[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

জ্বালানি তেলের জন্য পাম্পে উপচে পড়া ভিড়, বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতি

প্রকাশঃ
অ+ অ-
পরীবাগ স্টেশনে জ্বালানি তেলের লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে মোটরসাইকেলচালকদের হাতাহাতি। আজ শুক্রবার সকালে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন   

রাজধানীর বিভিন্ন জ্বালানি তেল বিক্রয়কেন্দ্রে ছুটির দিনেও গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। পরীবাগ এলাকায় জ্বালানি তেলের জন্য লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে কয়েক দফা তক-বিতর্ক ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

পরীবাগের মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টার স্টেশনে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। এই স্টেশনের সামনে থেকে শুরু করে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল হয়ে শাহবাগ উড়ালপথের নিচ পর্যন্ত মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।

এই দীর্ঘ লাইনের কারণে ছুটির দিনেও ওই সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বেশ কয়েকজন চালকের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। কে কার আগে তেল নেবেন—এ নিয়ে কেউ কেউ হাতাহাতিতেও জড়িয়ে পড়েন।

রাইড শেয়ারিং চালক নাজমুল হাসান দীর্ঘ ৫০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করেছেন। তিনি জানান, শাহবাগ উড়ালপথ স্টেশনের নিচ থেকে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। প্রায় ৫০ মিনিট অপেক্ষার পর তেল নিতে পেরেছেন। এই সময়ের মধ্যে অন্তত দু-তিনটি ট্রিপ মারতে পারতেন বলে আক্ষেপ করেন এই চালক। নাজমুল বলেন, প্রতিদিন তাঁর ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার তেল লাগে। অন্যদের হয়তো অল্প তেলেও চলে, কিন্তু তাঁদের মতো চালকদের তেল ছাড়া জীবিকা নির্বাহ করা অসম্ভব।

আগামী দু-একদিনের মধ্যে তেলের সংকট দেখা দিলে সংসার কীভাবে চলবে, তা নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় আছেন এই মোটরসাইকেল চালক। কারণ, রাইড শেয়ারিং অ্যাপে গাড়ি চালিয়েই তাঁর পরিবার চলে।

তবে ওই জ্বালানি তেল বিক্রয়কেন্দ্রের সহকারী ব্যবস্থাপক আহমেদ রুশদ জানান, তাঁদের তেলের মজুতে কোনো ঘাটতি নেই। ক্রেতারা চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন। মানুষ কিছুটা আতঙ্কিত হলেও বিক্রয়কেন্দ্রে কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

দৈনিক বাংলা মোড়ের বিনিময় জ্বালানি তেল বিক্রয়কেন্দ্রে বেলা ১১টার সময় দেখা যায়, প্রতিটি মোটরসাইকেলে ২০০ টাকা এবং ব্যক্তিগত গাড়িতে (প্রাইভেট কার) ৫০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। তেল দেওয়ার আগেই স্টেশনের কর্মী মো. সাহেদ উদ্দিন গ্রাহকদের জানিয়ে দিচ্ছিলেন যে, মোটরসাইকেলে ২০০ আর ব্যক্তিগত গাড়িতে ৫০০ টাকার বেশি তেল পাওয়া যাবে না।

এই স্টেশনে মোটরসাইকেলে তেল নিতে আসা সজীব রহমান জানান, তিনি ফরিদপুরে নিজের বাড়িতে যাবেন। এজন্য তাঁর কমপক্ষে ৪ লিটার তেল প্রয়োজন। কিন্তু স্টেশনে আসার পর দেখেন তাঁকে ২০০ টাকার বেশি তেল দিচ্ছে না। ক্ষোভ প্রকাশ করে এই চালক বলেন, “আমরা সাধারণ মানুষ, আমাদের তেল দেওয়া যাবে না; অথচ যারা সরকারি চাকরি করেন, তাঁরা তেল পান কীভাবে? তাঁরা তো আমাদের করের টাকায় চলেন।”

বিনিময় সার্ভিসিং সেন্টার ও বিক্রয়কেন্দ্রের এক কর্মী বলেন, তাঁদের তেলের মজুত কম। তাই তাঁরা অল্প অল্প করে সবাইকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরের পাশে করিম অ্যান্ড সন্স বিক্রয়কেন্দ্রেও মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যায়। স্টেশনের কোষাধ্যক্ষ মো. সোহাগ জানান, সাধারণত ছুটির দিনে এখানে এত লম্বা লাইন থাকে না। ডিপো থেকে আগের তুলনায় তেল কম আসায় এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও জানান, আগে যাঁরা ২০০ থেকে ৪০০ টাকার তেল নিতেন, তাঁরা এখন গাড়ির তেলের আধার (ট্যাংক) পূর্ণ করে তেল নিচ্ছেন। তবে তাঁরা ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী তেল দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

এখানে তেল নিতে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেন বলেন, তিনটি স্টেশন ঘুরে তিনি এখানে এসেছেন। অন্য কোথাও ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বেশি তেল দিচ্ছে না বলে তিনি এখান থেকে তাঁর গাড়ির আধার পূর্ণ করে তেল নিয়েছেন।

রাজারবাগ সেবা কেন্দ্রে (সার্ভিস স্টেশন) জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে তেল দেওয়া হচ্ছে না। সকাল সাড়ে ১০টায় সেখানে গিয়ে দেখা যায়, কেবল রোগী বহনকারী যান (অ্যাম্বুলেন্স), পুলিশের গাড়ি, সরকারি গাড়ি এবং তেল একেবারে শেষ হয়ে যাওয়ায় বিপদে পড়া কিছু গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো যানবাহনকে তেল দেওয়া হচ্ছে না।

এই জ্বালানি তেল বিক্রয়কেন্দ্রের কোষাধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন জানান, সাধারণত শুক্র ও শনিবার তাঁদের এই কেন্দ্রে ডিপো থেকে নতুন করে তেল আসে না। জমানো থাকা কিছু তেল দিয়েই তাঁরা বিক্রি চালিয়ে নিচ্ছেন। তিনি আরও জানান, আগে যিনি ২০০ টাকার তেল নিতেন, এখন তিনি ২ হাজার টাকার তেল নিতে চাচ্ছেন। মহিউদ্দিন বলেন, আগে তিন গাড়ি তেল আনতাম, এখন দেয় এক গাড়ি। ফলে এখন আমরা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া তেল দিচ্ছি না।

২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা চলছে। ইরানও এর পাল্টা জবাব দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে এই যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। দেশে তেলের মজুত ফুরিয়ে যায়নি। মূলত দুশ্চিন্তা থেকেই অনেকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনছেন। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন