[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

সৌদির সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈদ উদ্‌যাপন

প্রকাশঃ
অ+ অ-

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুরের অর্ধশত গ্রামে ঈদ উদ্‌যাপন | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন 

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হয়েছে। এক মাস রোজা রাখার পর মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায়ে অংশ নিয়ে উৎসবের আনন্দ উপভোগ করেন। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মুসল্লিরা সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে সমন্বয় রেখে রোজা রাখেন এবং ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করে আসছেন। নামাজের পর তারা বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও দেশের মঙ্গল কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করেন।

চট্টগ্রাম
দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারা, বাঁশখালী, সাতকানিয়া সহ শতাধিক গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হয়েছে। মির্জাখীল দরবার শরিফের অনুসরণে চট্টগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলার এসব এলাকায় ঈদ উদ্‌যাপন হয়।

সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল দরবার শরিফের অনুসারীরা দীর্ঘদিন ধরে হানাফি মাজহাব অনুযায়ী চাঁদ দেখা অনুসারে রোজা, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা ও চন্দ্র মাসের অন্যান্য ধর্মীয় অনুশাসন পালন করে আসছেন। প্রায় দুই শতাব্দী ধরে এই প্রথা অনুসৃত হচ্ছে।

আনোয়ারা উপজেলার তৈলারদ্বীপ ও বরুমচড়া গ্রামের ফুলগাজী চৌধুরীবাড়ি এবং মুহুরীবাড়িতে সকাল সাড়ে আটটায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে বাঁশখালী উপজেলার কালীপুর সাহেববাড়িতেও জামাত অনুষ্ঠিত হয়। তবে মির্জাখীল দরবার শরিফের প্রধান খানকাহ মাঠে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন বর্তমান সাজ্জাদানশিন হজরত ইমামুল আরেফীন মাওলানা মুহাম্মদ মকছুদুর রহমান।

মির্জাখীল দরবার শরিফের মোহাম্মদ মছউদুর রহমান ঈদ উদ্‌যাপন সম্পর্কে বলেন, ‘নিকটবর্তী এলাকায় চাঁদ দেখার সময়, ভৌগোলিক অবস্থান এবং মক্কা-মদিনাসহ আরব বিশ্বের চাঁদ দেখার নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে আমরা শুক্রবার ঈদ উদ্‌যাপন করছি।’

চন্দনাইশ শাহসূফি মমতাজিয়া দরবার শরীফে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে মোনাজাত করছেন দরবারের পীর শাহসূফি মাওলানা মোহাম্মদ আলী | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন 

দরবার সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বহু গ্রামে তাদের অনুসারীরা এদিন ঈদ উদ্‌যাপন করবেন। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে সাতকানিয়ার এওচিয়া, গাটিয়াডেঙ্গা, আলীনগর, মাদার্শা, খাগরিয়া, মৈশামুড়া, পুরানগড়, বাজালিয়া, মনেয়াবাদ, চরতি, সুঁইপুরা, হালুয়াঘোনা; চন্দনাইশের কাঞ্চননগর, হারালা, বাইনজুরি; দোহাজারী, জামিরজুরি; বাঁশখালীর কালীপুর, চাম্বল; আনোয়ারার বরুমছড়া, তৈলারদ্বীপ; লোহাগাড়ার পুঁটিবিলা, কলাউজান, চুনতী; সীতাকুণ্ডের বারিয়াঢালা, সলিমপুরসহ অন্যান্য এলাকা। এ ছাড়া ফেনী, রাঙামাটি, কুমিল্লা, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, চাঁদপুর (মতলব), সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নোয়াখালী, বরিশাল, পটুয়াখালী, চুয়াডাঙ্গা, ভোলা সহ দেশের বিভিন্ন জেলা এবং পার্বত্য জেলা বান্দরবান ও কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলা।

চট্টগ্রামের চন্দনাইশের জাহাঁগিরিয়া শাহ সুফি মমতাজিয়া দরবার শরিফের অনুসারীরা দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রায় ৬০ গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন করেছেন। সকাল সাড়ে ৯টায় চন্দনাইশ শাহ সুফি মমতাজিয়া দরবার শরিফ প্রাঙ্গণে ওই এলাকার প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন জাহাঁগিরিয়া শাহ সুফি মমতাজিয়া দরবারের পীর সৈয়দ মাওলানা মোহাম্মদ আলী। নামাজ শেষে মোনাজাতে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।

দরবারের শাহজাদা মাওলানা মো. মতি মিয়া মনছুর বলেন, ‘যেহেতু গতকাল বৃহস্পতিবার আমাদের ৩০ রোজা পূর্ণ হয়েছে, সৌদি আরবে গতকাল সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা গেছে, এবং আমাদের নির্দিষ্ট পঞ্জিকামতে তাই আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হচ্ছে।’

দরবার সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ চট্টগ্রামে যেসব জায়গায় তাদের অনুসারীরা আছেন, সেসব এলাকায় এদিন ঈদ উদ্‌যাপন করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যে সাতক্ষীরার ২০ গ্রামের মানুষ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন করেছেন। সকাল আটটায় সাতক্ষীরার সদর উপজেলার বাউকোলা পূর্বপাড়া জামে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা মহব্বত আলী।

ঈদের নামাজে সাতক্ষীরার ইসলামকাটি, গোয়ালচত্বর, ভাদড়া, ঘোনা, ভাড়খালী, মিরগিডাঙ্গা সহ প্রায় ২৫ গ্রামের মানুষ অংশ নেন। পুরুষ ও মহিলা মিলে সেখানে শতাধিক মানুষ নামাজ আদায় করেছেন।

বাউকোলা পূর্বপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মহব্বত আলী বলেন, ‘আমরা রমজান মাসে চাঁদ দেখে রোজা রাখি এবং শাওয়াল মাসের প্রথম দিন চাঁদ দেখে ঈদের নামাজ আদায় করি। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আজ ঈদের নামাজ আদায় করেছি।’

মাদারীপুর
মাদারীপুরে ঈদ উদ্‌যাপন করেছেন ২৫ গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের চর কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সকাল সাড়ে ৯টায় ঈদের প্রধান ও প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন চরকালিকাপুর ফরাজীবাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান। জামাত শেষে উপস্থিত মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন।

মাদারীপুরে সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের চর কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ঈদের নামাজ | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন 

শরীয়তপুরের সুরেশ্বর দরবার শরিফের প্রতিষ্ঠাতা হজরত জান শরীফ শাহ সুরেশ্বরীর (রহ.) অনুসারীরা প্রায় দেড়শ বছর ধরে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখেন এবং ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করে আসছেন। এর ধারাবাহিকতায় চাঁদ দেখা সাপেক্ষে সৌদি ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে মাদারীপুরের বিভিন্ন এলাকার মানুষও ঈদ উদ্‌যাপন করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সুরেশ্বর দরবার শরিফের মুরিদ সাগর দেওয়ান জানান, পূর্বপুরুষদের প্রথা অনুযায়ী এই ঈদ উৎসব পালন করা হচ্ছে। বছরে দুটি ঈদ ও রোজা পালন করা হয়, এতে অংশ নেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে লামাপাড়া এলাকায় হজরত শাহ সুফি মমতাজিয়া এতিমখানা ও হেফজখানা মাদ্রাসায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় জামাতে ‘জাহাঁগিরিয়া তরিকার’ অনুসারীরা অংশ নেন। ইমামতি করেন মুফতি মাওলানা শাহাবুদ্দিন।

ঈদের নামাজে অংশ নিতে গাজীপুরের টঙ্গী, ঢাকার কেরানীগঞ্জ, পুরান ঢাকা, ডেমরা, সাভারসহ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ, রূপগঞ্জ, বন্দর, আড়াইহাজার ও সোনারগাঁ উপজেলার মুসল্লিরা হাজির হন। নামাজ শেষে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও দেশের মঙ্গল কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ১২টি গ্রামের সুরেশ্বরী দরবার শরিফের ভক্তরা শুক্রবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন করেছেন। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে উপজেলার দুটি স্থানে পৃথক সময়ে মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের দশধরী গ্রামে খানকায়ে সুরেশ্বরী দরবার শরিফের কক্ষে সকাল সাড়ে ৯টায় এবং ধর্মপাশা উত্তরপাড়া গ্রামে একই সময়ের খানকায়ে সকাল ১০টায় ঈদের দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

উত্তরপাড়া খানকা শরিফের কক্ষে ঈদের নামাজ পড়ান খতিব মাওলানা রিফাত নূরী আল মুজাদ্দেদী। দশধরী খানকা শরিফে নামাজ পড়ান খতিব মো. পলাশ মিয়া।

মাওলানা পলাশ মিয়া বলেন, ‘সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ২৯ বছর ধরে দশধরী গ্রামের খানকা শরিফে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।’

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ধর্মপাশা উত্তরপাড়া গ্রামে খানকা শরীফের কক্ষে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন 

রাজশাহী
রাজশাহীর পুঠিয়ার একটি গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল আটটায় উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের ফকিরপাড়া মহল্লার মুসলিম জামে মসজিদে নামাজ আদায় করেন গ্রামের মুসল্লিরা। ইমামতি করেন হাফেজ মো. সাজিরুল ইসলাম। নামাজে মোট ২৩ জন মুসল্লি অংশ নেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে মুসল্লিরা মসজিদের ছাদে যান, যেখানে আগে থেকেই ঈদের নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ছাদের মধ্যে কালো পর্দা টাঙানো হয়েছিল। একই ইমামতিতে পুরুষরা সামনে এবং নারী পেছনে নামাজ আদায় করেন। মুসল্লিরা জানিয়েছেন, তারা প্রতিবছর সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদের নামাজ আদায় করেন এবং এবারও তাই করেছেন।

চাঁদপুর
সৌদি আরবের সঙ্গে সমন্বয় রেখে চাঁদপুরের অর্ধশতাধিক গ্রামে ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হয়েছে। তারা নিজস্ব ধর্মীয় মত অনুসারে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রোজা ও ঈদ পালন করেন। দীর্ঘদিন ধরে এই রীতি অনুসরণ করে আসছেন।

হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরিফে সকাল সাড়ে ৯টায় ওই এলাকার প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন দরবারের পীর মুফতি জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানী। পাশাপাশি হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ, মতলবসহ কচুয়া ও শাহরাস্তি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে একযোগে ঈদ উদ্‌যাপন করা হয়। মতলব উত্তর উপজেলার ১৫টি গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মুসল্লিও এদিন ঈদ উদ্‌যাপন করেছেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ১৯২৮ সাল থেকে সাদ্রা দরবার শরিফের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম পীর আল্লামা মোহাম্মদ ইসহাক চৌধুরী এই পদ্ধতি চালু করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পরও উত্তরসূরিরা সেই ধারাটি অব্যাহত রেখেছেন।

জামালপুর
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে জামালপুরের তিন উপজেলায় ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হয়েছে। সকালেই ১৬টি গ্রামের মানুষ ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন।

সকাল সাড়ে আটটায় সরিষাবাড়ী পৌরসভার বলারদিয়ার মধ্যপাড়া মাস্টারবাড়ি জামে মসজিদ মাঠে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন বলারদিয়ার জামে মসজিদের খতিব আজিম উদ্দিন মাস্টার। জামাতে অংশ নেন উপজেলার বলারদিয়ার, মূলবাড়ী, সাতপোয়া, সাঞ্চারপাড়, পঞ্চপীর, পাখাডুবি, বনগ্রাম, বালিয়া, বাউসী, হোসনাবাদ, পাটাবুগা, পুঠিয়ারপাড় ও বগারপাড় গ্রামের মানুষ।

এ ছাড়া ইসলামপুর উপজেলার নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের রামভদ্রা, সাপধরীর ইউনিয়নের পশ্চিম মণ্ডলপাড়া ও মাদারগঞ্জ উপজেলার কাজিয়ারবাড়ি গ্রামে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

সরিষাবাড়ী উপজেলার সাতপোয়া এলাকার হাসেন আলী বলেন, ‘আমি এই নিয়মে ৩০ বছর ধরে ঈদের নামাজ আদায় করছি। আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিলিয়ে নামাজ করি না, বরং চাঁদ দেখে নামাজ আদায় করি।’

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন