[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

চট্টগ্রামে আইনজীবী হত্যাকাণ্ড: চিন্ময়সহ ৩৯ জনের বিচার শুরু হবে

প্রকাশঃ
অ+ অ-
মাথায় হেলমেট, ওপরে ছাতা ধরে আছেন একজন পুলিশ সদস্য। এভাবেই কড়া নিরাপত্তার মধ্যে চট্টগ্র্রামে আইনজীবী হত্যা মামলায় আদালতে হাজির করা হয় চিন্ময় দাসকে। আজ সকালে তোলা | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক জাহিদুল হক শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি এস ইউ এম নুরুল ইসলাম আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘চিন্ময়সহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী ধার্য দিনে সাক্ষ্য নেওয়া শুরু হবে।’

চট্টগ্রামে আইনজীবী হত্যা মামলার শুনানিকে ঘিরে আদালতপাড়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। আজ সকালে তোলা | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

আলোচিত এই হত্যা মামলার শুনানিকে ঘিরে চট্টগ্রামের আদালতপাড়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। মূল ফটকে বসানো হয় তল্লাশিচৌকি। এতে আদালতের আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের কারণে মানুষকে দুর্ভোগ পেতে হয়। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সকাল পৌনে ১০টার দিকে চিন্ময়সহ এই মামলার ২৩ আসামিকে চট্টগ্রাম কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার বাকি ১৬ জন পলাতক।

শুনানিতে চিন্ময়কে নির্দোষ দাবি করে তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতির জন্য আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ এতে আপত্তি জানায়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এর আগে আদালতে উপস্থিত আসামিদের তাঁদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ পড়ে শোনান বিচারক। এ সময় চিন্ময় দাস বলেন, তিনি নির্দোষ এবং এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। মামলায় দেওয়া অভিযোগপত্রটি ত্রুটিপূর্ণ।

এদিকে আদালতে হাজির হন আইনজীবী সাইফুলের বাবা জামাল উদ্দিন। আদালত প্রাঙ্গণে তিনি বলেন, ‘আসামিদের বিচার শুরুর আজ আদেশ হয়েছে, আমি এতে খুশি। বিচারটি যাতে দ্রুত শেষ হয়, ছেলে হত্যার বিচার দেখে যাতে মরতে পারি, সেটিই চাই।’

গত বছরের ১ জুলাই সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসসহ ৩৮ জনকে আসামি করে চট্টগ্রাম আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে বাদী না-রাজি দিলে একই বছরের ২৫ আগস্ট আদালত আসামি সুকান্ত দত্তসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। গত মাসে মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হয়ে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আসে।

২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের মধ্যে আইনজীবী সাইফুলকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যার ঘটনায় তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। এ ছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, কাজে বাধা, এবং আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও পাঁচটি মামলা হয়।

আদালতে আসেন আইনজীবী সাইফুলের বাবা জামাল উদ্দিন। আজ সকালে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

আদালত সূত্র জানায়, সাইফুল হত্যার আসামিদের মধ্যে চন্দন দাস, রিপন দাস ও রাজীব ভট্টাচার্য আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এতে উল্লেখ করা হয়, রিপন দাস আইনজীবীর ঘাড়ে বঁটি দিয়ে দুটি কোপ দেন; আর চন্দন দাস কিরিচ দিয়ে কোপান। পরে রাস্তায় পড়ে থাকা সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরা এই আইনজীবীকে লাঠি, বাটাম, ইট, কিরিচ ও বঁটি দিয়ে ১৫ থেকে ২০ জন পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেন। ঘটনার উসকানিদাতা হিসেবে চিন্ময়কে এই মামলার আসামি করা হয়।

২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা করেন। পরে ফিরোজ খানকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণকে ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন