ হলো, আইসিসি ভেন্যু না বদলানোর সিদ্ধান্ত জানানোর পরও বাংলাদেশ ভারতে না গিয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে না। এতে বাংলাদেশ ক্রিকেটের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর আগে বিসিবির আয় উৎসগুলো একটু দেখা যাক।

জাতীয় দলের খেলায় টিকিট বিক্রি, সম্প্রচার স্বত্ব, বিজ্ঞাপন এবং স্পনসরশিপ থেকে আয় করে বিসিবি। তবে বিসিবির মূল আয়ের উৎস হলো আইসিসি। ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার আয় থেকে বিসিবি ভাগ পায়। কিছুদিন আগে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রতিবছর বিসিবির আয়ের ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ আসে আইসিসি থেকে।

আইসিসির আয়োজিত তিন সংস্করণের বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট থেকেও অংশ নেওয়া দেশগুলোকে রাজস্বের ভাগ দেওয়া হয়। শুধু অংশ নেওয়ার জন্যই দেশগুলোকে নির্দিষ্ট অর্থ দেয় আইসিসি। এরপর টুর্নামেন্টে পারফরম্যান্স অনুযায়ী ধাপে ধাপে আয়ের সুযোগ থাকে। টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেললে এসব খাত থেকে কোনো অর্থই পাবে না বিসিবি।

ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, বাংলাদেশ যদি এবার টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলতে যায়, আয়ের সুযোগ হারাবে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৩৩০ কোটি ২১ লাখ টাকা। অংশ নিলে আইসিসির বার্ষিক রাজস্বের ৪.৪৬ শতাংশ হিসেবে এই অর্থ পাওয়া যেত।

কিন্তু ভারত না খেলার সিদ্ধান্ত নিল এবং আইসিসিও ভেন্যু বদলাচ্ছে না। তাই বাংলাদেশ টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলবে না এবং বিশাল অঙ্কের অর্থও আয় করতে পারবে না। কারণ অংশ না নেওয়ার ফলে আইসিসির অংশগ্রহণ-সংক্রান্ত শর্ত ভঙ্গ হবে। এর ফলে রাজস্ব ভাগের বড় অংশ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে।

একই সঙ্গে সম্প্রচার স্বত্ব ও স্পনসরশিপ থেকে পাওয়া আয়ের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে। অর্থাৎ এক সিদ্ধান্তের কারণে বিসিবির বার্ষিক আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

এবার টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে দলগুলো শুধু অংশ নেওয়ার জন্যই ৩ লাখ ডলার (প্রায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা) পাবে। বাংলাদেশ না খেললে এই অংশগ্রহণ ফিও মিলবে না। পরবর্তী ধাপে উত্তরণের জন্য আলাদা করে প্রাইজমানিও দল পেত। এছাড়া বিশ্বকাপে না খেললে খেলোয়াড়রাও ব্যক্তিগতভাবে আয়ের সুযোগ হারাবেন—ম্যাচ ফি, পারফরম্যান্স বোনাস ও প্রাইজমানি।

এবার টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলার গ্রহণযোগ্য কারণ বাংলাদেশ যদি আইসিসির কাছে তুলে ধরতে না পারে তাহলে বিসিবিকে প্রায় ২০ লাখ ডলার (প্রায় ২৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা) জরিমানা গুনতে হতে পারে।

একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, টি–টুয়েন্টি এই মুহূর্তে ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় সংস্করণ। টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ তাই স্বাভাবিকভাবেই সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। এ কারণে বাংলাদেশের অংশ না নেওয়ার অর্থ হলো দেশে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সম্প্রচারকরাও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘রেভস্পোর্টস’ জানিয়েছে, বাংলাদেশ টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নিলে এ দেশে টুর্নামেন্টটির অফিশিয়াল সম্প্রচারক টিভি চ্যানেল টি স্পোর্টস প্রায় ৩০০ কোটি টাকা লোকসানের সম্মুখীন হতে পারে। বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানও প্রায় ১০০ কোটি টাকা ক্ষতি গুনতে পারে। উপমহাদেশে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো সাধারণত টিভি দর্শক টানে। বাংলাদেশ না খেললে বিজ্ঞাপনদাতা ও স্পনসরদের আগ্রহও কমে যাবে।

সংবাদমাধ্যমগুলো আগে জানিয়েছিল, ২০২৪ টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের তুলনায় এবার প্রাইজমানি ২০ শতাংশ বাড়িয়েছে আইসিসি। এ দিক থেকে বাংলাদেশের ক্ষতিটা বেশ বড়ই। যেমন ধরুন, শুধু গ্রুপ পর্ব ও সুপার এইটে প্রতিটি ম্যাচ জয়ের জন্য প্রতিটি দল ৩১,১৫৪ ডলার বোনাস পাবে। পঞ্চম থেকে ১২তম অবস্থানে থাকা প্রতিটি দল সাড়ে ৪ লাখ ডলার করে পাবে। সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দল ৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার পাবে। রানার্সআপ দল পাবে ১৬ লাখ ডলার এবং চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৩০ লাখ ডলার প্রাইজমানি।

সংবাদমাধ্যম আরও জানিয়েছে, এবার টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলার বৈধ কারণ বাংলাদেশ যদি আইসিসির কাছে জানাতে না পারে, তাহলে বিসিবিকে প্রায় ২০ লাখ ডলার (প্রায় ২৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা) জরিমানা গুনতে হতে পারে।

এই বছর সেপ্টেম্বর মাসে ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি–টুয়েন্টি ম্যাচ খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের। বৈরী সম্পর্কের কারণে ভারত না এলে এবং সিরিজ বাতিল হলে প্রচুর অর্থ আয়ের সুযোগ হারাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট। ভারতের বিপক্ষে সিরিজ মানেই সম্প্রচারক ও বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলোর তুমুল আগ্রহ। আর যেহেতু বাংলাদেশ ভারতে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, ভবিষ্যতে ভারত যদি দেশে এসে না খেলে, বিসিবি বড় অঙ্কের আয় হারাবে। অন্য দেশের বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় সিরিজের তুলনায় ভারতের বিপক্ষে খেললে অর্থনৈতিকভাবে অনেক বেশি লাভ হয়।

আইসিসির বর্তমান রাজস্ব বণ্টন নীতি অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০২৭ চক্রে বছরে ৩২৭ কোটি টাকা করে পাওয়ার কথা বিসিবির। যেহেতু বাংলাদেশ আইসিসির ডাকে সাড়া দিচ্ছে না, তাই ২০২৮ সাল থেকে পরবর্তী তিন বছরের জন্য রাজস্ব বণ্টন নীতিতে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি আইসিসির বিভিন্ন কমিটি থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রতিনিধিরা বাদ পড়তে পারেন এবং ভোটাধিকারও সীমিত হতে পারে।

ক্রিকেটীয় ক্ষতির দিকেও সমস্যা রয়েছে। এবার টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলায় আগামী বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সরাসরি খেলার সুযোগ নাও থাকতে পারে। বাংলাদেশকে বাছাইপর্ব খেলে মূল পর্বে ওঠার পরীক্ষা দিতে হতে পারে।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন