[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

ঈদ উপলক্ষে সুন্দরবনে হরিণশিকারি তৎপর, বনরক্ষীদের ছুটি বাতিল

প্রকাশঃ
অ+ অ-
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশনের আওতায় একটি সরু খাল। বনে প্রবেশের জন্য এসব খাল চোরা শিকারিদের পছন্দ | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি শুরু হচ্ছে। তবে ঈদকে সামনে রেখে বিশ্বের বৃহত্তম এই লবণাক্ত বনাঞ্চলে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বনজ সম্পদ রক্ষা ও চোর শিকারি দমনে সুন্দরবনের কর্মকর্তা ও বনরক্ষীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করেছে বন বিভাগ।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি শুরু হওয়া গোলপাতা সংগ্রহের মৌসুম এবং ঈদের সময় হরিণ শিকারের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বনের ভেতরে দায়িত্বে থাকা বনরক্ষীদের টহল কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগে খুলনা ও সাতক্ষীরা নামে দুটি এলাকা রয়েছে, যার অধীনে ৯টি বন কার্যালয় ও ৩০টি টহল কেন্দ্র পরিচালিত হয়।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, ঈদের সময় অনেক বনরক্ষী বাড়িতে চলে গেলে সুন্দরবনের কিছু এলাকা অরক্ষিত হয়ে পড়ে। এই সুযোগে অপরাধীরা বনে ঢুকে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই এবার ১৬ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত বন বিভাগের কেউ কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না। বিশেষ করে সাতক্ষীরা অংশে গোলপাতা সংগ্রহ চলায় বন্য প্রাণী শিকার ঠেকাতে বাড়তি নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছে।

সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, বন বিভাগের টহল কিছুটা ঢিলেঢালা হলেই গাছচোর, বিষ দিয়ে মাছ ধরা চক্র এবং হরিণ শিকারিরা বনে ঢুকে পড়ে। সংঘবদ্ধ শিকারিরা হরিণের চলাচলের পথে বিশেষ ধরনের ফাঁদ পেতে রাখে। হরিণ আটকা পড়লে বনের ভেতরেই জবাই করে মাংস লোকালয়ে এনে বিক্রি করা হয়। ঈদের সময় এলাকায় হরিণের মাংসের চাহিদাও বেড়ে যায়।

উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের সভাপতি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ছুটির সময় অপরাধীরা প্রায়ই বনের সম্পদ লুটপাটের সুযোগ নেয়। তাই ঈদের সময় টহল বাড়ানো ও ছুটি বাতিল করার উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। তবে অপরাধ দমনে শুধু টহলই যথেষ্ট নয়, বনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জন্য বিকল্প আয়ের পথ তৈরি করাও জরুরি।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, হরিণ শিকারি ও বনদস্যুদের বিরুদ্ধে বন বিভাগ, উপকূল রক্ষীবাহিনী, নৌবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশ মিলে যৌথ অভিযান চালাবে। সুন্দরবন রক্ষাকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন