[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

এক দশকেও মেলেনি বিচার, তনু হত্যা মামলার কিনারা কতদূর?

প্রকাশঃ
অ+ অ-
নিহত সোহাগী জাহান তনু | গ্রাফিক্স: পদ্মা ট্রিবিউন 

‘তারেক জিয়া বিদেশে থাকার সময়ও বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে মানুষ ন্যায়বিচার পাবে। আমার মেয়েকে হত্যা করার ১০ বছর হয়ে গেল, এখনো তো বিচার হলো না। তাহলে আমরা ন্যায়বিচার কবে পাব? এই জীবনে আর কিছু চাই না, শুধু মেয়ের খুনিদের বিচার দেখতে চাই। যদি নতুন সরকার বিচার না করে, তাহলে বুঝে নেব গরিব মানুষের কোনো বিচার নেই।’

বুধবার দুপুরে মুঠোফোনে ক্ষোভ নিয়ে কথাগুলো বলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী নিহত সোহাগী জাহান ওরফে তনুর মা আনোয়ারা বেগম।

শুক্রবার সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের এক দশক পূর্তি। দেশজুড়ে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ১০ বছর পূর্ণ হলেও মামলার তদন্তে এখনো তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। এই দীর্ঘ সময়ে তদন্তে অগ্রগতির মধ্যে শুধু ‘তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন’ ছাড়া কোনো আশার খবর পায়নি সোহাগীর পরিবার। বিচার তো দূরের কথা, এত বছরেও খুনিদের শনাক্ত করা যায়নি।

তদন্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সোহাগীর পরিবারসহ কুমিল্লার সচেতন নাগরিকেরা। পরিবারের সদস্যরা বলেন, ১০ বছরে চারটি তদন্ত সংস্থা পরিবর্তন এবং ছয়বার তদন্ত কর্মকর্তা বদল ছাড়া তদন্তে কোনো আশার আলো দেখেননি তাঁরা। বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁদের সর্বশেষ কথা হয় গত বছরের এপ্রিলে। মামলার দায়িত্ব পাওয়ার সাত মাস পর গত বছরের ৭ এপ্রিল কুমিল্লায় আসেন বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা। এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে পরিবারের আর কোনো যোগাযোগ নেই। মামলাটি এখন কোন অবস্থায় আছে, সেটাও তারা জানেন না।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের রাজধানীর কল্যাণপুরের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম। বুধবার দুপুরে তরিকুল মুঠোফোনে বলেন, ‘পরিবারের দাবি ঠিক নয়। গত বছরের এপ্রিলের পর তাঁদের সঙ্গে আরও কয়েকবার কথা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আমরা যোগাযোগ করি। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর মামলাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি।’

মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তরিকুল বলেন, ‘তদন্ত এগিয়ে নিতে আমরা ইতিমধ্যে কিছু উদ্যোগ নিয়েছি। আগামী ৬ এপ্রিল আমরা কুমিল্লার আদালতে যাব। আমাদের কাজ চলমান আছে। পিবিআই দ্রুত আসামিদের শনাক্ত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনার শুরুতে থানা-পুলিশ, পরে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা এবং এরপর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটির তদন্ত করেও কোনো অগ্রগতি করতে পারেনি। পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর এই হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকার সদর দপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি। প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। তিনিও আগের তদন্ত কর্মকর্তাদের মতো বদলি হয়ে যান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলার ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পান পরিদর্শক তরিকুল। তবে এখনো তদন্তে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারেননি তিনি।

বুধবার সোহাগীর ভাই আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গত বছরের এপ্রিলের পর আমাদের সঙ্গে একবারও যোগাযোগ করেননি তদন্ত কর্মকর্তা। আমরা কী অবস্থার মধ্যে আছি, তা একমাত্র আল্লাহ জানেন। অসুস্থ মা-বাবা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। কিন্তু এখনো তদন্তের কোনো অগ্রগতি দেখছি না। গত ১০ বছরে মামলার অগ্রগতি বলতে শুধু তদন্ত কর্মকর্তা বদলই দেখেছি।’

আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘শনিবার ঈদ। কিন্তু আমাদের পরিবারে ঈদের আনন্দ নেই। ১০ বছর অনেক সময়, কেন আমার বোনের খুনের বিচার হয়নি, এই জবাব আমাদের কে দেবে?’

মা আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমার একমাত্র মেয়ে ছিল তনু। মেয়েটিকে অনেক আদরে লালন-পালন করেছি। কে আমার মেয়েকে খুন করেছে এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা দেশের মানুষ জানে। কিন্তু প্রশাসন খুনিদের সামনে আনছে না। সবার জন্য বিচার সমান হবে, এটি বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার। আমরা দেখতে চাই, খুনিদের বিচার এই সরকারের আমলে হয় কি না। মৃত্যুর আগে শুধু একটাই আশা, সেটা হলো মেয়ের খুনের বিচার দেখতে পারা।’

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে সোহাগী আর বাসায় ফেরেননি। পরে খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের কাছে ঝোপের মধ্যে তাঁর লাশ পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, তাঁকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। পরদিন তাঁর বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। ২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল ও ১২ জুন দুই দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ মৃত্যুর সঠিক কারণ খুঁজে পায়নি।

এ হত্যাকাণ্ডের শেষ ভরসা ছিল ডিএনএ রিপোর্ট। ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি তাঁর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়া কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল। এছাড়া তাঁর মায়ের সন্দেহ করা তিনজনকে ২০১৭ সালের ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত সিআইডির একটি দল ঢাকা সেনানিবাসে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। তবে ওই সময় তাঁদের নাম গণমাধ্যমকে জানায়নি সিআইডি। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন