নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আশঙ্কা দেখছি না, বিএনপি ল্যান্ডস্লাইড জয় পাবে: মির্জা ফখরুল
![]() |
| ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকায় নিজ বাসভবনে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন মির্জা ফখরুল। আজ মঙ্গলবার | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘এবারের নির্বাচনে নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্যের (চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স) ব্যবস্থা সঠিকভাবে থাকায় তথাকথিত নির্বাচনী কারচুপির আশঙ্কা নেই। বিএনপি বিপুল ভোটে জয় পাবে বলে আমরা আশাবাদী।’
মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকায় নিজ বাসভবনে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।
সংবাদকর্মীরা নির্বাচনী কারচুপি বা জালিয়াতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা দলগতভাবে এখনও সেভাবে চিন্তাভাবনা করিনি। তবে কারচুপি নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থেকে যায়, কারণ বিগত ১৫ বছরের নির্বাচনে এত বেশি জালিয়াতি হয়েছে যে, অনেকে ভালো নির্বাচন হতে পারে—এমনটা ভাবতেই পারেন না। তবে সার্বিকভাবে মনে হচ্ছে এবারের নির্বাচন ভালো হবে এবং কোনো ধরনের জালিয়াতি কার্যকর প্রভাব ফেলতে পারবে না।’
মাঠ প্রশাসন জামায়াতে ইসলামীর সাজানো বলে যে অভিযোগ আছে, সে প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ গণমাধ্যমে এসেছে। কিন্তু আমি বিষয়টিকে সেভাবে দেখছি না। সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তারা তাঁদের দায়িত্ব পালন করবেন বলেই আমার ধারণা। রাজনৈতিক মতামত অনেকের থাকতে পারে, কিন্তু দায়িত্ব পালনে সবারই নিয়ম মেনে কাজ করা উচিত। এবারের নির্বাচনে নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্যের ব্যবস্থা থাকার ফলে তথাকথিত নির্বাচনী জালিয়াতির আশঙ্কা দেখছি না।’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচন নিয়ে সারা দেশে অনেক কথাবার্তা চলছিল, বিশেষ করে সংবাদমাধ্যমে। অনেক দিন ধরে নির্বাচন না হওয়ায় সবার মধ্যে উদ্বেগ ছিল। তবে এখন পর্যন্ত এবারের নির্বাচনের পরিবেশ ভালো। প্রথম দিকে কিছু ঘটনা ঘটেছিল, তারপর সবাই সংযত হয়েছে। এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ অনুকূলেই আছে।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঠাকুরগাঁও সফর এলাকার রাজনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, তাঁর সফর বিএনপির রাজনীতিকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে।
নির্বাচন নিয়ে বিএনপির প্রত্যাশা সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা একটাই। দীর্ঘ ১৫–১৬ বছর ধরে আমরা গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও শক্তিশালী করার জন্য লড়াই করে যাচ্ছি। এই নির্বাচন হবে একটি গেটওয়ে। গেটওয়ে পার হলে আমরা গণতান্ত্রিক পরিবেশে ফিরে যেতে পারব। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে রাষ্ট্র ও সমাজে গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ সৃষ্টি হবে। তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে এই নির্বাচনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।’
নির্বাচনকে ঘিরে সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে নির্বাচন যেন সুষ্ঠু হয়, এজন্য রাজনৈতিক দলগুলো সতর্কতার সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আমি আশাবাদী, নির্বাচন ভালো হবে।’
নির্বাচনের ফলাফল যা-ই হোক, বিএনপি কি তা স্বাগত জানাবে—এই প্রশ্নের উত্তরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা সবসময় স্বাগত জানিয়েছি। ২০০৮ সালে যখন আমরা ৩০টি আসন পেয়েছিলাম, তখনও সংসদে গিয়েছিলাম।’
১১ দলীয় জোটের প্রচারণা সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একটি দল যখন আত্মপ্রকাশ করে, তখন তার আওয়াজ বেশি হয়। আর জামায়াত অত্যন্ত কৌশলী দল, তারা বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালায় এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। তবে এসব খুব একটা কাজ হয় না।’
হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আশঙ্কা আছে কি—এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আশঙ্কা থাকতে পারে। বাংলাদেশ তো রাতারাতি স্বর্গ হয়ে যাবে না। কিছু সমস্যা থাকলেও আমরা যারা ইতিবাচক রাজনীতি করছি, আমরা সবাইকে ভোটকেন্দ্রে যেতে উৎসাহ দিচ্ছি। বলছি, ভোটকেন্দ্রে যান, যাকে খুশি তাকে ভোট দিন। এটা আপনার অধিকার। প্রশাসনও এভাবেই বলছে। আমরা আশাবাদী, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও মুসলমান সবাই ভোটকেন্দ্রে যাবেন।’
এই নির্বাচন নিয়ে বিএনপি কি চাপে—এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা প্রতিটি নির্বাচনকে গুরুত্ব সহকারে নেই। প্রতিটি প্রতিদ্বন্দ্বী দলকেই সিরিয়াসলি নিচ্ছি এবং সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা আশাবাদী এবার বিএনপি ল্যান্ডস্লাইড জয় পাবে।’

Comments
Comments