প্রিন্সের শো নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছেই না
![]() |
| ‘প্রিন্স’ সিনেমায় শাকিব খান ও জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু | ছবি: সংগৃহীত |
ঈদের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও স্টার সিনেপ্লেক্সে ‘প্রিন্স’ সিনেমার প্রদর্শনী নিয়ে জটিলতা এখনো শেষ হয়নি। ডিজিটাল কন্টেন্ট বা ডিসিপি সমস্যার কারণে প্রথম তিন দিন স্টার সিনেপ্লেক্সের কোনো শাখাতেই সিনেমাটি চালানো সম্ভব হয়নি। চতুর্থ দিন প্রদর্শনী শুরু হলেও কারিগরি ত্রুটির কারণে বসুন্ধরা শপিং মল শাখায় মাঝপথে শো বন্ধ করে দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হয়। এমনকি গতকাল ধানমন্ডির সীমান্ত সম্ভারে এসির সমস্যার কারণে দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের শো-টিও বাতিল করা হয়।
এসব ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সিনেমার পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ। তাঁর দাবি, ‘প্রিন্স’ নিয়ে বড় কোনো ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তবে স্টার সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের দাবি, কারিগরি ত্রুটির কারণেই প্রদর্শনীতে বারবার সমস্যা হচ্ছে।
পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ বলেন, ‘ধানমন্ডিতে দর্শকপূর্ণ শো হওয়া সত্ত্বেও গতকাল এসি নষ্টের অজুহাতে দর্শকদের টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসি নষ্ট থাকলেও সিনেমাটি অন্য কোনো হলে স্থানান্তর করা হয়নি। এর আগে গত বুধবার বসুন্ধরা সিটিতে অর্ধেক সিনেমা দেখার পর দর্শকদের বের করে দেওয়া হয়। হঠাৎ সাউন্ড বন্ধ হয়ে যাওয়ায় টাকা ফেরত দিতে হয়েছে। আমি কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, নতুন ডিসিপি দেওয়ার পর এবং সব পরীক্ষা করে ঠিক পাওয়ার পরও কেন এই সমস্যা? জবাবে তারা জানালো, ওই হলে পুরোনো ডিসিপি চালানো হয়েছিল। আমার জানামতে, একটি সিনেপ্লেক্সে সব হল একটি সার্ভারের মাধ্যমেই চলে। তাহলে একটি হলে কীভাবে আগের ডিসিপি থেকে গেল? তাদের একটাই কথা—টেকনিক্যাল সমস্যা।’
নির্মাতা আরও বলেন, ‘যে দৃশ্যে সমস্যা ছিল সেটি প্রথম ডিসিপিতে। আবার দ্বিতীয় অংশেও একই সমস্যা ছিল পরের ডিসিপিতে। তারা দুটি ডিসিপি জোড়া লাগিয়ে সিনেমাটি চালিয়েছে। মঙ্গলবার রাতে আমরা সিনেমাটি দেখে আসার সময়ও সব ঠিক ছিল। অথচ শো চলাকালে দুই অংশেই সমস্যা দেখা দিল। এটা কীভাবে সম্ভব?’
অন্যান্য সিনেমার ডিসিপি নিয়ে সমস্যা না হলেও শুধু ‘প্রিন্স’ কেন বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন পরিচালক। তিনি বলেন, ‘অন্য কোনো সিনেমা নিয়ে তো সমস্যা হচ্ছে না। প্রথম সপ্তাহে যদি প্রদর্শনীই না করা যায়, তবে সিনেমা ব্যবসা করবে কীভাবে? প্রযোজক বাঁচবেন কীভাবে? আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে এমনটা আগে কখনো দেখিনি। নিজেকে খুব অসহায় মনে হচ্ছে।’
পুরো বিষয়টি ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন আবু হায়াত মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘সিনেপ্লেক্সে শোগুলো হাউসফুল ছিল, কিন্তু দর্শকরা ফিরে গেছে। অথচ সিনেপ্লেক্স ছাড়া সারা দেশের অন্য সিনেমা হলে প্রিন্স ঠিকঠাক চলছে। স্বাভাবিকভাবেই সিনেপ্লেক্সে চললে সিনেমাটি ভালো অবস্থানে থাকত। এতে অন্য সিনেমাগুলোর অবস্থানে প্রভাব পড়ার ভয় থেকেই কি এটি চলতে দেওয়া হচ্ছে না? এর সঙ্গে নিশ্চয়ই কেউ না কেউ জড়িত। তা না হলে সব সমস্যা শুধু আমাদের সঙ্গেই কেন হবে? হয়তো অন্য সিনেমাগুলোকে জায়গা করে দিতেই প্রিন্সকে এক সপ্তাহ আটকে রাখা হলো।’
এ বিষয়ে স্টার সিনেপ্লেক্সের মিডিয়া ও মার্কেটিং বিভাগের এজিএম মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সিনেপ্লেক্সকে দোষারোপ করা ঠিক হবে না। গত পাঁচ বছরে আমাদের এখানে সবচেয়ে বেশি আয় করা তালিকার শীর্ষে ছিল শাকিব খানের সিনেমা। ‘প্রিয়তমা’, ‘বরবাদ’, ‘তুফান’ কিংবা ‘তাণ্ডব’—সব সিনেমাই ভালো ব্যবসা করেছে। তাহলে শাকিব খানের সিনেমা আমরা কেন চালাব না? সিনেমা চললে আমাদেরও লাভ। ধানমন্ডিতে এসি সমস্যার কারণে শো বাতিল হয়েছে, এমনকি একই হলের ‘রাক্ষস’ সিনেমার শো-টিও বাতিল করা হয়েছে। কারিগরি ত্রুটি ছাড়া আর কোনো কারণ নেই। হয়তো তাড়াহুড়ো করে শেষ মুহূর্তে কাজ শেষ করার কারণে এমনটা হতে পারে।’
‘প্রিন্স’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন শাকিব খান, তাসনিয়া ফারিণ ও কলকাতার জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডুসহ আরও অনেকে।

Comments
Comments