[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

কুমিল্লায় রাতের আঁধারে কাটা হলো শতবর্ষী ৭টি গাছ

প্রকাশঃ
অ+ অ-
কেটে ফেলা শতবর্ষী গাছের গুঁড়ি পড়ে আছে সড়কে। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লা নগরের টমছমব্রিজ-মেডিকেল কলেজ সড়কের আদর্শ সদর উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

কুমিল্লা নগরের টমছমব্রিজ থেকে মেডিক্যাল কলেজ সড়কে শতবর্ষী সাতটি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। সড়ক প্রশস্ত করার কথা বলে সম্প্রতি রাতের আঁধারে এই গাছগুলো কাটা হয়।

এ ছাড়া কুমিল্লা ইপিজেডের সীমানাপ্রাচীর লাগোয়া এলাকা থেকে ৫ থেকে ১০ বছর বয়সী অন্তত ৩০টি বিভিন্ন ধরনের গাছও কাটা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

টমছমব্রিজ-মেডিক্যাল কলেজ সড়কের পাশে আদর্শ সদর উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের মূল ফটকের দুই পাশে শতবর্ষী দুটি রেইনট্রি গাছ ছিল। বিশাল আকৃতির এই গাছগুলো সবাইকে মুগ্ধ করত। আজ বেলা ১১টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, গাছগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই। সড়কের ডান পাশে উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয় ঘেঁষে পড়ে আছে বড় বড় কয়েকটি গুঁড়ি।

উপজেলা পরিষদ থেকে একটু সামনে হাউজিং এস্টেট গোলমার্কেট সড়কের মাথায় ২০০ বছরের বেশি পুরোনো একটি বটগাছ ছিল। আজ বুধবার সরেজমিন দেখা গেছে, গাছটির গোড়ার অংশ উপড়ে ফেলা হয়েছে। ঢুলিপাড়া এলাকায় নার্সারির সামনে ও কুমিল্লা কেটিসিসির সামনে আরও দুটি শতবর্ষী রেইনট্রি গাছ কাটা হয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, প্রায় ২০ দিন আগে রাতের আঁধারে গাছগুলো কেটে ফেলা হয়। পরে টুকরা টুকরা করে সেগুলো নেওয়া হয়। গাছগুলো পুরো এলাকায় ছায়া দিত। টমছমব্রিজ-মেডিক্যাল কলেজ সড়ক প্রশস্ত করার কাজ চলছে, এজন্য গাছগুলো কাটা হয়েছে বলে তিনি জানান।

সড়কটি সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের আওতাধীন, তবে বর্তমানে এর উন্নয়ন কাজ করছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন।

গাছ কাদের দ্বারা কাটা হয়েছে জানতে চাইলে সওজের কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘সড়কটি সওজের হলেও সিটি করপোরেশন আমাদের না জানিয়ে গত বছর দরপত্র আহ্বান করে। এরপর ঠিকাদার কাজ শুরু করেন। পরে আমাদের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তে এবারের জন্য তাদের উন্নয়ন কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। গাছগুলো কীভাবে কাটা হয়েছে, সেটা আমি বলতে পারব না। এ নিয়ে সিটি করপোরেশনই ভালো বলতে পারবে।’

সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন-উদ্দিন চিশতী বলেন, ‘সিটি করপোরেশন বা চলমান কাজের ঠিকাদার কোনো গাছ কাটেনি। গাছগুলো সওজ নিলামের মাধ্যমে ২০২০ সালে বিক্রি হলে কেটে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সওজের বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী হয়তো বিষয়টি জানেন না, এজন্য তিনি বলতে পারছেন না। যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে গাছগুলো কাটা হয়েছে। এখন সিটি করপোরেশন কাজ করছে বলে অনেকে মনে করছেন, তারা গাছগুলো কেটেছে, কিন্তু বাস্তবতা হলো, সিটি করপোরেশন এ বিষয়ে কিছুই জানে না।’

কুমিল্লা নগরের হাউজিং এস্টেট গোলমার্কেট সড়কে প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো বটগাছটি কেটে ফেলা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে তোলা | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

আদর্শ সদর উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম সড়ক প্রশস্ত করার জন্য গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে। পরে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে খোঁজ নিয়ে দেখেছি। কাগজপত্র ঘেঁটে জানতে পেরেছি, ২০২০ সালে মোট সাতটি পুরোনো গাছ নিলামের মাধ্যমে কেটে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু করে সওজ। সাতটি গাছের মধ্যে দুটি মেহগনি আর বাকি পাঁচটি রেইনট্রি। বটগাছটি বুনো হওয়ায় নিলামের মধ্যে ছিল না। ওই সাতটি গাছের মধ্যে একটি কোনো কারণে কয়েক বছর আগে কেটে ফেলা হয়েছিল। এখন ছয়টি কাটা হয়েছে। এগুলো সওজের নিলামে পাওয়া ঠিকাদার বা তাঁর পক্ষের লোকজনই কেটেছে বলে জানছি।’

২০২০ সালের নিলামের গাছ ২০২৬ সালে কীভাবে কাটা হচ্ছে—জানতে চাইলে সওজের কুমিল্লার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আদনান ইবনে হাসান বলেন, ‘নিলামে গাছ কাটার প্রক্রিয়া শুরু হলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কয়েক বছর সময় লাগে। এই ক্ষেত্রেও তেমনটা হতে পারে, এটি অস্বাভাবিক কিছু নয়।’

শতবর্ষী গাছ কাটায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লার ইতিহাস গবেষক আহসানুল কবীর। তিনি বলেন, ‘গাছগুলো ঠিক কবে লাগানো হয়েছে তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। আকার দেখে বোঝা যায়, এগুলো শতবর্ষী। নিলামের ছয় বছর পর কীভাবে গাছগুলো কাটা হলো, এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। ২০০ বছরের পুরোনো বটগাছটি না কাটলেও পারত। এভাবে শতবর্ষী গাছ কেটে ফেলার আগে আরও বেশি গাছ লাগানোর প্রয়োজন ছিল। তা না করে উল্টো পরিবেশের ক্ষতি করা হচ্ছে।’

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন