[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

ভোট প্রচার শুরুর দিন থেকে ঢাকায় জোরালো পুলিশ অভিযান

প্রকাশঃ
অ+ অ-
ঢাকা মহানগর পুলিশ |  ছবি: ডিএমপির ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচার–প্রচারণা শুরু হওয়ার দিন ২২ জানুয়ারি থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জোরালো অভিযান চালাবে। ওই দিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ডিএমপি সদর দপ্তরসহ আটটি অপরাধ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মাঠে উপস্থিত থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং পুলিশের তৎপরতা তদারক করবেন।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং ফ্যাসিস্টদের দমনে সারা দেশে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ ২’ চলছে। এর অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচার–প্রচারণা শুরু হওয়ার দিন থেকে রাজধানীতে আরও জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হবে।

ডিএমপি সূত্র জানায়, সোমবার ডিএমপি সদর দপ্তরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর নেতৃত্বে সকাল ১১টায় শুরু হয়ে সভা চলেছে দুপুর ১টা পর্যন্ত। এতে ডিএমপির সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), অপরাধ বিভাগের উপকমিশনার এবং সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর অবস্থানে থাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

—কোনো পুলিশ সদস্য কোনো প্রার্থীর পক্ষ নেবেন না। —কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা প্রার্থীদের দেওয়া কোনো খাবার গ্রহণ করতে পারবেন না। —সুষ্ঠু ভোট অনুষ্ঠানে পুলিশ সদস্যদের নিরপেক্ষ থাকতে হবে।

পুলিশের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা মহানগরের ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বের বিষয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচার–প্রচারণা শুরু হওয়ার দিন অর্থাৎ ২২ জানুয়ারি থেকে ডিএমপির বিশেষায়িত কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট এবং গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) মোতায়েন থেকে ঢাকায় সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জোরালো অভিযান চালানো হবে।

ডিএমপির সহকারী কমিশনার থেকে শুরু করে অতিরিক্ত কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তারা ওই দিন থেকে মাঠে উপস্থিত থাকবেন। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং মাঠপর্যায় পুলিশের তৎপরতা তদারক করবেন। কোনো পুলিশ সদস্য কোনো প্রার্থীর পক্ষ নেবেন না। কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা প্রার্থীদের দেওয়া কোনো খাবার গ্রহণ করতে পারবেন না। সুষ্ঠু ভোট অনুষ্ঠানে পুলিশ সদস্যদের নিরপেক্ষ থাকতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া, কোনো ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের ভোটদানে প্রতিবন্ধকতা বা সমস্যা হলে পুলিশ কর্মকর্তারা আগাম তথ্য দিয়ে সহায়তা করবেন।

ডিএমপি সূত্র জানিয়েছে, ঢাকায় নিরাপত্তার ঝুঁকি অনুযায়ী কেন্দ্রগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ এবং ঝুঁকি নেই এমন কেন্দ্রগুলোকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করে নিরাপত্তার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঢাকায় মোট ২ হাজার ১৩১টি কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে ২৫ হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ১ হাজার ৮২৮টি এবং সাধারণ কেন্দ্র রয়েছে ৩০৩টি। পুলিশের বাইরে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় ১০ জন আনসার সদস্য ও সহকারী সেকশন কমান্ডার পদে একজন আনসার সদস্য অস্ত্রসহ থাকবেন। এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তার নিরাপত্তায় একজন অস্ত্রসহ আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটের আগে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কেন্দ্রগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। সেই তথ্য যাচাই–বাছাই করে ডিএমপি কমিশনারের কাছে প্রতিবেদন দিতে হবে।

ডিএমপির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, ভোট গ্রহণের তিন-চার দিন আগে রাজধানীতে তিন হাজার গাড়ি রিকুইজিশন করা হবে। এসব গাড়িতে ভোটের সরঞ্জাম এবং নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের আনা–নেওয়া করা হবে। এছাড়া পুলিশের টহল দলও এসব গাড়ি ব্যবহার করবে।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন