[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

তেঁতুলিয়ায় ফুটেছে রাজসিক সৌন্দর্যের ফুল টিউলিপ, দর্শনার্থীদের ভিড়

প্রকাশঃ
অ+ অ-

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার দর্জিপাড়া এলাকায় ফুটতে শুরু করেছে রাজসিক সৌন্দর্যের ফুল টিউলিপ | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় পঞ্চমবারের মতো ফুটতে শুরু করেছে রাজকীয় সৌন্দর্যের ফুল টিউলিপ। চারদিকে ছড়াতে শুরু করেছে এর মুগ্ধতা। এই নজরকাড়া ফুল দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।

তেঁতুলিয়া উপজেলার ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা দর্জিপাড়া এলাকায় নারী উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে খামার পর্যায়ে শীতের দেশের এই ফুলের চাষ করা হয়েছে। এবারও টিউলিপ উৎপাদনের এই উদ্যোগ নিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)।

গত শুক্রবার বিকেলে দর্শনার্থীদের জন্য টিউলিপ বাগানটি খুলে দেওয়া হয়েছে। এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ইএসডিওর পরিচালক (প্রশাসন) সেলিমা আখতার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইএসডিওর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মুহম্মদ শহীদ উজ জামান এবং সংস্থাটির তরুণ সম্পৃক্ততা ও তথ্যপ্রযুক্তি (ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড আইসিটি) বিভাগের প্রধান (টিম লিডার) শাশ্বত জামান।

টিউলিপ ফুল দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসছেন দর্শনার্থীরা। গত শুক্রবার বিকেলে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার দর্জিপাড়া এলাকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

ইএসডিও জানায়, ক্ষুদ্র চাষি ও উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা, তাঁদের পরিবারের আয় বাড়ানো এবং বিদেশ থেকে টিউলিপ ফুল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। এ ছাড়া পঞ্চগড় জেলাকে পর্যটনের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তোলা এবং পরিবেশবান্ধব ও সামাজিক পর্যটনের (ইকো-কমিউনিটি ট্যুরিজম) সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করাই এর উদ্দেশ্য।

শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, সূর্যের আলো আর তাপ নিয়ন্ত্রণ করার বিশেষ ছাউনির (শেড) নিচে সারি সারি পাঁচ প্রজাতির অন্তত সাড়ে ১২ হাজার টিউলিপ ফুলের গাছ রয়েছে। এর মধ্যে লালিবেলা (লাল) ও মিস্টিক ভ্যান ইজক (গোলাপি) প্রজাতির টিউলিপ ফুটতে শুরু করেছে। দর্শনার্থীরা জনপ্রতি ৫০ টাকার টিকিট কেটে বাগানে ঢুকে টিউলিপের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। বাগানে এসে কেউ ফুলগুলো ছুঁয়ে দেখছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউবা ফোনের ক্যামেরায় নিজের ছবি (সেলফি) তুলছেন। কেউ কেউ আবার ভিডিও কলের মাধ্যমে দূরে থাকা স্বজনদের দেখাচ্ছেন টিউলিপের এই রূপ।

চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণত শীতপ্রধান দেশে টিউলিপ ফুল দেখা যায়। কিন্তু গ্রীষ্মপ্রধান দেশে এই ফুলের দেখা পাওয়া প্রায় অসম্ভব। টিউলিপ চাষের জন্য দিনের বেলা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও রাতে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সহনীয়। এর চেয়ে বেশি তাপমাত্রা হলে গাছ পূর্ণবয়স্ক হওয়ার আগেই মানসম্মত ফুল না-ও ফুটতে পারে। সাধারণত চারা রোপণের ১৮ থেকে ২০ দিনের মধ্যে কলি আসতে শুরু করে এবং ২৫ থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত টিউলিপ ফুল টিকে থাকে। তবে আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে এই সময়ের কমবেশি হতে পারে।

পুরোপুরি টিউলিপ ফুল ফুটলে দর্শনার্থীদের দেখার পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে এসব ফুল বিক্রিও করা হবে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

 প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য এবারও শীতপ্রধান এলাকা হিসেবে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলাকে বেছে নিয়েছে ইএসডিও। গত ১৫ জানুয়ারি উপজেলার দর্জিপাড়া গ্রামের পাঁচজন নারী উদ্যোক্তার মাধ্যমে নেদারল্যান্ডস থেকে আনা টিউলিপ গাছের বাল্ব (বীজ হিসেবে ব্যবহৃত রূপান্তরিত কাণ্ড) লাগানো হয়। মোট ৬০ শতাংশ জমিতে ৫ প্রজাতির সাড়ে ১২ হাজার টিউলিপের চারা রোপণ করা হয়েছে।

এই ফুল ফোটাতে ব্যবহার করা হয়েছে উন্নত কৃষিপ্রযুক্তি। ফুলগুলো একটি বিশেষ ছাউনির (শেড) নিচে চাষ করা হচ্ছে। জাল (নেট) দিয়ে চারপাশ ঘিরে দেওয়া হয়েছে, যা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সূর্যের আলোও নিয়ন্ত্রণ করে। পুরোপুরি টিউলিপ ফুল ফুটলে দর্শনার্থীদের দেখার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে এসব ফুল বিক্রিও করা হবে বলে জানা গেছে।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে টিউলিপ দেখতে সৈয়দপুর থেকে এসেছেন কলেজছাত্রী সায়েস্তা খাতুন। তিনি বলেন, ‘আমরা তেঁতুলিয়ায় বেড়াতে এসেছিলাম। এখানে এসে শুনলাম টিউলিপ ফুটেছে। সুযোগটা হাতছাড়া না করে সবাই মিলে দেখতে এলাম। এর আগে কোনো দিন টিউলিপ সরাসরি দেখিনি। এই ফুল ছুঁয়ে দেখতে পেরে আমি সত্যিই অনেক আনন্দিত।’

টিউলিপের বাগানে এসে কেউ ছুঁয়ে দেখছেন, কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ফুলের সঙ্গে সেলফি নিচ্ছেন | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

বগুড়া থেকে আসা স্কুলশিক্ষক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে তেঁতুলিয়া বেড়াতে এসে টিউলিপ দেখার নতুন অভিজ্ঞতা হলো। বিদেশি এই ফুলের নাম শুনেছি অনেক, কিন্তু এভাবে কাছ থেকে কখনো দেখিনি।’

ইএসডিওর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মুহম্মদ শহীদ উজ জামান বলেন, এবার পঞ্চমবারের মতো চাষিরা টিউলিপ ফুল ফুটিয়েছেন। তেঁতুলিয়ায় পর্যটকদের আকর্ষণ করতে পাঁচ বছর আগে প্রান্তিক নারীদের সঙ্গে নিয়ে টিউলিপ ফুল উৎপাদন শুরু করা হয়। টিউলিপের কারণে তেঁতুলিয়ায় অনেক পর্যটক আসেন, যা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আয় ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তেঁতুলিয়ায় পরিবেশবান্ধব ও সামাজিক পর্যটন (ইকো-কমিউনিটি ট্যুরিজম) গড়ে তোলা হচ্ছে।

২০২২ সালে তেঁতুলিয়ায় প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে উপজেলার শারিয়ালজোত ও দর্জিপাড়া গ্রামের আটজন নারী উদ্যোক্তার মাধ্যমে ৪০ শতাংশ জমিতে ৬ প্রজাতির ৪০ হাজার টিউলিপ ফুলের চাষ শুরু করেছিল ইএসডিও।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন