দেশে ফিরলেন সমন্বয়ক মাহদী হাসান
![]() |
| মাহদী হাসান | ছবি: সংগৃহীত |
ভারতে হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে দেশে ফিরেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও সংগঠনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসান। বুধবার বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে একটি বিমানে করে তিনি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
এর আগে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন এই সমন্বয়ক। রওনা হওয়ার কিছুক্ষণ আগে এক ফেসবুক লাইভে তিনি বলেন, ‘আমি দিল্লি বিমানবন্দর থেকে বলছি। এখানে আমার সঙ্গে বেশ কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, যা দেশে ফিরে সংবাদ সম্মেলন করে জানাব। এখানে আমাকে প্রায় ৪০ মিনিট পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছিল। আমার সঙ্গে খুব বাজে আচরণ করা হয়েছে। তারা আমাকে জেলেও দিতে চেয়েছিল। আমি জানি না আমার অপরাধ কী ছিল। আমার কোনো কথা না শুনেই তারা আমার ফোন তল্লাশি করেছে। আমি দেশে ফিরে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেব, ইনশাআল্লাহ।’
পরবর্তীতে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে এই ছাত্রনেতা বলেন, ‘জরুরি ভিত্তিতে আমাকে ইমিগ্রেশন পার করে দেওয়া হয়েছে। ১২টা ৪০ মিনিটে আমার ফ্লাইট। আমি এখন নিরাপদ আছি।’
ঠিক কী কারণে তিনি দিল্লি গিয়েছিলেন, তা ফেসবুক লাইভে স্পষ্ট না করলেও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সূত্রে জানা গেছে, মাহদী ইউরোপের একটি দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। ওই দেশের ভিসাকেন্দ্র ভারতে হওয়ায় সেই কাজের জন্যই তিনি দিল্লি গিয়েছিলেন।
মাহদী হাসানের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাদিয়া আফরিন রাত আটটার দিকে জানান, তিন ঘণ্টা আগেই তাঁর ইমিগ্রেশন শেষ হয়েছে এবং স্বাভাবিক প্রক্রিয়া মেনেই তিনি বিমানবন্দর ত্যাগ করেছেন।
উল্লেখ্য, গত জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে হবিগঞ্জে এক সভায় ‘বানিয়াচং থানা আমরাই পুড়িয়েছিলাম’—এমন মন্তব্য করে আলোচনায় আসেন মাহদী হাসান। ওই ঘটনায় পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু হয়। গ্রেপ্তারের এক দিন পরই হবিগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি।

Comments
Comments