গাইবান্ধায় চাল না পেয়ে সড়ক অবরোধ, জালিয়াতির অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের
![]() |
| গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ভিজিএফের চাল না পেয়ে সড়ক অবরোধ করেন একদল লোক। আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কের মহদিপুর ইউনিয়নের ঠুটিয়াপাকুর বাজার এলাকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় দুস্থদের জন্য বরাদ্দ চাল (ভিজিএফ) না পেয়ে সড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আজ সোমবার দুপুর ১২টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কের মহদিপুর ইউনিয়নের ঠুটিয়াপাকুর বাজার এলাকায় এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এর ফলে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিক্ষোভকারীরা জানান, দুই দিন আগে মহদিপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাঁদের চালের স্লিপ দেওয়া হয়েছিল। সেই স্লিপ নিয়ে আজ সকালে দরিদ্র মানুষ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে চাল নিতে যান। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর দুপুরে তাঁদের জানানো হয় যে চাল শেষ হয়ে গেছে। স্লিপ থাকা সত্ত্বেও চাল না পেয়ে কয়েক শ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে সড়ক অবরোধ করেন।
খবর পেয়ে পলাশবাড়ী থানার পুলিশ এবং উপজেলা জামায়াতের আমির ও কিশোরগাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক ঘটনাস্থলে গিয়ে আশ্বস্ত করলে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
মহদিপুর ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দরিদ্র মানুষের জন্য ৫২ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী ৫ হাজার ২০০ জনের মধ্যে ১০ কেজি করে চাল বিতরণের জন্য স্লিপ দেওয়া হয়েছিল।
মহদিপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজাদুল সরকার জানান, নির্ধারিত ৫ হাজার ২০০ জনকে চাল দেওয়ার পরও অনেকে স্লিপ নিয়ে আসতে থাকেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অতিরিক্ত চাল কিনে আরও ৭৭৪ জনকে দেন। এরপরও বিপুলসংখ্যক মানুষ স্লিপ নিয়ে এলে সন্দেহ তৈরি হয়। চেয়ারম্যানের অভিযোগ, ‘পরবর্তীতে আসা স্লিপগুলো নকল। একটি মহল হুবহু স্লিপ তৈরি করে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।’
পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের সরকার বলেন, বর্তমানে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments
Comments