[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে এনসিপির সারজিস ও বিএনপির নওশাদকে শোকজ

প্রকাশঃ
অ+ অ-
সারজিস আলম ও নওশাদ জমির | ছবি: সংগৃহীত

পঞ্চগড়-১ (সদর-তেঁতুলিয়া-আটোয়ারী) আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে বিএনপির প্রার্থী নওশাদ জমির এবং ১০-দলীয় জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার বিকেলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান পৃথকভাবে তাঁদের নোটিশ পাঠান।

নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, তাঁরা আচরণবিধি অমান্য করে তোরণ নির্মাণ, ব্যানার-ফেস্টুন ব্যবহার এবং রিটার্নিং কর্মকর্তাকে না জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সশরীর বা প্রতিনিধির মাধ্যমে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সারজিস আলমকে দেওয়া নোটিশে বলা হয়েছে, ‘গত ২৩ জানুয়ারি পঞ্চগড়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় আপনার নির্বাচনী জোটপ্রধানকে স্বাগত জানিয়ে তোরণ, বিলবোর্ড ও ব্যানার স্থাপন করেছেন। আচরণবিধি ২০২৫-এর বিধি ৭ (চ) অনুযায়ী, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী যদি কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কর্তৃক মনোনীত হন, তাহলে তিনি কেবল তাঁর বর্তমান দলীয় প্রধানের ছবি, ব্যানার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন ব্যবহার করতে পারবেন। অথচ আপনি নিজের দলীয় প্রধান ব্যতীত অন্য দলীয় প্রধানের সঙ্গে ছবি ব্যবহার করে ব্যানার ও বিলবোর্ড স্থাপন এবং নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহার করেছেন, যা আচরণবিধি ৭ (চ)-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, ‘আচরণবিধিতে তোরণ নির্মাণ না করার নির্দেশ থাকলেও আপনি তিনটি তোরণ নির্মাণ করেছেন। গত ২৩ জানুয়ারি পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে ১০-দলীয় জোটের জনসভায় গেট বা তোরণ নির্মাণ করে আচরণবিধি ১৩ (ক) লঙ্ঘন করেছেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপনার ফেসবুক আইডি রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট দাখিল না করে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হয়েছে, যা আচরণবিধি ১৬ (ক)-এর লঙ্ঘন। এমতাবস্থায় নির্বাচনী আচরণবিধি ৭ (চ), ১৩ (ক) ও ১৬ (ক) লঙ্ঘনের দায়ে কেন আপনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা লিখিতভাবে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিম্নস্বাক্ষরকারীর কার্যালয়ে সশরীরে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দিলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী নওশাদ জমিরকে দেওয়া নোটিশে বলা হয়েছে, ‘গত ২৩ জানুয়ারি বিকেল থেকে জেলা রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশনায় পুলিশ ও পঞ্চগড় পৌরসভার সহযোগিতায় সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পঞ্চগড় এলাকায় নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনের জন্য অভিযান চালান। এ সময় আপনার বা আপনার কর্মী-সমর্থকদের মাধ্যমে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি দেখতে পান। পরে তিনি রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশে প্রথমে আচরণবিধি ১৩-এর লঙ্ঘনের দায়ে ১০-দলীয় জোটের তিনটি তোরণের মধ্যে দুটি তোরণ পৌরসভার সহযোগিতায় অপসারণ করেন। পরে করতোয়া ব্রিজের দুই পাশে আচরণবিধি ৭ (গ) লঙ্ঘন করে স্থাপিত বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছ থেকে ফেস্টুন অপসারণ শুরু করা হয়। এ সময় আপনার কয়েকজন নেতা-কর্মী এ কাজে বাধা দেন এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। আচরণবিধি অনুযায়ী ফেস্টুনের অনুমোদিত আকার ১৮ ইঞ্চি x ২৪ ইঞ্চি, কিন্তু আপনি আনুমানিক ৬ ফুট x ৩ ফুট আকারের ফেস্টুন স্থাপন করেছেন, যা বিধি ৭ (৩)-এর লঙ্ঘন। আপনারা ফেস্টুন অপসারণের নির্দেশ উপেক্ষা করেছেন। পরে ওই ফেস্টুন অপসারণের চেষ্টা করা হলেও আপনার কর্মীদের বাধার কারণে তা সম্ভব হয়নি।’

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, ‘আচরণবিধি অনুযায়ী আপনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফেসবুক আইডি রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাখিল না করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন, যা আচরণবিধি ১৬ (ক)-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এছাড়া আপনার কর্মী-সমর্থকরা নির্বাচনী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়েছেন, উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেছেন এবং তাঁকে দায়িত্ব পালনে বাধা দিয়েছেন। এ ছাড়া গভীর রাতে জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের সামনে অবৈধ জমায়েত হয়ে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেছেন এবং সরকারি গণভোটের প্রচারণা ব্যানার ছেঁড়ার হুমকি দিয়েছেন, যা আচরণবিধি ১৫ (গ)-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’

নোটিশে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, নির্বাচনী আচরণবিধি ৭ (গ), ৭ (৩), ১৩, ১৫ (গ) ও ১৬ (ক) লঙ্ঘন এবং সরকারি গণভোটের প্রচারণা ব্যানার ছেঁড়ার হুমকির দায়ে কেন প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা লিখিতভাবে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সশরীর বা প্রতিনিধির মাধ্যমে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দিলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিষয়ে সারজিস আলমের মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। বিএনপির প্রার্থী নওশাদ জমিরের নির্বাচনী এজেন্ট ও ছোট ভাই নওফেল জমির বলেন, ‘আমরা নোটিশটি পেয়েছি। এ বিষয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’ 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন