বয়সের কারণে জয়পুরহাটে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি জটিল
![]() |
| শিশু আবদুল্লাহ তার মায়ের সঙ্গে ষষ্ঠ শ্রেণিতে অনলাইনে ভর্তির আবেদন করতে এসে বয়স জটিলতায় পড়ে। বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে জয়পুরহাট শহরের একটি দোকানে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
জয়পুরহাটে বয়সের সীমার কারণে অনেক শিক্ষার্থী ষষ্ঠ শ্রেণিতে অনলাইনে ভর্তি আবেদন করতে পারছে না। নীতিমালা অনুযায়ী, আবেদন করতে হলে শিক্ষার্থীর বয়স ১১ থেকে ১২ বছরের মধ্যে থাকতে হবে। কিন্তু অনেকের বয়স ১২ বছর পেরিয়ে যাওয়ায় প্রণালী ফরম গ্রহণ করছে না। এতে অভিভাবকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। অনলাইনে ভর্তি আবেদনের শেষ তারিখ আগামী ৫ ডিসেম্বর।
অভিভাবকরা দ্রুত বয়সসীমা শিথিল বা বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, শিশুরা কোনো দোষ করেনি। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন অনিশ্চয়তা মেনে নেওয়া যায় না।
শহরের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখা যায়, অনেক অভিভাবক মুঠোফোন বা সাইবার ক্যাফেতে ভিড় করছেন। কেউ কেউ সন্তানের ভর্তি আবেদন করতে পারছেন না, আবার কেউ বারবার চেষ্টা করেও সিস্টেম থেকে ‘অযোগ্য’ বার্তা পাচ্ছেন।
আক্কেলপুর পৌর শহরের রেলগেট এলাকার কম্পিউটার কম্পোজ ও ফটোস্ট্যাটের দোকানদার সাদ্দাম হোসেন বলেন, বয়সের কারণে গত কয়েক দিনে অনলাইনে দেড়শ শিক্ষার্থী ভর্তির আবেদন করতে পারেননি। অভিভাবকদের অভিযোগ, বয়স মাত্র কয়েক মাস বা কয়েক দিন বেশি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা অযৌক্তিক।
আক্কেলপুর পৌর এলাকার বাসিন্দা ইলিয়াছ আহমেদ কাফি বলেন, ‘আমার মেয়ের জন্মসনদে ৮ নভেম্বর ২০১৩ সাল উল্লেখ আছে। বয়স বেশি হওয়ার কারণে অনলাইনে ভর্তির আবেদন গ্রহণ হচ্ছে না।’
আক্কেলপুর সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল ফজল মো. রায়হান বলেন, ‘বয়সের কারণে ১২ জন শিক্ষার্থীর ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন গ্রহণ হয়নি। বিষয়টি সংশোধনের জন্য ইউএনও স্যারের কাছে আবেদন করেছি।’
জয়পুরহাট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহফুজুর রহমান তালুকদার বলেন, বয়সের জটিলতার কারণে তাদের বিদ্যালয়ের অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি আবেদন করতে পারেনি। এই শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা উচ্চ আদালতে রিট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বয়সের কারণে অনেক শিক্ষার্থী অনলাইনে ভর্তির আবেদন করতে পারেনি বলে স্বীকার করেছেন জয়পুরহাট জেল মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন। তিনি বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণির ভর্তি নীতিমালা শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রণয়ন করেছে। অনলাইন সিস্টেম সেই নীতিমালার ভিত্তিতে চলছে, যেখানে স্থানীয়ভাবে কিছু করার সুযোগ নেই। ইতিমধ্যে বিষয়টি তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
জয়পুরহাট সদর ইউএনও রাশেদুল ইসলাম বলেন, বয়সের জটিলতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী অনলাইনে ভর্তি আবেদন করতে পারেনি। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা বিষয়টি তাঁকে জানিয়েছেন। অভিভাবকরা ইউপি কার্যালয়ে গিয়ে বয়স সংশোধনের ব্যবস্থা করতে চাইছেন।

Comments
Comments