[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

মক্কেল বাহিনী দাপটে গ্রামের জনজীবন স্তব্ধ

প্রকাশঃ
অ+ অ-

সাহাপুর ইউনিয়ন পরিষদ | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়ন পরিষদ শিক্ষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও খেলাধুলার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। তবে ইউনিয়নের চরগড়গড়ী গ্রামে প্রায় ২০ হাজার মানুষ ‘মক্কেল বাহিনী’র ভয় ও হুমকির শিকার হচ্ছেন। বাহিনীটির নেতৃত্বে রয়েছেন মক্কেল মৃধা। তিনি সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, বাহিনী বন্দুকের ভয় দেখিয়ে কৃষকদের জমি দখল করছে এবং প্রায় ২০০ বিঘা জমি নিজেদের নামে ব্যবহার করছে। প্রতিটি পরিবারকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। কেউ তা না দিলে বাড়ি ও জমি দখল হয়ে যাচ্ছে। নিয়মিত অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবিও ঘটছে। ঈদের আগে আব্দুল্লাহ নামের এক যুবককে অপহরণ করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়।

সরজমিনে গ্রামের কয়েকজন জানালেন, রাতের সময় তারা মোটরসাইকেল বহর নিয়ে গ্রামে ঢুকে গুলি চালায়, বাড়িঘর ভাঙচুর করে ও দোকানপাট লুট করে। ইতোমধ্যে কয়েকজন কৃষকের গরু, দোকানের মালামাল ও গৃহস্থালি জিনিসপত্র লুট হয়েছে। নারী নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে।

শুধু লুটপাট নয়, মক্কেলের ছেলে আব্দুল আলীম বাঁধন ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত। একবার ধরা পড়লেও জামিনে বের হয়ে আবারও একই ব্যবসা চালাচ্ছে। বাহিনীর হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র রয়েছে, যা দিয়ে তারা প্রকাশ্যে মহড়া দেখায়।

স্থানীয় মসজিদের ইমাম বলেন, 'গ্রামে এমন অবস্থা তৈরি হওয়ায় নামাজ, জামাত ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানও ভীতি আর আতঙ্কে সীমিত হয়ে গেছে। মানুষ নিরাপদে চলাফেরায় অক্ষম।'

ভুক্তভোগীরা ভয়ে নিজের ক্ষতির কথা প্রকাশ করতে পারছেন না। তুষার নামে এক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ করেছেন পাবনা পুলিশ সুপার ও আইজিপির কাছে। তিনি জানান, 'মক্কেল বাহিনী আমার পরিবারকে নির্যাতন করেছে, সম্পদ কেড়ে নিয়েছে, এমনকি আমাকে হত্যা করতে চেয়েছে। এখন আমি এলাকায় ফিরতে পারছি না।' 

অন্য ভুক্তভোগী সাচ্চু বলেন, ‘মক্কেল বাহিনীর অত্যাচারে গ্রামের সবাই অতিষ্ঠ। সে বিএনপির নেতা হওয়ায় কেউ কিছু বলতে সাহস পাচ্ছে না।’

মক্কেল মৃধার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 

ঈশ্বরদী থানার ওসি আ.স.ম. আব্দুর নূর বলেন, ‘আমি এখনও কোনও অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি শাহজাহান আলী জানান, ‘বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

একটি মন্তব্য করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন