[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে ইফতার পার্টিতে কানাঘুষা, পদপ্রত্যাশীদের তোড়জোড়

প্রকাশঃ
অ+ অ-
(বাঁ থেকে) মমিনুল ইসলাম জিসান, আনিসুর রহমান খন্দকার, শরীফ প্রধান শুভ ও খোরশেদ আলম সোহেল | ছবি: ছাত্রদল নেতাদের ফেসবুক পেজ

বিএনপি এখন ক্ষমতায় থাকায় দলটির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এর মধ্যেই ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার ইফতার আয়োজন ঘিরে তৈরি হয়েছে কৌতূহল। এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন কমিটি নিয়ে আলোচনা চলছে।

মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন কমিটি নিয়ে আলোচনা স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন বর্তমান কেন্দ্রীয় নেতারা। তবে তাঁদের বক্তব্য, নতুন কমিটি কবে হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আগে ২০২৪ সালের ১ মার্চ রাকিবুল ইসলামকে সভাপতি ও নাছির উদ্দীনকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাত সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাত সদস্যের কমিটিও ঘোষণা করা হয়, যার নেতৃত্বে আছেন গণেশ চন্দ্র রায় ও নাহিদুজ্জামান শিপন।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ দুই বছর এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কমিটির মেয়াদ এক বছর। সে হিসাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কমিটির মেয়াদ এক বছর আগেই শেষ হয়েছে। আর চলতি মাসেই কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের অবসানের পর ছাত্রদলও চাপমুক্ত হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন ঘিরে তাদের তৎপরতা বাড়ে। তবে কোনো নির্বাচনেই প্রত্যাশিত ফল পায়নি সংগঠনটি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আগে ২০২৪ সালের ১ মার্চ রাকিবুল ইসলামকে সভাপতি ও নাছির উদ্দীনকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাত সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে ঘোষণা করা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাত সদস্যের কমিটিও, যার নেতৃত্বে আছেন গণেশ চন্দ্র রায় ও নাহিদুজ্জামান শিপন।
এর পর থেকেই ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর সেই আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। সম্ভাব্য নতুন কমিটিতে জায়গা পেতে নেতারা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।

পবিত্র রমজানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ইফতারের আয়োজন করছেন বেশ কয়েকজন নেতা। ইফতারের পর ক্যাম্পাসে নেতা-কর্মীদের নিয়ে তাদের সক্রিয় উপস্থিতিও দেখা যাচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রদল কর্মী বলেন, সামনে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কমিটি গঠন হবে। সে কারণে পদপ্রত্যাশীরা নিজেদের অবস্থান জানান দিতে ইফতারের আয়োজন করছেন এবং অনুসারীদের একত্র করছেন।

১২ মার্চ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অন্তত চারজন নেতার ইফতার আয়োজনের খবর পাওয়া গেছে। তবে তাঁরা কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হওয়ার কথা বলছেন না। কেউ প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছেন, আবার কেউ বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছেন।

গত বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে নেতা-কর্মীদের নিয়ে ইফতারের আয়োজন করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম (জিসান)। ইফতারের পর তারেক রহমানের সংসদে যোগদানকে স্বাগত জানিয়ে তাঁর নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়।
১২ মার্চ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অন্তত চারজন নেতার ইফতার পার্টির খবর পাওয়া গেছে। তবে তাঁরা কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতার কথা বলছেন না। ছাত্রদলের কর্মীরা বলছেন, নতুন কমিটি গঠনকে সামনে রেখেই এ তৎপরতা চলছে।

এর আগে বুধবার একই ধরনের ইফতার আয়োজন করেন দুজন নেতা। তাঁদের মধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম সোহেলের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ইফতারের পর মিছিল বের করা হয়। আর কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক শরীফ প্রধান শুভর উদ্যোগে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের মাঠে ইফতারের আয়োজন করা হয়। ইফতারের পর তাঁর নেতৃত্বেও মিছিল হয়।

এর আগে ৮ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে নেতা-কর্মীদের নিয়ে ইফতারের আয়োজন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার (অনিক)। আওয়ামী লীগের শাসনামলে ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে তিনি ছাত্রদলের প্যানেল থেকে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী ছিলেন।

ছাত্রদলের শীর্ষ পদপ্রত্যাশী নেতাদের এসব আয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের নেতা-কর্মীরা যেমন অংশ নিচ্ছেন, তেমনি রাজধানীর অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ, মহানগর এবং বিভিন্ন থানা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরাও উপস্থিত থাকছেন।

এই ইফতার আয়োজন সম্পর্কে মমিনুল ইসলাম (জিসান) বলেন, তিনি প্রতি রমজানেই নিজের ইউনিটের পাশাপাশি ঢাকা শহরের বিভিন্ন ইউনিটে থাকা সহকর্মীদের নিয়ে ইফতারের আয়োজন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবং ঈদের আগে নেতা-কর্মীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানাতে ১২ মার্চ বড় পরিসরে ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের সংসদে যোগদান সফল হোক—এই প্রত্যাশা জানিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মিছিলটি করা হয়।

শরীফ প্রধান শুভ বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও তিনি ইফতারের আয়োজন করেছেন। মিছিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দেশের মানুষের জন্য যে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছেন, তা স্বাগত জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মিছিল করা হয়েছে।

নতুন কমিটি কবে হবে, কখন হবে, সবকিছু ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান সিদ্ধান্ত নিবেন।

-নাছির উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রদল 

 

আনিসুর রহমান খন্দকারও ইফতার আয়োজন নিয়ে একই কথা বলেন। তবে মিছিল হয়নি বলে দাবি করে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ইফতার শেষে নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে তাঁরা একত্র হয়ে কেন্দ্রীয় মসজিদের দিকে হেঁটে যান এবং সেখানে নামাজ আদায় করেন। ফেরার সময় তাঁর নেতা–কর্মীরা কোনো ধরনের স্লোগানও দেননি।

খোরশেদ আলম সোহেল বলেন, এ ধরনের আয়োজন তিনি আগেও করেছেন, এবারও করেছেন।

মিছিল প্রসঙ্গে খোরশেদ আলম সোহেল বলেন, তাঁরা নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়ে বার্তা দিয়েছেন। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

নতুন কমিটি গঠনের আলোচনা প্রসঙ্গে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন বলেন, দুই বছর দায়িত্ব পালন করা হয়েছে। যেহেতু এই মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাই এ নিয়ে আলোচনা হওয়াটা স্বাভাবিক।

নতুন কমিটি কবে হতে পারে—এ বিষয়ে তিনি বলেন, সব সিদ্ধান্ত নেবেন ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কমিটি গঠন, সংযোজন, বিয়োজন, পরিবর্তন বা বহাল রাখা—সবই তাঁর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। তিনি যখন চাইবেন, তখনই নতুন কমিটি হবে। ততদিন পর্যন্ত বর্তমান কমিটি দায়িত্ব পালন করবে।

এর আগে বিভিন্ন সময় বিএনপির পক্ষ থেকেই ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালে রাকিবুল ইসলাম ও নাছির উদ্দীনের কমিটিও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষণা করা হয়েছিল।

ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে বিএনপির বক্তব্য জানতে দলটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন