[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

চট্টগ্রামে কোন সেমাইয়ের কদর কেমন, ঈদে জনপ্রিয়তার শীর্ষে কোনটি?

প্রকাশঃ
অ+ অ-
চট্টগ্রাম নগরের চাক্তাই এলাকার একটি কারখানায় লাচ্ছা সেমাই তৈরির পর ঝুড়িতে রাখছেন এক শ্রমিক। গতকাল দুপুরে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন 

ঘিয়ে ভাজা মিহি সাদা রেশমি সুতার মতো লাচ্ছা কিংবা বাদামি রঙের বাংলা সেমাই—ঈদের আয়োজনের জন্য চট্টগ্রামবাসীর বেশি পছন্দ কোনটি? এক কথায় এর উত্তর মেলে না। দুটি সেমাই রান্নার পদ্ধতি আলাদা। ঘিয়ে ভাজা লাচ্ছা সেমাইয়ে বাদাম ও কিশমিশ দিয়ে ঘন গরম দুধ দিলেই তৈরি হয়। আর বাংলা সেমাই আগে অল্প আঁচে ঘিয়ে ভেজে নিতে হয়, এরপর বাদাম ও কিশমিশসহ ঘন দুধ ঢালতে হয়। স্বাদ আলাদা হলেও দুই ধরনের সেমাইয়েরই কদর আছে। শুধু এই দুই পদ্ধতির কথা বাদ দিলেও সেমাইয়ের জর্দা, আরবের বাসবুসা বা বাকলাভা তৈরিতেও এই দুই ধরনের সেমাই ব্যবহার করা হয়।

চট্টগ্রামের বাজারগুলোতে বাংলা ও লাচ্ছা—দুই ধরনের সেমাই বিক্রি হচ্ছে। খোলা ও প্যাকেটজাত—দুইভাবেই পাওয়া যাচ্ছে এসব সেমাই। গতকাল বৃহস্পতিবার নগরের বহদ্দারহাট বাজারে বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবদুস সালামের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘ঈদের দুই দিন আগে থেকে মূলত সেমাই ও চিনি কেনার প্রস্তুতি শুরু হয়। এখন লাচ্ছা সেমাইয়ের চল বেশি। তবে বাংলা সেমাইও অল্প নিয়েছি।’

একসময় হাতে তৈরি সেমাইয়ের কদর ছিল ঘরে ঘরে। তাই দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট কারখানায় খোলা সেমাই তৈরি করা হতো। এখন সময়ের পরিবর্তনে বাজার দখল করে নিয়েছে প্যাকেটজাত সেমাই।

নগরের বাজারগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ বছর ঈদের বাজারে প্যাকেটজাত সেমাইয়ের দাম তেমন বাড়েনি। গত বছরের মতো একই দামে বিক্রি হচ্ছে এসব সেমাই। তবে বাংলা সেমাইয়ের দাম (চিকন সেমাই) কিছুটা বেড়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার লাচ্ছা ও চিকন—দুই ধরনের সেমাইই বাজারে সরবরাহ হচ্ছে। বর্তমানে প্যাকেটজাত লাচ্ছা সেমাইয়ের চাহিদা বেশি। চালের গুঁড়া ও ময়দা দিয়ে তৈরি চিকন সেমাইয়ের চাহিদা কম। সব মিলিয়ে অন্য বছরের তুলনায় সেমাইয়ের চাহিদা কম। এখন মানুষ বাংলা সেমাই বা চিকন সেমাই তেমন কেনেন না। তবু পুরোনো ব্যবসায়ীরা দোকানে এসব সেমাই রাখেন।

সারা বছর সেমাইয়ের বেচাকেনা তেমন হয় না। বছরে মোট বিক্রির প্রায় ৯০ শতাংশই হয় ঈদের সময়। বড় বড় কোম্পানি বাজারে আসার পর ছোট কোম্পানির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, স্কয়ার গ্রুপ, বনফুল, কিষোয়ানসহ অনেক শিল্পগোষ্ঠী এখন সেমাই বাজারে আনছে। চট্টগ্রাম নগরের চাক্তাই এলাকায় একসময় ৩৫টির বেশি সেমাই তৈরির কারখানা ছিল। এখন তা কমে ১৫ থেকে ২০টিতে নেমে এসেছে।

এখন নগরের বাকলিয়া, চাক্তাই, রাজাখালী, খাতুনগঞ্জ, আছাদগঞ্জ ও মাদারবাড়িসহ কয়েকটি এলাকার কারখানায় চিকন সেমাই তৈরি হয়। এসব সেমাই নগরের বিভিন্ন কারখানা থেকে জেলার ১৫টি উপজেলাসহ আশপাশের দূরবর্তী এলাকাতেও যায়। তবে আগের মতো এই সেমাইয়ের কদর নেই। বাজার এখন প্যাকেটজাত সেমাইয়ের দখলে।

নগরের বহদ্দারহাট এলাকার মুদিদোকানি নাজিম উদ্দিন বলেন, একসময় ঈদের সময় কয়েক শ কেজি বাংলা সেমাই বিক্রি হতো। এখন ১০ থেকে ২০ কেজিও হয় না। অনেকেই সেমাইয়ের জর্দা করার জন্য কিনে থাকেন। অন্যদের চাহিদা প্যাকেটজাত সেমাই। লাচ্ছা সেমাইয়ের চাহিদা বেশি, কারণ এতে ঝামেলা কম।

চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২০০ গ্রাম ওজনের প্যাকেটজাত লাচ্ছা সেমাই ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই ওজনের প্যাকেটজাত চিকন সেমাইও একই দামে পাওয়া যাচ্ছে। ব্র্যান্ডভেদে ঘি ও কিশমিশ দেওয়া প্যাকেটজাত সেমাই ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দোকানিরা জানিয়েছেন, গত এক বছরে এসব সেমাইয়ের দাম বাড়েনি।

অন্যদিকে, গত বছর খোলা চিকন সেমাইয়ের দাম প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে ছিল। এ বছরও প্রায় একই দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে কিছু বাজারে ১৫০ টাকা পর্যন্ত দাম চাওয়া হচ্ছে। লাচ্ছা সেমাই বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকার কাছাকাছি দামে। তবে বেশি দামের লাচ্ছা সেমাইও আছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ঘি ও কিশমিশ দেওয়া সেমাই ২৫০ ও ৪০০ গ্রাম ওজনের প্যাকেটে পাওয়া যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রতি প্যাকেটের দাম ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা।

নগরের রিয়াজউদ্দিন বাজারের মুদিদোকানি ইকবাল হোসেন বলেন, ২০ বছর আগেও সেমাই ছাড়া ঈদ ভাবা যেত না। শহরের বড় পরিবারগুলো, বিশেষ করে বনেদি পরিবারগুলো কয়েক কেজি করে সেমাই কিনত। এখন সেই চিত্র নেই। এখন বাজারে নানা ব্র্যান্ডের সেমাই পাওয়া যায়। দাম বাড়েনি, কারণ চাহিদাও আগের মতো নেই। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন