[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

দেড় বছর পার, পরীক্ষার ফলাফলের কোনো খোঁজ নেই

প্রকাশঃ
অ+ অ-
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় | ফাইল ছবি

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাউবি) মিডিয়া বিভাগের পরিচালক নিয়োগ পরীক্ষা হয়েছিল ২০২৪ সালের ৩১ মে। পেরিয়ে গেছে দেড় বছর, তবু লিখিত পরীক্ষার ফলাফল এখনও প্রকাশ হয়নি। ফলাফল প্রকাশ না হলেও ইতোমধ্যে সেই পদে একজনকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যিনি লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রার্থী কিনা তা স্পষ্ট নয়। এই ঘটনায় দ্রুত ফল প্রকাশের দাবিতে লিখিতভাবে উপাচার্য বরাবর আবেদন করেছেন পরীক্ষায় অংশ নেওয়া আরেক প্রার্থী। সেই আবেদনের এক বছর পার হয়ে গেলেও এখনও তা আমলে নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাউবি মিডিয়া বিভাগের পরিচালক পদে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর ও বাইরের প্রার্থী মিলিয়ে সাতজন আবেদন করেছিলেন। লিখিত পরীক্ষার জন্য যোগ্য বিবেচিত হন দু’জন, একজন আসলাম শিকদার এবং অপরজন বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া বিভাগের যুগ্ম-পরিচালক শরীফ মো. শাহাবুদ্দীন। ২০২৪ সালের ৩১ মে গাজীপুর ক্যাম্পাসে উপাচার্য অফিসে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

জানা গেছে, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ২১ আগস্ট পরীক্ষা প্রার্থী শরীফ মো. শাহাবুদ্দীনকে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (মিডিয়া) হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় লিখিত ফল প্রকাশ করেনি। পরিচালক পদে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেওয়ার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখে কর্তৃপক্ষ।

২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া আসলাম শিকদার উপাচার্য বরাবর লিখিত আবেদন করেন। ইতোমধ্যে তার আবেদনের এক বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হয়নি বলে তিনি জানান।

লিখিত আবেদন সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১২ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। বিশেষ কারণে সেই বিজ্ঞপ্তি ২০২২ সালের ২৩ জুন পুনঃপ্রকাশ করা হয় এবং নতুন প্রার্থী আহ্বান করা হয়। আবেদনের শেষ তারিখ ছিল ৩১ জুলাই ২০২২। অন্যান্য পদের মধ্যে অফিসার ও সহকারী পরিচালক পদে ২০২৩ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর এবং উপ-পরিচালক পদে ১৬ নভেম্বর নিয়োগ দেওয়া হয়। ৩১ মে ২০২৪-এ মিডিয়া বিভাগের পরিচালক পদে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর উপাচার্যকে চাপ দেওয়া হয় পরিচালক পদে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দিতে। এরপরই শাহাবুদ্দীনকে দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়।

আসলাম শিকদার  বলেন, 'আমরা যে পদের জন্য আবেদন করেছি, সেই পদে পরীক্ষা দেওয়া শরীফ মো. শাহাবুদ্দীনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তিনি পরবর্তী পরীক্ষায় আমাদের তুলনায় অনেক এগিয়ে গেছেন। এই ধরনের ঘটনা ও দেরি স্বাভাবিকভাবেই মানসিক উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি করে। আমি এ বিষয়ে উপাচার্যকে লিখেছি, কোনও অভিযোগ করিনি। আজ পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়নি, ফলে মৌখিক পরীক্ষাও নেওয়া হয়নি।' 

তিনি আরও বলেন, 'নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতার পর লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হলেও দেড় বছরেও ফল প্রকাশ হয়নি। অথচ একজন প্রার্থীকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।' 

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, 'আমার নিয়োগের আগেই পরিচালক পদে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষার কাগজপত্র আমার কাছে নেই। আগের উপাচার্য চলে গেছেন, আগের রেজিস্ট্রারও নেই। কাগজপত্র পেলে যদি প্রক্রিয়া ঠিক থাকে, পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কাগজপত্র না পাওয়া গেলে নতুনভাবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে। এছাড়া ভারপ্রাপ্ত একজন দায়িত্ব পালন করছেন। এই অবস্থায় আমার করার কিছু নেই।' 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন