[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

জ্বালানি তেলের জন্য এক কিলোমিটার লাইন, বন্ধ পাম্পের সামনেও অপেক্ষা

প্রকাশঃ
অ+ অ-
তেল নিতে দীর্ঘ লাইনে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত যানের চালকেরা। পরীবাগ এলাকা | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে আজ সোমবারও জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় অনেক পাম্পে তেল বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে তেল পাওয়ার আশায় বন্ধ পাম্পগুলোর সামনেও শত শত যানবাহন দীর্ঘ অপেক্ষায় রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, যেসব স্টেশনে জ্বালানি তেল নেই, সেখানেও ডিজেল, পেট্রল ও অকটেন কেনার আশায় মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা ঠায় দাঁড়িয়ে আছেন। চালকদের দাবি, অনেকের গাড়ির তেল একদম ফুরিয়ে গেছে। ফলে অন্য কোনো পাম্পে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিও নেই। পাম্প ছেড়ে যাওয়া মানেই গাড়ি ঠেলে নিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি নেওয়া। তাই দীর্ঘ সময় ধরে সেখানেই অপেক্ষা করছেন তাঁরা।

অন্যদিকে, যেসব পাম্পে তেল বিক্রি চলছে, সেখানে ভিড় আরও কয়েকগুণ বেশি। কোনো কোনো এলাকায় মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির সারি এক থেকে দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা চালকদের অনেকেই জানিয়েছেন, দেড় থেকে দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পরও তাঁরা তেল সংগ্রহ করতে পারেননি।

এই সংকটময় পরিস্থিতিতে পাম্প কর্তৃপক্ষ ও গ্রাহকদের মধ্যে মাঝেমধ্যে কথা-কাটাকাটির ঘটনাও ঘটছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই ভোগান্তি কাটার কোনো লক্ষণ দেখছেন না ভুক্তভোগীরা।

জ্বালানি তেল নিতে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত যানের দীর্ঘ লাইন। আসাদগেট এলাকা | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

রাজধানীর মিরপুর, কল্যাণপুর, মোহাম্মদপুর, বিজয় সরণি ও কালশী এলাকার জ্বালানি তেলের সংকট আজ সোমবার আরও প্রকট হয়েছে। এসব এলাকার ৯টি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, ৩টি পাম্পে বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ। বাকিগুলোর মধ্যে একটিতে শুধু ডিজেল এবং একটিতে শুধু অকটেন মিলছে। মাত্র চারটি পাম্পে অকটেন ও ডিজেল উভয়ই বিক্রি হতে দেখা গেছে।

সকাল ৯টার দিকে মিরপুর-২ নম্বরের স্যাম অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, পাম্পের প্রায় ৩০০ মিটার আগে ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের সামনে থেকেই প্রাইভেট কারের দীর্ঘ সারি। মোটরসাইকেলের লাইন ছিল আরও দীর্ঘ। পাম্পের সামনে গিয়ে দেখা যায় বিক্রি বন্ধ। পাম্পের নিরাপত্তাকর্মীরা সবাইকে জানিয়ে দিচ্ছেন যে তেল নেই। ডিপো থেকে তেলের গাড়ি না আসা পর্যন্ত বিক্রি শুরু করার কোনো সম্ভাবনা নেই।

পাম্পের ক্যাশিয়ার আরাফাত স্বপ্নীল জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ খুবই নগণ্য। গতকাল রোববার বিকেল ৪টার দিকে এক গাড়িতে মাত্র সাড়ে ৪ হাজার লিটার অকটেন পেয়েছিলেন তারা, যা রাত সাড়ে ১০টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। এরপর থেকেই পাম্পটি বন্ধ রাখতে হয়েছে। তেল না থাকায় পাম্পের সামনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে অনেক চালককে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে।

বিজয় সরণি এলাকায় ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল নিতে দীর্ঘ লাইন | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

রাজধানীর পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের হাহাকার সোমবার আরও তীব্র হয়েছে। মিরপুর ও কল্যাণপুরের একাধিক পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, ডিজেল ও অকটেন বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ। মিরপুর-২ নম্বরের স্যাম অ্যাসোসিয়েটস পাম্পের ক্যাশিয়ার জানান, তাঁদের তেলের গাড়ি নারায়ণগঞ্জের ডিপোতে পাঠানো হয়েছে, কিন্তু তেল নিয়ে সেটি কখন ফিরবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

পাম্প বন্ধ থাকলেও সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সেখানে অপেক্ষা করছিলেন অ্যাপে রাইড শেয়ারিং করা মোটরসাইকেল চালক সেলিম মিয়া। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দেড় ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি। অন্য পাম্পে যাওয়ার মতো তেল বাইকে নেই। রোজা রেখে এই রোদে বাইক ঠেলে নেওয়াও সম্ভব নয়।

কল্যাণপুরের খালেক ফিলিং স্টেশন এবং তার ঠিক উল্টো পাশে অবস্থিত কমফোর্ট ফিলিং স্টেশনে গিয়েও দেখা গেছে একই চিত্র। সেখানে কেবল সিএনজি গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছিল। কমফোর্ট ফিলিং স্টেশনের প্রবেশপথেই ‘তেল নাই’ লেখা স্ট্যান্ড দিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, আসাদগেটের তালুকদার ফিলিং স্টেশনে ডিজেল ও অকটেন বিক্রি চললেও সেখানে ছিল যানবাহনের উপচে পড়া ভিড়। পাম্প থেকে প্রায় সোয়া কিলোমিটার দূরে জিয়া উদ্যানসংলগ্ন লেকের সেতু পর্যন্ত পৌঁছেছে প্রাইভেট কারের দীর্ঘ সারি। পাম্পের লাইনে দাঁড়ানো গাড়িচালক মহসিন হোসেন জানান, গতকাল তেলের লাইন মণিপুরীপাড়া পর্যন্ত চলে যাওয়ায় তিনি তেল নিতে পারেননি। আজ এক ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করে পাম্পের কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরেছেন।

তালুকদার ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার মোহাম্মদ আজম সকাল ১০টার দিকে জানান, গতকাল রাতে দুই গাড়িতে আসা ২৭ হাজার লিটার অকটেনের মধ্যে ২০ হাজার লিটারই কয়েক ঘণ্টায় শেষ হয়ে গেছে। মজুদ থাকা বাকি ৭ হাজার লিটার ফুরিয়ে যাওয়ার আগে ডিপো থেকে নতুন সরবরাহ না এলে তাঁদেরও পাম্প বন্ধ করে দিতে হবে।

আসাদগেট এলাকার ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল নেওয়ার লাইন চলে গেছে চন্দ্রিমা উদ্যানেও | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

রাজধানীর জ্বালানি তেলের সংকট আজ সোমবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মিরপুর, শেওড়াপাড়া থেকে শুরু করে বিজয় সরণি ও কালশী এলাকার পাম্পগুলোতে তেলের জন্য হাহাকার ও দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

সকাল সোয়া ১০টার দিকে শেওড়াপাড়া এলাকায় দেখা যায়, মেসার্স সবুর ফিলিং স্টেশনটি পুরোপুরি বন্ধ। পাশের এ এস ফিলিং স্টেশনে কেবল ডিজেল বিক্রি হচ্ছে। পাম্পের নিরাপত্তাকর্মীরা মূল রাস্তায় দাঁড়িয়ে চালকদের জানিয়ে দিচ্ছেন যে সেখানে পেট্রল বা অকটেন নেই।

সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে বিজয় সরণি সংলগ্ন ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে। বেলা পৌনে ১১টার দিকে সেখানে ব্যক্তিগত গাড়ির লাইন দেড় কিলোমিটার ছাড়িয়ে জাহাঙ্গীরগেট হয়ে মহাখালীর ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। অন্যদিকে, মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারিটি পৌঁছে যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মূল ফটক পর্যন্ত। তেলের অপেক্ষায় কয়েক ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে চালকদের।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কালশীর সুমাত্রা ফিলিং স্টেশনে গিয়েও একই চিত্র দেখা যায়। সেখানে পাম্প থেকে ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি ইসিবি চত্বরের কাছাকাছি গিয়ে ঠেকেছে। সরবরাহ সংকটে অধিকাংশ পাম্পই হিমশিম খাচ্ছে এবং মজুদ শেষ হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন