নতুন নোটে ঈদের খুশি, রাজশাহীর এক কৃষকের মানবিক উদ্যোগ
![]() |
| রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার মেলান্দি গ্রামের অবস্থাসম্পন্ন কৃষক হাফিজ উদ্দিন মৃধা প্রায় ১ হাজার ২০০ জনকে নতুন টাকা উপহার দিয়েছেন | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার মহিষকুন্ডি গ্রামের ছয়জন নারী একটি ভ্যানে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন। তাঁদের সবার হাতে নতুন নোট ছিল—২০০ টাকার দুটি এবং ১০০ টাকার একটি। ভ্যানের চালকের হাতেও ছিল একই ধরনের নোট। নারীরা জানিয়েছেন, উপজেলার মেলান্দি গ্রামের একজন কৃষক প্রতিবছর ঈদের আগে অসচ্ছল মানুষদের এভাবে উপহার দেন। তাঁরা সেই টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
গত মঙ্গলবারও একইভাবে দুটি ভ্যানে তুলসীক্ষেত্র ও আত্রাই গ্রামের নারী-পুরুষদের দেখা গেছে, সবার হাতে একই নতুন নোট। প্রথম ভ্যানের একজন নারী রুনা বেগম বললেন, ‘এবির নতুন ট্যাকাতেই আমারে ঈদ হবি।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেলান্দি গ্রামের হাফিজ উদ্দিন মৃধা প্রতিবছর ঈদের আগে তাঁর জাকাতের টাকার অংশ থেকে এলাকার দুঃস্থ মানুষদের উপহার দেন। তিনি মেলান্দি বেলনা, ঘড়বড়াইল, আত্রাই, গোছা, আতানারায়ণপুর, আতাপুর, পাইকপাড়া, ঘাসিগ্রাম, বড়দেউপুর, বাজেদেউপুর, গোয়ালপাড়া, মহিষকুন্ডি, তুলসীক্ষেত্র, বিশালপুর, দর্শনপাড়া ও ধানতৈড় গ্রামের প্রায় ১ হাজার ২০০ দুস্থ নারী-পুরুষের মধ্যে চিনি, সেমাই ও নারকেল দিয়ে ঈদ উপহার দেন। এবার তিনি ব্যাংক থেকে নতুন নোট নিয়ে এসে প্রত্যেককে ৫০০ টাকা করে দিয়েছেন।
রুনা বেগমের বয়স ৩৫ বছর। স্বামী মারা গেছেন। তিনি মেয়েকে নিয়ে মায়ের কাছে থাকেন। তাঁর মতে, তাদের মতো দুঃখী মানুষের জন্য ৫০০ টাকা অনেক মূল্যবান। রুনার মা মর্জিয়াও সঙ্গে এসেছেন এবং তিনিও ৫০০ টাকা পেয়েছেন।
ভ্যান চালক আনারুলও এই টাকা পেয়েছেন। যাঁরা তাঁর ভ্যানে এসেছেন, তাঁদের কাছে ২০ টাকা করে ভাড়া নেবেন। নিজে দরিদ্র হওয়ায় অন্য কাউকে বিনা ভাড়ায় নিতে পারছেন না।
রুনার সঙ্গে থাকা মিরা খাতুন বলেন, ‘এত মানুষকে কেউ কত করে দিতে পারে?’ তিনি জানিয়েছেন, একমাত্র ঘর ছাড়া কিছু নেই। স্বামী নেই। দুটি নাতি–নাতনি আছে, যারা নিয়মিত রক্ত দিতে হয়। জামাতা ভ্যান চালান। ২২ বছরের ছেলে মারা গেছে। এই টাকা পেয়ে তাই খুশি তিনি।
ঘাসিগ্রামের লিমা বেগম ১৫ বছর বয়সী ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। ছেলের ব্লাড ক্যানসার আছে। স্বামী দিনমজুর। তিনি বললেন, এখন ভাবতে হবে—চাল কিনে খাবেন নাকি ছেলের চিকিৎসা করাবেন।
হাফিজ উদ্দিন জানিয়েছেন, তিনি আয় থেকে নিয়মিত কর দেওয়ার পরও জাকাতের অংশ থেকে প্রায় ১০ বছর ধরে ঈদের আগে এলাকার দুস্থ মানুষদের সেমাই, চিনি ও নারকেল দিয়ে সহযোগিতা করে আসছেন। এবার তিনি ব্যাংক থেকে নতুন নোট নিয়ে এসেছেন, কারণ মনে করেছেন, নতুন নোট হাতে পেলে মানুষ আনন্দ পাবেন।

Comments
Comments