[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার হাটে নজর কাড়ছে ‘যুবরাজ’, দাম হাঁকা হচ্ছে ১১ লাখ

প্রকাশঃ
অ+ অ-
ধূসর রঙের ঘোড়াটির নাম যুবরাজ, বয়স প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর। গতকাল বিকেলে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর দোলপূর্ণিমা মেলায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন    

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গোপীনাথপুর দোলপূর্ণিমা মেলায় জমে উঠেছে ‘ঘোড়ার হাট’। পছন্দের ঘোড়া ঘিরে দর-কষাকষি, হাঁকডাক আর দর্শনার্থীদের ভিড়ে পুরো এলাকা এখন মুখর। ৫০০ বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসা এই মেলায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, এবার বেশ ভালো সংখ্যায় ঘোড়া আনা হয়েছে। তবে সব নজর কেড়েছে উঁচু ও লম্বা গড়নের একটি ঘোড়া, যার নাম রাখা হয়েছে ‘যুবরাজ’। ভারতীয় ‘তাজি’ জাতের এই ঘোড়াটির দাম চাওয়া হচ্ছে ১১ লাখ টাকা। কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ঘোড়াটি বিক্রি করেননি এর মালিক।

ঘোড়াটির মালিক নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার শাহরিয়ার ইসলাম সাগর। তিনি জানান, ধূসর রঙের ঘোড়াটির বয়স প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর। এটি অত্যন্ত দ্রুতগামী এবং বিভিন্ন ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পুরস্কারও জিতেছে। নিজের তত্ত্বাবধানেই তিনি ঘোড়াটির যত্ন নিয়েছেন। এখন পর্যন্ত ঘোড়াটির সর্বোচ্চ দাম উঠেছে সাড়ে ৭ লাখ টাকা। মালিকের দাবি, ১০ লাখ টাকা হলে তিনি ঘোড়াটি বিক্রি করবেন।

একাধিক ঘোড়া ব্যবসায়ী ও ক্রেতা জানান, তাঁদের পূর্বপুরুষেরাও এই মেলায় ঘোড়া কেনাবেচা করতেন। সেই পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রাখতেই তাঁরা এখনো এই মেলায় অংশ নেন। তবে আগে ঘোড়দৌড়ের জন্য বিশাল মাঠ থাকলেও এখন তা ছোট হয়ে আসায় বেচাকেনায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ী ইমদাদুল হক।

দিনাজপুর থেকে ঘোড়া কিনতে আসা আকরাম হোসেন বলেন, অন্য বছরের তুলনায় এবার মেলায় ঘোড়ার আমদানি ভালো। তবে উন্নত জাতের ঘোড়া খুব বেশি নেই। তাই ভারতীয় তাজি জাতের বড় ঘোড়াটিই মেলার প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

গোপীনাথপুর মন্দিরের সেবায়েত রণেন্দ্র কৃষ্ণ প্রিয়া বলেন, প্রতিবছর দোলপূর্ণিমা উপলক্ষে এই মেলা বসে। এবার মেলার ৫১৯তম আয়োজন চলছে। ৩ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই মেলা নির্ধারিত ১৩ দিন পর্যন্ত চলার কথা থাকলেও পরিস্থিতি বুঝে সময় বাড়ানো হয়। জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসকও মেলা পরিদর্শন করেছেন। উত্তরাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী মেলাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।

আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা জান্নাত বলেন, গোপীনাথপুরের মেলাটি অত্যন্ত প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী। মেলা ঘিরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি প্রশাসনের নজরদারিতে রয়েছে।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন