[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ঠিকাদারের কাজ বন্ধ করে চাঁদা দাবির অভিযোগ ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে

প্রকাশঃ
অ+ অ-
আরসিসি সড়ক ও ড্রেন নির্মাণকাজ বন্ধ আছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন–১–এর সামনে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন   

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে সড়ক ও ড্রেন নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের তিন নেতার বিরুদ্ধে। চাঁদা না পেয়ে তাঁরা এই কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। এ ঘটনায় নগরের বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও সেটি এখনো মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি। তবে ছাত্রদল নেতাদের দাবি, কাজের অনিয়ম নিয়ে কথা বলায় তাঁদের বিরুদ্ধে এই মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযুক্ত তিন নেতা হলেন—বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রেজা শরীফ, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন এবং পদহীন ছাত্রদল নেতা আজমাইন সাকিব।

কাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ধারা এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি এ বি এম আওলাদ হোসেন ২ মার্চ বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগটি জমা দেন। অভিযোগে বলা হয়, মেসার্স ধারা এন্টারপ্রাইজ ও বিল্ডার্স কন্ট্রাক্টস অ্যান্ড সাপ্লায়ার্স যৌথভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর প্রশাসনিক ভবনের সামনে ঢালাই করা সড়ক (আরসিসি) নির্মাণের কাজ পায়। ১ মার্চ সকাল ১০টার দিকে আজমাইন সাকিবের নেতৃত্বে কয়েকজন সেখানে গিয়ে কাজে বাধা দেন। এ সময় তাঁরা কাজের ভাগের টাকা হিসেবে চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও জানানো হয়, চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় অভিযুক্তরা কাজ বন্ধ করে দেন এবং ঠিকাদারকে গালিগালাজসহ বিভিন্ন হুমকি প্রদান করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল নেতারা জানান, কাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রতিবাদ করায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঠিকাদার পক্ষের বিরোধ তৈরি হয়। নিজেদের দোষ ঢাকতেই ঠিকাদার পক্ষ থানায় এই ভিত্তিহীন অভিযোগ দিয়েছে।

ছাত্রদল নেতা আজমাইন সাকিব বলেন, তিনি কেবল কাজের মান বজায় রাখার দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু ঠিকাদারের প্রতিনিধি আওলাদ হোসেন তাঁর ছবি তোলেন এবং নিজেকে বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়ে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন।

ঠিকাদারের প্রতিনিধি আওলাদ হোসেনের দাবি, তিনি যথাযথ নিয়ম মেনেই কাজ তদারকি করছিলেন। হঠাৎ আজমাইন সাকিব এসে ঢালাইয়ের কাজ বন্ধ করে দিতে বলেন। আওলাদ হোসেনের অভিযোগ, ছাত্রদল নেতা রেজা শরীফের নেতৃত্বেই এসব ঘটনা ঘটছে।

চাঁদা চাওয়ার কোনো প্রমাণ আছে কি না, জানতে চাইলে ঠিকাদারের প্রতিনিধি আওলাদ হোসেন বলেন, ‘আমার কাছে সরাসরি কোনো প্রমাণ নেই। যারা চাঁদা চায়, তাদের চেনার জন্য আমি একটি ছবি তুলেছিলাম। কিন্তু ছাত্রদল নেতা আজমাইন সাকিব আমার কাছ থেকে ফোন কেড়ে নিয়ে সেই ছবি মুছে (ডিলিট) দিয়েছেন।’

অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রেজা শরীফ বলেন, ঠিকাদার অন্যায়ভাবে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় আজমাইন সাকিবসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা তার প্রতিবাদ করেন। এরপর ঠিকাদার বরিশালের বিভিন্ন নেতার মাধ্যমে তাঁর কাছে নালিশ পাঠান। কয়েক দিন পর ক্যাম্পাসে গিয়ে তিনি দেখেন, সেখানে ভালো মানের পাথর ও মালামাল আনা হয়েছে।

রেজা শরীফ আরও বলেন, তিনি তখন ঠিকাদারকে বলেছিলেন—ভালো মানের পাথর, বালু ও রড দিয়ে কাজ করলে তো কেউ বাধা দিতে আসত না। তাঁর সঙ্গে ঠিকাদারের টাকাপয়সা বা চাঁদা নিয়ে কোনো কথাই হয়নি।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন জানান, ঠিকাদারের প্রতিনিধি তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১৫ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। চাঁদাবাজির এই অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন