[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

চকরিয়ায় অবৈধ বালু উত্তোলনের ছবি তুলতে গিয়ে ৩ সাংবাদিকের ওপর হামলা

প্রকাশঃ
অ+ অ-
মারধরে আহত সাংবাদিক আহত সাংবাদিক এম জিয়াবুল হক ও ইকবাল ফারুক(ডানে)। সোমবার রাত আটটার দিকে চকরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন    

কক্সবাজারের চকরিয়ায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ছবি তুলতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন তিন সাংবাদিক। গত রোববার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে চকরিয়া উপজেলার উত্তর হারবাং এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

আহত সাংবাদিকেরা হলেন— কালের কণ্ঠ ও দৈনিক আজাদীর চকরিয়া প্রতিনিধি ছোটন কান্তি নাথ, আমার দেশ ও দৈনিক পূর্বদেশের চকরিয়া প্রতিনিধি ইকবাল ফারুক এবং দৈনিক সংবাদ ও সুপ্রভাত বাংলাদেশের চকরিয়া প্রতিনিধি এম জিয়াবুল হক। হামলায় ছোটন মাথায় আঘাত পেয়েছেন, ইকবাল ফারুকের হাতের তালু কেটে গেছে এবং জিয়াবুলের হাতের হাড় ভেঙে গেছে।

আহত সাংবাদিকেরা জানান, উত্তর হারবাং এলাকায় অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে— এমন খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে ভিডিও ও ছবি ধারণ করার সময় বালু উত্তোলনের শ্রমিকেরা চিৎকার শুরু করেন। এ সময় নাজিম উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হন। আহতদের অভিযোগ, নাজিম উদ্দিনের নির্দেশেই বালু তোলা হচ্ছিল। তিনি ঘটনাস্থলে এসেই সাংবাদিকদের ‘মাটিতে পুঁতে ফেলার’ কথা বলে শ্রমিকদের হামলার নির্দেশ দেন।

নির্দেশ পাওয়ার পরপরই হামলা শুরু হয়। প্রথমে সাংবাদিকদের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে ছড়ার পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর তাঁদের ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এ সময় ছোটন ও জিয়াবুলকে মারতে মারতে ছড়ার পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। এতে ছোটনের মাথা ফেটে যায় এবং জিয়াবুলের ডান হাতের বাহুর হাড় ভেঙে যায়। এ ছাড়া ইকবাল ফারুকের ডান হাতে কোপ দিলে তাঁর হাতের তালু কেটে যায়।

আহত সাংবাদিক ছোটন কান্তি নাথ বলেন, মারধরের পর তাঁদের তিনজনকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। রাত আটটার দিকে স্থানীয় কয়েকজন তাঁদের উদ্ধার করে লোহাগাড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। ছোটন কান্তি নাথ আরও জানান, জিয়াবুলের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাঁকে সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাটের একটি হাসপাতালে ভর্তি করে অস্ত্রোপচার করা হয়। রাত চারটার দিকে তাঁর অস্ত্রোপচার শেষ হয়।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, সোমবার দুপুরে আহত সাংবাদিকদের উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আহত সাংবাদিকেরা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে নাজিম উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। একপর্যায়ে তাঁর মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয়টি বিকেলে জেনেছেন। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নাজিম উদ্দিনকে ধরতে পুলিশের একাধিক দল ইতিমধ্যে অভিযান শুরু করেছে।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন