[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

সিলেটে কমিশনার থেকে মেয়র আরিফুল এবার হলেন এমপি

প্রকাশঃ
অ+ অ-
সিলেট ৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৮১ হাজার ৬০৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। সিলেট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসে বিজয় চিহ্ন দেখান তিনি। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টায়  | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

সিলেটে এক নামেই তাঁর পরিচয়। কেউ ডাকেন ‘আরিফ ভাই’, কেউ বলেন ‘মেয়র সাব’। এরপরই যে মুখটি সবার চোখে ভেসে ওঠে, তিনি আরিফুল হক চৌধুরী। সিলেট সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কমিশনার (বর্তমান পদের নাম কাউন্সিলর) হিসেবে তিনি প্রথম জনপ্রতিনিধি হন। এরপর টানা দুই দফা মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বেসরকারিভাবে তাঁকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন। আরিফুল হক পেয়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪৬ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের জয়নাল আবেদীন পেয়েছেন ৭১ হাজার ৩৯১ ভোট।

 
মানুষ যে বিপুল সমর্থন দিয়ে আমাকে এমপি নির্বাচিত করেছেন, এর ঋণ শোধ করার মতো কোনো ক্ষমতা আমার নেই। তবে এ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, সুখে-দুঃখে সিলেট-৪ আসনের মানুষের পাশে আমৃত্যু থাকব।
আরিফুল হক চৌধুরী, বিএনপি প্রার্থী, সিলেট–৪
যোগাযোগ করলে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘মানুষ যে বিপুল সমর্থন দিয়ে আমাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন, এ ঋণ শোধ করার ক্ষমতা আমার নেই। তবে আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, সুখে-দুঃখে সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর) আসনের মানুষের পাশে আমৃত্যু থাকব। নির্বাচনী প্রচারের সময় যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সেগুলো পূরণ করাই হবে আমার একমাত্র লক্ষ্য।’

সিলেট বিএনপির সূত্রে জানা গেছে, সিলেট-১ (নগর ও সদর) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন আরিফুল হক। তবে ওই আসনে মনোনয়ন পান বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। এর আগে দলের উচ্চপর্যায় থেকে সিলেট-১–এর পরিবর্তে কয়েক দফা সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী হওয়ার কথা বলা হলেও তিনি রাজি হননি। গত ৫ নভেম্বর রাতে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁকে সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী হতে নির্দেশ দেন। পরে ৭ নভেম্বর থেকে তিনি নির্বাচনী এলাকায় প্রচার শুরু করেন। ৪ ডিসেম্বর তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার ঘোষণা আসে।

আরিফুল হক বর্তমানে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা। এর আগে তিনি দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি সিলেট জেলা বিএনপিরও সদস্য। অতীতে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আগে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, শহর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং এমসি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

চারদলীয় জোট সরকারের সময় সিলেট-১ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য এবং তখনকার বিএনপি–দলীয় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের আস্থাভাজন হিসেবেই মূলত তাঁর রাজনৈতিক উত্থান ঘটে। ২০০৩ সালে তিনি সিলেট সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার নির্বাচিত হন। পাশাপাশি তিনি সিটি করপোরেশনের নগর উন্নয়ন ও পরিকল্পনা কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। সে সময়ে প্রয়াত অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের সিলেটকেন্দ্রিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তিনি দেখভাল করতেন। তখন অনেকেই তাঁকে ‘ছায়া অর্থমন্ত্রী’ বলেও মনে করতেন।

২০১৩ সালে আরিফুল হক আওয়ামী লীগের প্রয়াত মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে হারিয়ে প্রথমবার মেয়র নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের চারটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয় পান। একমাত্র সিলেটে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আরিফুল হক মেয়র হন। তবে সর্বশেষ ২০২৩ সালে বিএনপি সিটি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তিনি প্রার্থী হননি।
 
বিএনপির মনোনয়নে আরিফুল হক টানা দুই মেয়াদে মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়ে সিলেটে উল্লেখযোগ্য উন্নয়নকাজ করেছেন। দলের দৃষ্টিভঙ্গি নির্বিশেষে তিনি সব মহলের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন। ২০২৩ সালের ২১ জুন সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে দলের বাইরের ভোটাররা তাকে অংশ নেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। তবে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করায় জয় প্রায় নিশ্চিত জেনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হননি। এই কারণে দলের নেতা-কর্মীদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পায়।

আরিফুল হকের ঘনিষ্ঠ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক সিদ্দিকী বলেন, দুইবারের মেয়র আরিফুল হক সিলেট-১ আসনে শক্ত অবস্থান রাখেন। এই আসনে প্রার্থী হলে বিপুল ভোটে জয় পেতেন বলে সবার ধারণা ছিল। তবে যে আসনে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, সেটি তার জন্য নতুন ছিল। এছাড়া আসনটি জামায়াতের জন্য সম্ভাবনাময় ছিল। তবু অল্প সময়ের মধ্যে তিনি সেখানে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে মানুষের মন জয় করতে সক্ষম হন। এ কারণে তিনি বিশাল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। 
Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন