হোটেল ওলিওতে বোমা হামলা মামলার সব আসামি খালাস
![]() |
বিস্ফোরণে হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনাল চতুর্থ তলার রাস্তার দিকের অংশের দেয়াল ও গ্রিল ধসে পড়ে। ১৩ জানুয়ারি, ২০২১ | ফাইল ছবি |
আট বছর আগে ১৫ আগস্ট রাজধানীর পান্থপথে হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১১ আসামিকে খালাস দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। ৫ জানুয়ারি ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আবদুল হালিম এই আদেশ দেন।
আজ রোববার আসামিপক্ষের আইনজীবী সুব্রত দেবনাথ রানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি এ মামলার আসামিদের মধ্যে পাঁচজনের আইনজীবী ছিলেন।
সুব্রত দেবনাথ বলেন, ‘২০১৭ সালে মামলা দায়েরের পর ২০২১ সালের ১৩ জানুয়ারি অভিযোগ গঠন হয়। এত দীর্ঘ সময়ে মামলার বাদী শুধু নিজস্ব সাক্ষ্য দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষ দীর্ঘদিন সাক্ষী আনতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা আদালতকে বিষয়টি জানাই। পরে গত ৫ জানুয়ারি আদালত সব আসামিকে খালাস দেন।’
খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন তাজরিম খানম, নও মুসলিম আবদুল্লাহ, নাজমুল হাসান মামুন, আবদুল্লাহ আইচান, মো. কামরুল ইসলাম, আকরাম হোসেন খান, তারেক মোহাম্মদ আদনান, তানভীর ইয়াছির করিম, সাদিয়া হোসনা, আবুল কাশেম ফকির ও হুমায়রা জাকির নাবিলা। অভিযোগপত্রে তাদের নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন নব্য জেএমবির সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
আদেশে বিচারক উল্লেখ করেন, ‘আসামিপক্ষের আইনজীবী ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ২৬৫(এইচ) ধারায় একটি দরখাস্ত করেন। সেখানে বলা হয়, মামলাটি তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে রাজনৈতিক কারণে অহেতুক দায়ের করা হয়েছিল। তৎকালীন আইজিপি শহীদুল হক তাঁর লিখিত বইয়ে উল্লেখ করেন, (ধানমন্ডি ৩২–এর এত কাছে) ঘটনাটি না ঘটালেও তা ঘটতে পারত। উল্লেখ্য, আইজিপি শহীদুল হক সরকার পরিবর্তনের পরে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে জেলহাজতে রয়েছেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিলে মামলাটির সত্যতা নিয়ে গভীর সন্দেহ থেকে যায়।’
আদেশে আরও বলা হয়, নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, আসামিরা সবাই তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারবিরোধী নেতা–কর্মী। দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দেখা যায়, সরকারবিরোধী কর্মসূচি আহ্বান ও বাস্তবায়নে ক্ষমতাসীনরা বাধা দেয় এবং মামলা দিয়ে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে চায়। আদালত বিশ্বাস করেন, আলোচ্য মামলায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সব বিবেচনায় ১১ আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হলো।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের ১৫ আগস্ট শোক দিবসের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে হামলাকারীরা বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল। দেশের অন্যান্য স্থানের মতো রাজধানীতেও শোক পালনের দিন নিরাপত্তা জোরদার রাখা হয়। সেই দিন রাতের সময় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিট হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনাল ঘেরাও করে। হোটেলের ৩০১ নম্বর কক্ষে থাকা এক যুবককে বারবার আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হলেও সে সাড়া দেয়নি। ভেতর থেকে বোমা বিস্ফোরণের হুমকি দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ১৬ আগস্ট সকাল ৯টা ৪২ মিনিটে সোয়াট সদস্যরা চূড়ান্ত অভিযান শুরু করলে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম নিজের কাছে থাকা বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মঘাতী হন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় হোটেলের দেয়াল ও রেলিং ধসে রাস্তায় পড়ে। মূল হামলাকারী সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
হামলার ঘটনায় ১৬ আগস্ট কলাবাগান থানায় তৎকালীন ঢাকা মহানগর পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ ইমরুল সাহেদ সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ১৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। দুই বছরের তদন্ত শেষে ২০১৯ সালে পুলিশ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে ৯ জন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

Comments
Comments