প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় গায়ক নোবেল গ্রেপ্তার, পাঠানো হলো কারাগারে
![]() |
| আদালতে হাজির করার সময় নোবেল। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক তরুণীর কাছ থেকে ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় সংগীতশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেলের জামিন বাতিল করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর হাকিম রাজু আহমেদের আদালত এই আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী নাসিদুস জামান নিশান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি একই আদালত বাদীর সঙ্গে আপসের শর্তে নোবেলের জামিন মঞ্জুর করেছিলেন। তবে সেই শর্ত ভঙ্গ করায় এবার তাঁর জামিন বাতিল করা হয়েছে। শুনানির সময় নোবেল আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আইনজীবী নাসিদুস জামান নিশান বলেন, আসামি জামিনের শর্ত ভেঙেছেন। তরুণীকে বিয়ে করার কথা থাকলেও তিনি তা করেননি এবং টাকাও ফেরত দেননি। এই কারণে তাঁর জামিন বাতিলের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত জামিন বাতিল করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আরও জানান, আসামি অন্য একটি মামলায়ও আপসের শর্তে জামিন নিয়েছিলেন। সেই শর্ত অনুযায়ী তিনি ওই মামলার বাদীকে বিয়ে করেছেন। তাই নতুন করে আর বিয়ে করতে পারবেন না বলে তিনি আদালতকে জানিয়েছেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত বছরের ১৩ আগস্ট এক নারী মাইনুল আহসান নোবেলের বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলা করেন।
অভিযোগে বলা হয়, নোবেল ওই নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন। এই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে ২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তিনি ওই নারীর কাছ থেকে মোট ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা নেন। পরে সেই টাকা ফেরত না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। এই কাজে অন্য আসামিরাও নোবেলকে সহযোগিতা করেন।
আদালত মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। পিবিআই তদন্ত শেষে গত ৭ জানুয়ারি আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়, যেখানে বাদীর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি আদালত নোবেলসহ চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন মাইনুল আহসানের স্ত্রী ইসরাত জাহান (প্রিয়া), তাঁর মা নাজমা হোসেন ও তাঁর সহকারী মুনেম শাহ সৌমিক। এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
এর আগে ‘ধর্ষণ ও মারধর’ করার অভিযোগে ডেমরা থানার একটি মামলায় ২০২৫ সালের ১৯ মে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন নোবেল। পরে ওই মামলার বাদীকে কারাগারে বিয়ে করার পর ২৪ জুন তিনি জামিন পান।

Comments
Comments