[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

রাজশাহীতে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে আওয়ামী লীগ নেতার প্রচার

প্রকাশঃ
অ+ অ-
সুনন্দন দাস | ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় নেমেছেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক নেতা। প্রচারে গিয়ে তিনি মানুষকে বলছেন, ‘আমাদের একটা আশ্রয় বা ছাতা দরকার।’ তাঁর এই প্রচারণার একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

আওয়ামী লীগের ওই নেতার নাম সুনন্দন দাস রতন। তিনি গোদাগাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহপ্রচার সম্পাদক এবং তাঁর বাড়ি গোদাগাড়ীর প্রেমতলী গ্রামে। মঙ্গলবার সাব্বির রহমান নামের নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের এক কর্মী ৫৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীনের পক্ষে ওই নেতাকে ভোট চাইতে দেখা যায়।

যোগাযোগ করা হলে সুনন্দন দাস জানান, ভিডিওটি গোদাগাড়ীর মোহনপুর ইউনিয়নে প্রচারের সময়কার। তিন-চার দিন আগে কেউ এটি ভিডিও করেছিলেন। নিয়মিত ধানের শীষের প্রচারণা করছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যখন সুযোগ হয়, মাঝে মাঝেই যাচ্ছি।’

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, তিনজন ব্যক্তিকে সুনন্দন দাস বলছেন, ‘এবারকার নির্বাচনটা দলমত-নির্বিশেষে আমাদের ধানের শীষেই, শরীফ সাহেবকে দিতে হবে। সে জন্যই আমরা পুরো গোদাগাড়ী উপজেলায় আদিবাসী সম্প্রদায়ের ভেতরে যোগাযোগ করছি। আমাদের একটা ছাতা দরকার। এবার শরীফ সাহেবকেই যেন সবাই ভোট দেয়।’

বিষয়টি অন্যদেরও জানিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘সবাইকে বলে দেবেন, সবাই ভোট দেবে। আমরা সেই পথেই এগোচ্ছিলাম। শরীফ সাহেব জিতলে আমাদের একটা আশ্রয়ের দরকার। আমাদের তো এখন ছাতা দরকার। এটা বলার জন্যই এসেছি। আপনারা পাড়ায় পাড়ায় সবাইকে বলে দেবেন।’

ভিডিওটি ফেসবুকে দিয়ে ছাত্রলীগের কর্মী সাব্বির লিখেছেন, ‘১৭ বছর আওয়ামী লীগের পদ ব্যবহার করে ও সুবিধা নিয়ে আজ নিজের স্বার্থে বিএনপির জন্য ভোট চাচ্ছেন। এই রতন দাস আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। সুদিনে আবার হয়তো রাজনীতি করার সুযোগ খুঁজবেন। তাই আগে থেকে সাবধান হয়ে যান।’

সুনন্দন দাস শুল্ক বিভাগের (কাস্টমস) একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। চাকরিজীবনে তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আছে। আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর নজরে আসার পর তিনি দলে পদ পান। ওমর ফারুক চৌধুরী তাঁকে শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ দেব ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যও করেছিলেন। ২০২৪ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দাঁড়িয়ে তিনি পরাজিত হন।

নানা অভিযোগে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি সুনন্দন দাসকে খেতুরী ধামের ট্রাস্টি বোর্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। গত বছরের জুন মাসে অভিযোগ ওঠে, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব বিশ্বনাথ সরকার এই আওয়ামী লীগ নেতার ব্যক্তিগত গাড়িতে চড়ছেন। তখন বন্ধ কক্ষের ক্যামেরার (সিসি ক্যামেরা) একটি দৃশ্যও সামনে এসেছিল।

ধানের শীষের প্রচারণায় নামতে কেউ নির্দেশনা দিয়েছেন কি না, জানতে চাইলে সুনন্দন দাস বলেন, অনেকেই করছেন, তাই তিনিও করছেন। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে তাঁকে বিপদে না ফেলতে তিনি অনুরোধ করেন।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন