[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

মেয়াদ শেষ হচ্ছে, কার্যকারিতা হারাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের ২০ অধ্যাদেশ

প্রকাশঃ
অ+ অ-
Parliament Icon
যেসব অধ্যাদেশ রহিত করার সুপারিশ
জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ।
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং ২০২৬।
যেসব অধ্যাদেশ এখনই সংসদে বিল নয়
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) সংক্রান্ত ৩টি অধ্যাদেশ।
দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ।
আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ।
রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত ২টি অধ্যাদেশ।
মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ।
বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ।
গণভোট অধ্যাদেশ।
মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ।
বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন অধ্যাদেশ।
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত ২টি অধ্যাদেশ।
কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ।
তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগের অংশ হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ এবং আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। এই দুটিসহ মোট চারটি অধ্যাদেশ বাতিল করতে সংসদে বিল আনার সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি।

এ ছাড়া গণভোট অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশনের ক্ষমতা বাড়িয়ে করা অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধে করা অধ্যাদেশ ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশসহ ১৬টি অধ্যাদেশ এই মুহূর্তে বিল হিসেবে পেশ না করার সুপারিশ করা হয়েছে। এগুলোর ক্ষেত্রে পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই করে আরও শক্তিশালী করে নতুন বিল আনার কথা বলা হয়েছে। এটি হলে এই অধ্যাদেশগুলো বাতিল বলে গণ্য হবে। ১০ এপ্রিলের পর এগুলো আর কার্যকর থাকবে না। সব মিলিয়ে মোট ২০টি অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারাচ্ছে।

বাকি ১১৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের আইনি সুরক্ষা দিয়ে করা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশসহ ৯৮টি অনুমোদনের জন্য একইভাবে বিল হিসেবে সংসদে তোলার সুপারিশ করা হয়েছে। আর সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ ও পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশসহ ১৫টি সংশোধিত আকারে বিল হিসেবে পেশ করার সুপারিশ করেছে বিশেষ কমিটি।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করে বৃহস্পতিবার এসব সুপারিশসহ সংসদে প্রতিবেদন দেয় জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। সন্ধ্যায় কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিন সংসদে প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন। ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টির বিষয়ে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বিশেষ কমিটিতে থাকা জামায়াতে ইসলামীর তিন সংসদ সদস্য ভিন্নমত দিয়েছেন। প্রতিবেদনে তাঁদের এই ভিন্নমতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম বৈঠকে ১২ মার্চ অধ্যাদেশগুলো পেশ করা হয়। পরে এগুলো যাচাই করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করে সংসদ। আগামী সোমবার অধ্যাদেশগুলো বিল হিসেবে পেশ করার কার্যক্রম শুরু হবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সুপারিশ অনুযায়ী যে ২০টি অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারাতে যাচ্ছে, তাতে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগগুলো বাধাগ্রস্ত হবে। অন্যদিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। সব মিলিয়ে সংস্কারের বিষয়ে আগামী দিনে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হতে পারে।

চারটি অধ্যাদেশ বাতিলের জন্য বিল আনার সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৬।

সংবিধানে বিচারক নিয়োগের জন্য আইন করার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় তা করা হয়নি। ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার প্রথমবারের মতো সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ জারি করে। সেখানে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে বিচারক নিয়োগের জন্য যোগ্য ব্যক্তি বাছাই করবে ‘সুপ্রিম বিচার বিভাগীয় নিয়োগ পরিষদ’। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আলাদা এই পরিষদ যোগ্য ব্যক্তির নাম রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করবে।

অন্যদিকে নিম্ন আদালতের দেখভাল, নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি আলাদা সচিবালয় তৈরির লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ করা হয়। এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় তৈরি হলে নিম্ন আদালত ও প্রশাসনিক আদালতের তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সব প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করবে এই সচিবালয়।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বিচারকাজে নিয়োজিত বিচারকদের পদায়ন, পদোন্নতি, বদলি, শৃঙ্খলা ও ছুটিসহ অন্যান্য সব সিদ্ধান্ত এই সচিবালয়ের হাতে থাকবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের পুরো নিয়ন্ত্রণ থাকবে প্রধান বিচারপতির ওপর এবং সচিবালয়ের সচিব হবেন এর প্রশাসনিক প্রধান।

এই দুটি অধ্যাদেশ কোনো পরিবর্তন ছাড়া বহাল রাখার পক্ষে ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা। তাঁরা তাঁদের ভিন্নমতে বলেছেন, এই দুটি অধ্যাদেশ বিচার বিভাগকে আরও শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ করতে এবং বিচার বিভাগের প্রশাসনিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।১৬টি অধ্যাদেশের বিষয়ে এখনই বিল হিসেবে পেশ না করে পরবর্তীতে আরও শক্তিশালী করে নতুন বিল আনার সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৪ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ সালের রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশ।

এ ছাড়াও এই তালিকায় আছে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ সালের গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ ও তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ। এই বিষয়গুলো নিয়ে করা সুপারিশে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যদের ভিন্নমত রয়েছে।

পরবর্তীতে বিল হিসেবে পেশ করার সুপারিশ করা অন্য অধ্যাদেশগুলো হলো—মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ, আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং বাংলাদেশ ভ্রমণ সংস্থা (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন অধ্যাদেশ। এগুলোর বিষয়ে জামায়াতের কোনো ভিন্নমত নেই।

এর মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট করার লক্ষ্যে গণভোট অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। এই অধ্যাদেশের বিষয়ে দেওয়া সুপারিশেও জামায়াতের ভিন্নমত রয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত ও গোপন অনুসন্ধানের ক্ষমতা বাড়িয়ে ২০২৫ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এতে সরাসরি মামলা করার বিধান, বিদেশে হওয়া অপরাধসহ বড় ধরনের আর্থিক অপরাধকে আইনের আওতায় আনা এবং কমিশনের সদস্য বাড়ানোর নিয়ম করা হয়।

এ বিষয়ে জামায়াতের সদস্যরা ভিন্নমত জানিয়ে বলেছেন, তাঁরা অধ্যাদেশটি কোনো পরিবর্তন ছাড়াই পাসের পক্ষে। সরকারি দলের পক্ষ থেকে এই অধ্যাদেশ বাতিলের প্রস্তাব করা হয়। তবে দুর্নীতি দমন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার ক্ষেত্রে এই অধ্যাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

গুম প্রতিরোধে প্রথমবারের মতো ২০২৫ সালে একটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। গুম থেকে সব ব্যক্তিকে সুরক্ষা দেওয়ার আন্তর্জাতিক সনদের নিয়মগুলো বাংলাদেশের আইনি কাঠামোতে যুক্ত করতে এই অধ্যাদেশ করা হয়। এতে গুমকে একটি ‘চলমান অপরাধ’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয় এবং এর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড নির্ধারণ করা হয়। পরে সংশোধনীতে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি অন্তত পাঁচ বছর ধরে গুম থাকলে আদালত তাঁর সম্পত্তি বৈধ উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টনের ঘোষণা দিতে পারবেন।

বিশেষ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, এই অধ্যাদেশ চলতি অধিবেশনে পাসের জন্য তোলা না হলে তা আর কার্যকর থাকবে না। এই সিদ্ধান্তে জামায়াতের সদস্যদের ভিন্নমত আছে। তাঁদের মতে, সরকারের পক্ষ থেকে এই অধ্যাদেশ বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের যুক্তি হলো, নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্তে সরকারের আগাম অনুমতি লাগবে এবং জাতীয় নিরাপত্তার কারণে আটকে রাখা বিষয়টিকে গুমের সংজ্ঞা থেকে বাদ দিতে হবে। তবে বিরোধী দলের যুক্তি হচ্ছে, গত ১৫ বছরে গুমের শিকার পরিবারগুলো ন্যায়বিচার পায়নি। সরকারের কাছে অনুমতি চাইলে তা কখনোই পাওয়া যায় না এবং এই অনুমতি চাওয়ার বিষয়টি আসলে এক ধরনের ছাড় বা দায়মুক্তি।

মানবাধিকার কমিশনকে একটি প্রকৃত স্বাধীন ও কার্যকর সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বেশ কিছু মৌলিক পরিবর্তন এনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ করা হয়। এই সংক্রান্ত মোট তিনটি অধ্যাদেশ এখনই বিল হিসেবে সংসদে না তোলার সুপারিশ করা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তেও জামায়াতের সদস্যদের ভিন্নমত আছে। তাঁরা বলেছেন, কমিশনকে একটি আলাদা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার জন্য এর চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগে বাছাই কমিটি করার কথা বলা আছে। কমিশনকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গুম সংক্রান্ত অপরাধ অনুসন্ধানের ক্ষমতাও দেওয়া আছে। এই অধ্যাদেশ বাতিলের বিষয়ে সরকারের যুক্তি হলো, কমিশন কোনো মন্ত্রণালয়ের অধীনে না থাকলে তার তদারকি কীভাবে হবে। এ ছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্ত বা কাউকে গ্রেপ্তারের আগে সরকারের অনুমতি নিতে হবে এবং বাছাই কমিটিতে আরও সরকারি প্রতিনিধি যুক্ত করতে হবে।

সরকারের এই যুক্তির জবাবে বিরোধী পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুদক, নির্বাচন কমিশন ও মহাহিসাব নিরীক্ষকের কার্যালয় কোনো মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেই। মানবাধিকার কমিশনের নিয়োগ ও অপসারণের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া হয়েছে। তদন্তের জন্য অনুমতি নেওয়ার নিয়ম মানেই হলো ছাড় দেওয়া। আর আদালতের বদলে সরকারের অনুমতি নিয়ে গ্রেপ্তার করা বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী বিভাগের হস্তক্ষেপের শামিল। 

রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। এতে বর্তমান কাঠামো ভেঙে রাজস্ব নীতি তৈরি এবং রাজস্ব আদায়ের কাজ আলাদা করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাজস্ব নীতি বিভাগ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ নামে দুটি আলাদা বিভাগ তৈরির নিয়ম করা হয়। এই বিষয়টি নিয়ে সরকারি কর্মকর্তারা আন্দোলনে নেমেছিলেন।

২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ জারি করে সরকার। ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক তৈরির লক্ষ্যেই এটি করা হয়েছিল, তবে এটি এখনো কার্যকর হয়নি।

১৫টি অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে সংশোধন করে বিল আনার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে কোথায় কী পরিবর্তন আনা হবে, তা বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে জানানো হয়নি। এই তালিকায় রয়েছে ২০২৫ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, সরকারি ক্রয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ব্যাংক পুনর্গঠন অধ্যাদেশ, সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ ও ফৌজদারি কার্যবিধি (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ।

এ ছাড়া জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ, মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশও এই তালিকায় আছে। ২০২৬ সালের মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশও সংশোধিত আকারে আসবে।

এর মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ সংশোধন করে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এই অধ্যাদেশে কোনো নির্দিষ্ট সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করা হয়। নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিল-মিটিং ও প্রকাশনাসহ যেসব কাজ বন্ধ রাখা যাবে, তার নিয়মও সেখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এটি সংশোধিত আকারে সংসদে পাসের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে ঠিক কী পরিবর্তন করা হবে, তা উল্লেখ করা হয়নি। বিশেষ কমিটির একটি সূত্র জানায়, নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় কেউ যদি তা না মানে, তবে তার শাস্তির বিধান যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সংশোধনীতে এই ধরনের ক্ষেত্রে সাজার নিয়ম থাকতে পারে। 

বাছাই কমিটির মাধ্যমে একটি পুলিশ কমিশন গঠন করা এবং সেই কমিশনের মাধ্যমে পুলিশের মহাপরিদর্শক নিয়োগের সুপারিশ করার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ জারি করেছিল। এই কমিশন নাগরিকদের অভিযোগ ও পুলিশের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ নিয়ে কাজ করার কথা। এটি সংশোধিত আকারে সংসদে পাস করার সুপারিশ করা হয়েছে, তবে প্রতিবেদনে ঠিক কী ধরনের পরিবর্তন আনা হবে, তা উল্লেখ করা হয়নি।

এই সংশোধনের বিষয়ে বিরোধী দলের ভিন্নমত রয়েছে। তারা বলেছে, এই অধ্যাদেশ কার্যকর থাকলে পুলিশ বাহিনীকে একটি দক্ষ, দায়বদ্ধ এবং আধুনিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।

যেসব অধ্যাদেশ কোনো পরিবর্তন ছাড়াই অনুমোদনের জন্য বিল হিসেবে সংসদে তোলার সুপারিশ করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে আছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ।

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কিছু অধ্যাদেশও এই তালিকায় আছে, যেগুলোতে বিশেষ পরিস্থিতিতে জনস্বার্থে প্রশাসক নিয়োগের নিয়ম করা হয়েছে। তবে এই বিষয়টিতে বিরোধী দলের আপত্তি রয়েছে।

হুবহু বিল হিসেবে তোলার তালিকায় আরও রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৪, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং জাতির পিতার পরিবার-সদস্যদের নিরাপত্তা (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত কিছু আইন সংশোধন অধ্যাদেশ (যেখানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম থেকে বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা, শেখ হাসিনা ইত্যাদি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে), গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, জাতীয় সংসদের সীমানা নির্ধারণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ এবং সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশও এই তালিকায় আছে। এর বাইরে আরও বেশ কিছু অধ্যাদেশ রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন