কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তরুণকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা
![]() |
| রাকিবুল ইসলাম | ছবি: রাকিবুল ইসলামের ফেসবুক থেকে নেওয়া |
রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাত ও গুলিতে রাকিবুল ইসলাম (২৫) নামের এক তরুণ নিহত হয়েছেন। গত রোববার রাত সাড় ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শাহবাগ থানা-পুলিশ জানায়, রাত সোয়া নয়টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সিঁড়িতে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন রাকিব। এ সময় তিন-চারজন যুবক তাঁকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত ও মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে রাকিবকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিঠু ফকির বলেন, গুরুতর আহত রাকিবকে রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। পরে রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, নিহত রাকিবের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।
রাকিব ভোলা সদর উপজেলার চৌমুহনী গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম তারিকুল ইসলাম খোকন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রী হলের একজন কর্মচারী। পরিবার নিয়ে রাজধানীর নিমতলীর নাজিম উদ্দিন রোড এলাকায় থাকতেন রাকিব। তিনি বোরহান উদ্দিন কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
রাকিবের বন্ধু আলামিন বলেন, রাতে বন্ধুরা মিলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় কয়েকজন যুবক এসে রাকিবকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গুলি করে পালিয়ে যায়।
রাত ১০টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় গিয়ে একটি জায়গায় ছোপ ছোপ রক্তের দাগ দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শী জুবায়ের হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, তিনজন যুবক এসে প্রথমে রাকিবকে গুলি করে। এরপর একজন চাপাতি দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। পালানোর সময় তাঁদের একজনকে চাপাতিসহ ধরে ফেলেন স্থানীয় লোকজন। পরে তাঁকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়।
রাত ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। মর্গের বাইরে রাকিবের বাবা তারিকুল ইসলাম আহাজারি করছেন। জরুরি বিভাগের সামনে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন মা রাজিয়া বেগম। আঞ্চলিক ভাষায় বিলাপ করতে করতে তিনি বলছিলেন, ‘আঁর (আমার) রাকিবরে আইনা দে, রাকিবরে একটু দেকমু। আমার বাবারে কে করলো এ কাম।’

Comments
Comments