পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা জাহাজেই বাংলাদেশি নাবিকদের ঈদের জামাত
![]() |
| পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা জাহাজ জয়াত্রার বাংলাদেশি নাবিকেরা আজ শুক্রবার ঈদের নামাজ পড়ার পর ছবি তোলেন | ছবি: সংগৃহীত |
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মধ্যে আটকে থাকা জাহাজে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন বাংলাদেশি নাবিকেরা। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সতর্কতার মধ্যে দিনটি কাটিয়েছেন তারা, স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে।
স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় (বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে ১২টা) বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জাহাজ বাংলার জয়যাত্রা–এর নেভিগেশন ব্রিজে ঈদের নামাজ আদায় করেন ৩১ জন নাবিক।
জাহাজটি পারস্য উপসাগরে ১০ দিন ধরে আটকে আছে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতের কারণে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পণ্য খালাস শেষ করার পর হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে পারেনি তারা। ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের জ্বালানি তেলের ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়।
জাহাজের মাস্টার ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘ঈদের দিন সাধারণত আমরা জাহাজে আনন্দ করি। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। তবু সবাই মিলে দিনটা আনন্দে কাটানোর চেষ্টা করছি।’
তিনি জানান, সকালে হালকা বৃষ্টি হয়েছে, বাতাসও ছিল কিছুটা বেশি। মিসাইল ও ড্রোনের সতর্কবার্তা এসেছে, তবে কোনো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়নি।
নাবিকেরা সকালে ঈদের নামাজ শেষে একসঙ্গে ছবি তুলেছেন। দিনটি কাটছে গান শোনা, সিনেমা দেখা ও আড্ডায়।
সকালের নাশতায় ছিল সেমাই, নুডলস, খেজুর, ডিম ও জুস। দুপুরে আয়োজন ছিল বিশেষ—পোলাও, উটের মাংস, গরুর মাংস এবং স্মোকড মাছ।
![]() |
| পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা জাহাজ জয়াত্রার বাংলাদেশি নাবিকেরা। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জাহাজটি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারছে না | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
জাহাজের প্রধান প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান বলেন, ‘ঈদের দিন সবাই পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। যুদ্ধের পরিস্থিতির চাপ কিছুটা কমানোর চেষ্টা করছি।’
ফেরা এখনো অনিশ্চয়তায়
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কাতার থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে জাহাজটি জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। পরদিনই শুরু হয় সংঘাত।
যুদ্ধের মধ্যেই পণ্য খালাস শেষ করে ১১ মার্চ জাহাজটি হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার চেষ্টা করে। তবে যুদ্ধের কারণে তা সম্ভব হয়নি। এরপর থেকে জাহাজটি পারস্য উপসাগরে অবস্থান করছে।
কবে নাগাদ জাহাজটি দেশে ফিরতে পারবে, তা নিয়েও কোনো স্পষ্ট উত্তর নেই।
মাস্টার ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে আমরা পারস্য উপসাগর থেকে বের হতে পারছি না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় আছি।’


Comments
Comments