[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

মধুপুরে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর পরিবারকে ঘর নির্মাণে বাধা, অস্ত্র উঁচিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগ

প্রকাশঃ
অ+ অ-
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার চাঁদপুর রাবার বাগান এলাকায় বসবাসরত একটি গারো পরিবার নতুন একটি ঘর তোলার উদ্যােগ নিলে বাগান কর্তৃপক্ষ ও আনসার সদস্যরা তাঁদের বাধা দেন। গত সোমবার | ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

টাঙ্গাইলের মধুপুরে একটি গারো পরিবারকে ঘর নির্মাণে বাধা দিয়েছে রাবারবাগান কর্তৃপক্ষ। এ সময় সশস্ত্র আনসার সদস্যরা রাইফেল উঁচিয়ে নারীসহ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ওই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার মধুপুরের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এ ঘটনায় ক্ষোভ জানান এবং দোষীদের শাস্তি দাবি করেন।

স্থানীয় লোকজন জানান, মধুপুরের চাঁদপুর রাবারবাগানের কালো পাহাড় এলাকায় রমেন কুবি ও শিবলী মাংসাং দম্পতি বসবাস করেন। গত সোমবার তাঁরা সেখানে নতুন একটি ঘর তৈরির কাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে বন শিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের অধীনে থাকা রাবারবাগানের মাঠ কর্মকর্তার নেতৃত্বে কয়েকজন আনসার সদস্য গিয়ে তাঁদের কাজে বাধা দেন এবং ঘরের খুঁটি ভেঙে ফেলেন। এ সময় আনসার সদস্যদের সঙ্গে ওই পরিবারের সদস্যদের কথা-কাটাকাটি হয়। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আনসার সদস্যরা এক নারীর দিকে রাইফেল উঁচিয়ে ভয় দেখাচ্ছেন।

এই ঘটনায় স্থানীয় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি জানতে পেরে মঙ্গলবার মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মির্জা জুবায়ের হোসেন ঘটনাস্থলে যান। তিনি রাবারবাগান কর্তৃপক্ষ এবং ভুক্তভোগী দম্পতির সঙ্গে কথা বলেন। ইউএনও জানান, এ সময় রাবারবাগান কর্তৃপক্ষ ওই পরিবারের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে।

ইউএনও মির্জা জুবায়ের হোসেন আরও জানান, ঘর তৈরির জন্য ওই পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই বান্ডিল টিন, ছয় হাজার টাকা এবং অন্যান্য খরচ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ইউএনও এবং পুলিশকে না জানিয়ে এ ধরনের অভিযান না চালাতে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রমেন কুবি জানান, তাঁদের পরিবারের ১৩ জন সদস্য সেখানে বাস করেন। ছোট একটি ঘরে থাকা খুব কষ্টের, তাই নতুন ঘর তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তখন কর্মকর্তারা আনসার নিয়ে এসে ঘরের খুঁটি ভেঙে ফেলেন এবং তাঁদের লাগানো গাছও কেটে ফেলেন।

বুধবার আদিবাসী সংগঠনের নেতারা ওই বাড়ি পরিদর্শনে যান। জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক বলেন, মধুপুরের গারোসহ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভূমির সমস্যার সমাধান না হওয়ায় তাঁরা সব সময় উচ্ছেদ আতঙ্কে থাকেন। রমেন কুবির পরিবারের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা নিন্দনীয়। জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

আবিমা সংস্কৃতি উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি অজয় এ মৃ বলেন, আদিবাসীদের জমি চিহ্নিত করে তাঁদের অধিকার দিতে হবে। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, সেদিকে বন বিভাগ ও রাবারবাগান কর্তৃপক্ষকে নজর রাখতে হবে।

চাঁদপুর রাবারবাগানের ব্যবস্থাপক আমান উল্লাহ আমান জানান, তাঁরা কাউকে উচ্ছেদ করতে চাননি, শুধু বাগানের জমিতে নতুন ঘর তুলতে বাধা দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, আনসার সদস্যদের ওপর হামলা ও গালিগালাজ করায় তাঁরা অস্ত্র উঁচিয়েছিলেন। একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ভিডিও ছড়িয়ে দিয়েছে।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন