মোটরসাইকেল না পেয়ে বাবাকে হত্যা, মা-বোন আহত
| ছুরিকাঘাত | প্রতীকী ছবি |
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়ায় বাবাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হামলাকারীর মা ও বোন গুরুতর আহত হয়েছেন। অভিযুক্ত ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শনিবার ইফতারের পর উপজেলার পুনট ইউনিয়নের বফলগাড়ী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম আক্কাছ আলী (৫৮)। তিনি বফলগাড়ী গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। আহত ব্যক্তিরা হলেন তাঁর স্ত্রী মাহমুদা বেগম (৫২) ও মেয়ে শাবানা (৩৫)। তাঁদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত ছেলের নাম গোলাপ হোসেন (২৮)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোলাপ হোসেন বাড়িতে থাকলেও বেশির ভাগ সময় বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতেন। স্থানীয় লোকজনের দাবি, তাঁর কিছুটা মানসিক সমস্যা ছিল। সম্প্রতি তিনি বাবার কাছে মোটরসাইকেল কেনার জন্য টাকা চেয়েছিলেন। তা না পেয়ে তিনি খেপে যান। গত শনিবার ইফতারের পর বাড়ির দরজা বন্ধ করে গোলাপ হোসেন ধারালো বঁটি ও কাঠের টুকরো দিয়ে তাঁর বাবা আক্কাছ আলীকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করেন। এ সময় মা মাহমুদা বেগম ও বোন শাবানা তাঁকে থামাতে গেলে তাঁদের ওপরও হামলা চালানো হয়। প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত তিনজনকে উদ্ধার করে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই আক্কাছ আলী মারা যান।
স্থানীয় বাসিন্দা রাব্বিউল হাসান বলেন, ‘শুনেছি গোলাপ হোসেন বাবার কাছে মোটরসাইকেল কেনার জন্য টাকা চেয়েছিলেন। ইফতারের পর হঠাৎ তিনি বঁটি ও কাঠের টুকরো দিয়ে বাবা, মা ও বোনকে কুপিয়ে জখম করেন। আমরা তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাই। পরে জানতে পারি তাঁর বাবা মারা গেছেন।’
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, গত শনিবার ইফতারের পর গোলাপ হোসেন তাঁর বাবা, মা ও বোনকে কুপিয়ে আহত করেন। এতে তাঁর বাবা আক্কাছ আলী মারা গেছেন। অভিযুক্ত গোলাপ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কী কারণে তিনি এই ঘটনা ঘটিয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
Comments
Comments