টাঙ্গাইলের বিলাসবহুল রিসোর্টে ইসলামী ব্যাংকের বিশেষ কর্মসূচি
![]() |
| ওয়াটার গার্ডেন রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা | ফাইল ছবি |
বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য বিদায়ী গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের মালিকানাধীন টাঙ্গাইলের ‘ওয়াটার গার্ডেন রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা’-তে অনুষ্ঠিত হয়েছে বেসরকারি খাতের বৃহত্তম ইসলামী ব্যাংকের ‘বিশেষ কর্মপরিকল্পনা কর্মসূচি –২০২৫’।
ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং সংকট কাটিয়ে ওঠার কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরির লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তে এই আয়োজন করা হয়। গত বছরের ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার দাপনাজোরে অবস্থিত এই রিসোর্টে কর্মসূচিটি চলে। অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের অবশ্য নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগে সন্ধ্যাতেই সেখানে পৌঁছাতে হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, দুই দিনের এই আয়োজনে মোট খরচ হয়েছে প্রায় ১৫ লাখ টাকা।
বর্তমানে দেশের অধিকাংশ ব্যাংক যখন খরচ কমানোর নীতি মেনে চলছে, তখন সংকটে থাকা ইসলামী ব্যাংকের এমন ব্যয়বহুল আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের মতে, ব্যাংকটি এখন নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সময়ে সংকট মোকাবিলায় আরও মনোযোগী হওয়ার প্রয়োজন ছিল। তার বদলে এমন আয়োজন কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে তারা সংশয় প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান। পরিচালনা পর্ষদের অন্য সদস্যরা বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন। ব্যাংকের উচ্চপদস্থ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যসহ জ্যেষ্ঠ নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট (এসইভিপি) ও এর ওপরের পদের মোট ৪০ জন কর্মকর্তা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, পুরো কর্মসূচির জন্য ১৫ লাখ টাকার বাজেট রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে থাকার জন্য ৪০টি কক্ষের পেছনে দুই রাতে খরচ হয় ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা। সকালের নাশতা, দুপুর ও রাতের খাবার এবং হালকা খাবারের জন্য ব্যয় হয় ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা। যাতায়াতের জন্য পর্যটন বাস ভাড়ায় খরচ হয় ৭০ হাজার টাকা। এছাড়া মিলনায়তন ভাড়া বাবদ ৫০ হাজার টাকা এবং সাজসজ্জা, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, সম্মানী ও অন্যান্য খাতে ব্যয় হয় আরও ২ লাখ টাকা।
এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা (সিএইচআরও) ড. এম কামাল উদ্দিন জসিমের নেতৃত্বে একটি কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসুদ রহমানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে দায়িত্ব পালন করে।

Comments
Comments