[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

রাজধানীতে জ্বালানি পাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ সারি, কোথাও বিক্রি বন্ধ

প্রকাশঃ
অ+ অ-
মিরপুর-২ নম্বর সনি মোড়সংলগ্ন স্যাম অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড পাম্পে জ্বালানি তেল নিতে মোটরসাইকেলের লাইন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন   

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি তেল (অকটেন, পেট্রল ও ডিজেল) এবং গ্যাস বিক্রির পাম্পগুলোতে যানবাহনের প্রচণ্ড ভিড় ও দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অনেক জায়গায় যানবাহনের এই সারি মূল রাস্তায় ছড়িয়ে পড়েছে। কোনো কোনো পাম্পে আবার জ্বালানি তেল বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার পাম্প ঘুরে এবং জ্বালানি বিক্রয়কারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেশির ভাগ গ্রাহকই গাড়ির জ্বালানি আধার (ট্যাঙ্ক) পূর্ণ করে তেল নিচ্ছেন। এতে পাম্পগুলোতে মজুত করা জ্বালানি তেলের পরিমাণ কমে গেছে।

সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে রাজধানীর দুটি জ্বালানি তেল বিক্রয়কেন্দ্রে সাময়িকভাবে বিক্রি বন্ধ রাখতে দেখা গেছে। এ ছাড়া একটি পাম্পে খোলা ড্রাম বা বোতলে ডিজেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।

পাম্পগুলোর দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি থাকার কারণেই কিছু ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।

সকাল সোয়া ৯টার দিকে মিরপুর-২ নম্বর সনি মোড় সংলগ্ন স্যাম অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড পাম্পে গিয়ে মোটরসাইকেল চালকদের লম্বা সারি ও ভিড় দেখা গেছে। বিক্রয়কর্মীরা জানান, চালকদের বেশির ভাগই পুরো আধার ভরে জ্বালানি কিনছেন।

সেখানে সালাম মিয়া নামের এক মোটরসাইকেল চালকের সঙ্গে কথা হয়। তিনি অ্যাপের মাধ্যমে ভাড়ায় যাত্রী সেবা দেন। সালাম বলেন, সাধারণত দিনে দুই থেকে তিনবার ২০০ থেকে ৩০০ টাকার তেল কেনেন তিনি। কারণ, সব সময় পকেটে পর্যাপ্ত টাকা থাকে না। তবে বৃহস্পতিবার জমানো কিছু টাকা একত্র করে পুরো আধার ভরে তেল নিয়েছেন। এতে তাঁর ১ হাজার ৬০ টাকা খরচ হয়েছে।

পুরো আধার বা ‘ফুল ট্যাঙ্ক’ তেল নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে সালাম মিয়া বলেন, ‘মোটরসাইকেল চালিয়েই আমার সংসার চলে। এখন তেল না পেয়ে যদি বাইক বন্ধ থাকে, তবে খাব কী?’

ওই পাম্পটিতে বোতল বা ড্রামে করে খোলা ডিজেল বিক্রি বন্ধ রাখতে দেখা গেছে। রিকশায় করে ৩০ লিটারের ড্রামে ডিজেল নিতে এসেছিলেন পাইলিং শ্রমিক মাহফুজ আলী। তিনি বলেন, ‘পাম্প থেকে বলছে ডিজেল নেই। প্রতিদিনের কাজে ৩০ লিটার ডিজেল লাগে। গত দেড় মাস ধরে এই পাম্প থেকেই তেল নিচ্ছি। কাজ বন্ধ রেখে তেল কিনতে এসেছিলাম, কিন্তু পেলাম না।’

ডিজেল বিক্রি বন্ধের বিষয়ে স্যাম অ্যাসোসিয়েটস পাম্পের ক্যাশিয়ার শরীফ আহমেদ জানান, পাম্পে সাধারণত ২০ থেকে ২৭ হাজার লিটার জ্বালানি মজুত থাকে। সেটি এখন কমে প্রায় ৫ হাজারে নেমে এসেছে। ডিজেল প্রায় শেষের দিকে হওয়ায় খোলা বিক্রি বন্ধ রেখে শুধু যানবাহনে দেওয়া হচ্ছে। কারণ, এই মুহূর্তে যানবাহনে তেল দেওয়া বেশি জরুরি।

সকাল পৌনে ১০টার দিকে কল্যাণপুরের খালেক পাম্পেও যানবাহনের ভিড় দেখা গেছে। সেখানে মোটরসাইকেলের চেয়ে দূরপাল্লার বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ ছিল বেশি। পাম্পের এক বিক্রয়কর্মী জানান, বুধবার রাত ও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে যানবাহনের চাপ স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দেড় থেকে দুই গুণ বেশি। সেখানেও বেশির ভাগ ক্রেতা গাড়ি বা বাইকের আধার পূর্ণ করে জ্বালানি কিনছেন।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আসাদগেট সংলগ্ন তালুকদার ফিলিং স্টেশনে গিয়ে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যায়। যানবাহনের এই সারি মূল সড়ক পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ায় সেখানে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের তৎপর থাকতে দেখা গেছে।

তবে এর কিছুক্ষণ পরই, অর্থাৎ সকাল ১০টা ৩৪ মিনিটের দিকে কর্মীরা পাম্পের প্রবেশপথ বাঁশ দিয়ে বন্ধ করে দেন। ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরাও হাত নেড়ে সংকেত দিয়ে সবাইকে জানান যে পাম্প বন্ধ। এমন অবস্থায় অনেকে বের হওয়ার পথ দিয়ে পাম্পে ঢোকার চেষ্টা করেন।

তালুকদার ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার ইমরান আহমেদ বলেন, এই পাম্পে প্রতিদিন প্রায় ৪০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল আসে এবং বিক্রি হয়। সাধারণত ২০ হাজার লিটারের মতো মজুত থাকে। কিন্তু ডিপো থেকে তেলের গাড়ি না আসায় মজুত কমে গেছে। পাম্পের রিজার্ভ ট্যাঙ্কে অন্তত ৪০০ লিটার তেল জমা রাখা প্রয়োজন, যা এখন প্রায় শেষের পথে। তাই বিক্রি বন্ধ রাখা ছাড়া উপায় নেই।

পাম্পের ব্যবস্থাপক তন্ময় বাড়ৈ জানান, বিকেল বা সন্ধ্যায় ডিপো থেকে তেলের গাড়ি এলে আবার বিক্রি শুরু হবে। তবে তাঁরা শুনতে পাচ্ছেন যে চাহিদার তুলনায় মাত্র ৪০ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হতে পারে।

বেলা পৌনে ১১টার দিকে বিজয় সরণির ট্রাস্ট রিফুয়েলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ব্যক্তিগত গাড়ির সারি পাম্প ছাড়িয়ে অনেক দূর পর্যন্ত চলে গেছে। এই সারির শেষ প্রান্ত ছিল নাখালপাড়া অংশে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ৪ নম্বর গেটের উল্টো পাশে। পাম্প থেকে প্রায় ৩৫০ মিটার দূরে ওই পর্যন্ত ৯৭টি গাড়িকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

এদিকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কালশীর সুমাত্রা ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, সব ধরনের জ্বালানি তেল ও এলপিজি গ্যাস বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। বিক্রয়কর্মীরা জানান, বুধবার রাতেই বেশির ভাগ জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার বিক্রি বন্ধ রাখতে হয়েছে। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন