[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

বিএনপির দুই মনোনয়নপ্রত্যাশীর পাল্টাপাল্টি মহড়া, এলাকায় উত্তেজনা

প্রকাশঃ
অ+ অ-
শেখ মুজিবুর রহমান (বাঁয়ে) ও সৈয়দ এহসানুল হুদা | ছবি : সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে দুই নেতার সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি মহড়ার কারণে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে দুই পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগও করেছে। নির্বাচনের সময় কাছাকাছি আসায় প্রার্থিতা নিয়ে সংঘাত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এখনো কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি কোনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি। তবে মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় পর্ষদের সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান (ইকবাল) এবং ১২–দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জাতীয় দলের সভাপতি সৈয়দ এহসানুল হুদা। দুজনের বাড়ি বাজিতপুর উপজেলায়। মুজিবুর রহমান দলীয় মনোনয়ন চান, আর এহসানুল হুদা জোটের প্রার্থী হতে চান। তারা প্রতিদিন নানা ধরনের মহড়া দিয়ে নিজেদের অবস্থান দেখাচ্ছেন।

গত শনিবার সকালেই শেখ মুজিবুর রহমানের কর্মী-সমর্থকরা বাজিতপুরে দীর্ঘ মানববন্ধন করেন মনোনয়নের দাবিতে। বিকেলে পাল্টা শোডাউন দেন এহসানুল হুদার অনুসারীরা। দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে বাজিতপুরের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন এবং কিছু মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। যৌথ বাহিনীর অভিযানে ২২ জনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ছয় রাউন্ড গুলি, একটি বিদেশি পিস্তল ও দেশি অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মনোনয়নকে কেন্দ্র করে এক সপ্তাহ আগে থেকে দুই মনোনয়নপ্রত্যাশী একে অপরের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়া শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে দুই পক্ষের অভিযোগ, দুই নেতাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। ফেসবুকেও তারা একে অপরের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছেন। এছাড়া ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রতিদিন দুই পক্ষের সমর্থকরা মিছিল করছেন, প্রতিপক্ষকে হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন এবং স্লোগান দিচ্ছেন। এতে এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

স্থানীয়রা বলছেন, শনিবারের সংঘাতের পরও দুই পক্ষের অনুসারীরা থামেনি। ঘটনার পর থেকে মিছিল চালিয়ে তারা একে অপরের বিরুদ্ধে দোষারোপ ও চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

বাজিতপুর উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমি শুরু থেকেই শেখ মুজিবুর রহমানকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাই এবং মাঠে রয়েছি। এহসানুল হুদার মিছিলে অংশগ্রহণকারীর অধিকাংশই আওয়ামী সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী। আমাদের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান এবং কর্মীদেরও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এহসানুল হুদার কারণে বাজিতপুর ও নিকলীর রাজনৈতিক পরিবেশ এখন সংঘাতপূর্ণ।’

অন্যদিকে বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. শাহ আলম এহসানুল হুদার পক্ষে মাঠে সক্রিয়। তিনি বলেন, ‘শান্তিপ্রিয় দুই উপজেলার রাজনীতি অশান্ত করছে শেখ মুজিবুর রহমানের অনুসারীরা। আমাদের শোডাউনে হামলা চালানোর মাধ্যমে তারা সহিংসতার রাজনীতি শুরু করেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব বড় হতে পারে।’

বিএনপি নেতা শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিবেশ ভালো নেই। এক মনোনয়নপ্রত্যাশী (এহসানুল হুদা) আমার ও সাধারণ সম্পাদক মনিরের নাম নিয়ে কবর খুঁড়ে চলেছেন। অস্ত্রের মহড়া চলছে। বিএনপির বদনাম হচ্ছে। তবে যারা করছে, তারা বিএনপির কেউ না। যৌথ বাহিনীর কাছে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করছি।’

সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, ‘আমার শোডাউনে শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষ হামলা চালিয়েছে। তাদের লোকজন আমাকে সরিয়ে দিতে চাচ্ছে। তবে আমাকে চোখ রাঙিয়ে লাভ নেই, নিজের কবর খুঁড়তে হবে।’ তিনি স্বীকার করেন, মনোনয়ন ইস্যুতে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে গেছে।

এ ছাড়া মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি ও গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম, বাজিতপুর পৌর বিএনপি সভাপতি এহেসান কুফিয়া, সাবেক জিএস মীর জলিল, বিএনপির সমর্থক মোস্তাফিজুর রহমান, আবদুল ওয়াহাব, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহসাধারণ সম্পাদক মাশুক মিয়া এবং নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি বদরুল মোমেন এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছেন।

কিশোরগঞ্জ-৫

একটি মন্তব্য করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন