ছাদ থেকে কামরা—তিল ধারণের ঠাঁই নেই জামালপুরগামী ঈদের ট্রেনে
![]() |
| মই বেয়ে তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাদ থেকে নামছেন এক নারী যাত্রী। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জামালপুরের ইসলামপুর রেলস্টেশনে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জগামী তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের ‘ত’ বগিতে ছিল আমার আসন। ঈদযাত্রার ভিড় এতটাই বেশি যে বগিতে পা রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। কমলাপুর রেলস্টেশনে সহজেই বগিটি খুঁজে পেলাম, কিন্তু দরজার কাছে গিয়ে চমকে গেলাম—নারী, শিশু, পুরুষ, বৃদ্ধ—সবার ঠাসাঠাসি। আসনে পৌঁছানো এক ধরনের যুদ্ধের মতো।
অনেক চেষ্টা করে এক পা বগিতে, আরেক পা দরজার বাইরে দিয়ে ঢুকলাম। ধীরে ধীরে শরীর বগির মূল কাঠামোতে নিয়ে গেলেও পিঠের ব্যাগ তখনো বাইরে। হঠাৎ কেউ চেঁচিয়ে বলল, ‘দুইজনকে ওঠার সুযোগ দিন, টিকিট আছে তাদের।’ আমি নিজে যেখানে অসহায়, তাদের কীভাবে সাহায্য করব, বুঝে উঠতে পারছিলাম না।
অনেকে নিজ আসন না পাওয়ায় জানালার পাশে গিয়ে বসছিলেন। সহযাত্রীরা একে অপরকে ঠেলে ভেতরে ঢোকাচ্ছিলেন। ট্রেনের টয়লেটের হাতলে ঝুলে দাঁড়িয়ে সব দেখছিলাম। হঠাৎ দুজন নারী উঠে দাঁড়ালেন, আকুতি করে বললেন, ‘ভাই, একটু নামতে দাও, এভাবে যেতে পারব না। না হলে দুম বন্ধ হয়ে মরব, বাসে যেতাম ভালোই হতো।’
নারী দুজন নামার পর দেখলাম, আমার আসন মাত্র কয়েক হাত দূরে। যাত্রীরা বাধ্য হয়ে আমাকে জায়গা দিলেন। আসনের দিকে পা পা করে এগোতে হলো। মানুষের গা ঘেঁষে ঘেঁষে ঠাসাঠাসি, ব্যাগ মাথার ওপর দিয়ে হেলানো—সব মিলিয়ে এক ধরনের কাহিল পরিস্থিতি।
কোনোভাবে নিজের আসনে বসেছি, কিন্তু ব্যাগ রাখার জায়গা নেই। কোলের ওপরেই রাখা ছাড়া উপায় নেই। জানালার শাটার খোলার চেষ্টা করলেও দু-তিনজন টানলেও খুললো না। পেছনের আসনের একজন বৃদ্ধ বললেন, ‘কপাল ভালো, বাইরের কেউ ঢুকতে পারবে না।’ সত্যিই, বিমানবন্দর স্টেশনের ঠিক আগে আগে জানালার শাটার খুলে একজন নারী ও কিশোরী বগিতে ঢুকলেন।
বগিতে ঢোকার পর সবাই সামান্য স্বস্তি পেল। কিন্তু সময় যত গড়াল, ভিড়, হাঁপাহাপি আর অস্থিরতা বেড়েই চলল। শিশুদের কান্না, মানুষের চেঁচামেচি চলছেই।
প্রায় দুই ঘণ্টা লেট হয়ে বেলা আড়াইটার দিকে পৌঁছলাম জামালপুরের ইসলামপুর রেলস্টেশনে। প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্রেনের দিকে তাকিয়ে মনে হল, ‘এই ট্রেন যদি আমার না হতো, হয়তো এত কষ্ট হতো না।’

Comments
Comments