[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

সমান সুযোগ না পেলে আসবে না ফ্রান্স ও ইউরোপের বিনিয়োগ: রাষ্ট্রদূত

প্রকাশঃ
অ+ অ-
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে ঢাকায় ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শার্লেট। আজ সোমবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে | ছবি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে

বাংলাদেশে ইউরোপীয় ও ফরাসি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ব্যবসার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শার্লেট। তিনি বলেন, সমান সুযোগ না থাকলে এসব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগ বা ব্যবসা করতে আসবে না।

সোমবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত এ কথা বলেন।

জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শার্লেট বলেন, ‘আমাদের ইউরোপীয় ও ফরাসি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সমান সুযোগ প্রয়োজন। তা না হলে তারা আসবে না। তাদের বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিই না, কারণ তারা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। তবে প্রতিষ্ঠানগুলোকে আকৃষ্ট করতে চাইলে তাদের জন্য সমান সুযোগ ও ভালো পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। তাই আমরা এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি।’

বাংলাদেশ ও ফ্রান্স দীর্ঘদিনের অংশীদার উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ফ্রান্স শুরুতেই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর একটি। তাই আমরা বাংলাদেশের বিশ্বস্ত সমর্থক। আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে বহু পক্ষের উন্নয়ন কার্যক্রমে একসঙ্গে কাজ করি, বিশেষ করে জাতিসংঘের ক্ষেত্রে, যা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি শান্তিপূর্ণ দেশ। বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সহযোগিতা গড়ে তুলতে চায়। আমরাও একই পথে আছি। আমরা সহযোগিতার পক্ষে, সংঘাতের পক্ষে নই। আগামী মাস ও বছরগুলোতে বাংলাদেশের সঙ্গে আরও সহযোগিতা বাড়াতে চাই। তাই ফ্রান্স ও বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুনভাবে এগিয়ে নিতে চাই। আগের সব অভিজ্ঞতার পর এখন নতুনভাবে শুরু করা প্রয়োজন।’

বৈঠকে আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখন সময় এসেছে সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নতুন করে দেখা ও আলোচনা করার। আমরা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেছি। পাশাপাশি অর্থনীতি, বাণিজ্য ও ব্যবসার ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছি। কারণ, আমরা চাই আরও বেশি ফরাসি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুক।’

সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শার্লেট বলেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশ থেকে আরও শিল্পী ও শিক্ষার্থী ফ্রান্সে যাক। একইভাবে ফ্রান্স থেকেও আরও শিক্ষার্থী ও শিল্পী বাংলাদেশে আসুক। তাই এটি দুই দেশের সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।’

নারীর ক্ষমতায়ন নিয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, ফরাসি কূটনীতির অগ্রাধিকারের মধ্যে নারীবাদভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতিও রয়েছে। তাই বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে আরও কাজ করতে চাই।’

এয়ারবাস থেকে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শার্লেট বলেন, ‘আমি আমার রাজধানীর কিছু বার্তা পৌঁছে দিয়েছি। আমাদের জন্য এয়ারবাস একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এয়ারবাস খুব ভালো মানের উড়োজাহাজ তৈরি করে। তাই এই খাতে বৈচিত্র্য আনা জরুরি। এয়ারবাস এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যাকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।’

তবে বিষয়টি সরকারের সঙ্গে এয়ারবাসের আলোচনার ওপরই নির্ভর করবে বলে জানান ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ‘এই প্রথম বৈঠকে আমি মূলত দীর্ঘমেয়াদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। আশা করি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, সরকার এবং বাংলাদেশ বিমান এয়ারবাসের বিষয়টি বিবেচনা করবে। তবে আমাদের আলোচনায় এটি প্রধান বিষয় ছিল না।’

এয়ারবাস না কিনলে তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা এখনো সরকারের সঙ্গে এয়ারবাস নিয়ে আলোচনা করছি। এয়ারবাসও সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। পরে কী হয়, তা দেখা যাবে। তবে আমরা আশা করি এয়ারবাসকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে, কারণ এটি একটি ভালো প্রতিষ্ঠান।’

বিকেলে বৈঠকের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামকে ফ্রান্স থেকে এয়ারবাস কেনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সব দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বন্ধু দেশের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আলোচনা হয়। আমাদের সঙ্গে সব দেশেরই সম্পর্ক থাকবে বাংলাদেশ প্রথম নীতির ভিত্তিতে।’

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন