[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

ভালুকায় বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ

প্রকাশঃ
অ+ অ-
ময়মনসিংহের ভালুকায় বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সমর্থক ছাত্রদল নেতার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়। রোববার সন্ধ্যায় ভালুকা বাসস্ট্যান্ডে এলাকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) সংসদীয় আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী ও দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার সন্ধ্যা থেকে দফায় দফায় এই হামলা চলে। এতে বিএনপির দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর হয় এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম ভালুকার বাটাজোড় এলাকায় গণসংযোগ করতে যান। সন্ধ্যার আগমুহূর্তে ধানের শীষের সমর্থকেরা তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে স্থানীয়রা স্বতন্ত্র প্রার্থীকে গাড়িতে তুলে নিলে তিনি স্থান ত্যাগ করেন।

এই ঘটনার খবরে সন্ধ্যার দিকে ভালুকা পৌর সদর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় পাঁচ-সাতজন আহত হন এবং কয়েকটি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর হয়। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বিএনপির দলীয় লোকজন জড়ো হয়ে পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব আদি খানের (শাকিল) কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

এর পাশাপাশি ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী মোর্শেদ আলমের ভালুকা পৌর সদরের কার্যালয়েও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সীড স্টোর বাজারে যুবদলের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয় এবং সড়কে আগুন দেওয়া হয়। আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন।

ভাঙচুরের শিকার বিএনপির কার্যালয়। রোববার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহের ভালুকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

রাত আটটার দিকেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। রাত পৌনে ১০টার দিকে পৌরশহরে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি শান্ত হলেও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কার্যালয়ে ভাঙচুর ও উত্তেজনা চলছিল। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার জের ধরে পৌর এলাকার সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।

নির্বাচনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করা ভালুকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীকে প্রচারণার সময় ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা থেকে উভয় পক্ষের লোকজন একে অপরের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে। আজ সন্ধ্যায় এ গন্ডগোল শুরু হয় এবং কিছু স্থানে আগুন দেওয়া হয়। চার–পাঁচটি স্পটে এসব ঘটনা ঘটে এবং নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।

রাত আটটার দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম বলেন, ‘তিন দিন ধরেই নির্বাচনী প্রচারে ধানের শীষের প্রার্থীর লোকজন বিভিন্নভাবে আমাকে ও আমার নেতা–কর্মীদের বাধা দিচ্ছিল। আজ সন্ধ্যায় গণসংযোগ শেষে ফেরার পথে পেছন থেকে এসে আমাকে ঘেরাও করে হামলা চালায়। পরে স্থানীয়রা আমাকে গাড়িতে তুলে নিরাপদে পাঠায়। এর আগে উপজেলার কাঁঠালি এলাকায় আমার দুজন কর্মীকে মাইক্রোবাসসহ আটকে মারধর করা হয়। আমার দলীয় কার্যালয়, ছাত্রদলের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এখনো ভাঙচুর চলছে এবং বিভিন্ন জায়গায় ঝামেলা চলছে। আমি সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাব।’

বিএনপির দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের সময় সেখানে থাকা কর্মীরা জানিয়েছেন, শ্রমিক দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন পরিচালনা–সংক্রান্ত সভা করার সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজন অতর্কিত হামলা চালায়। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে বিএনপির দলীয় প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি বলেন, দলীয় কার্যালয়ে কারা হামলা করেছে, তা শনাক্ত করে পরে জানাবেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীর অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘অনেকে অভিযোগ করতে পারে, এতে কী আসে যায়।’

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন