পদ্মা ট্রিবিউন | বাংলা নিউজ পেপার
বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্ব বাণিজ্য মতামত খেলা বিনোদন চাকরি জীবনযাপন ভিডিও

চাঁদা না দিলেই মিলছে হামলা-গুলি-হত্যা, কোথায় নিরাপত্তা?

আসামিদের পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধে জোরালো নজরদারি দরকার।

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা
চাঁদাবাজি
চাঁদাবাজি | প্রতীকী ছবি

চাঁদা না দেওয়ায় হত্যা, কুপিয়ে ও গুলি করে আহত করা কিংবা কর্মস্থলে হামলার মতো সাম্প্রতিক একাধিক ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জোরালো হচ্ছে।


অপরাধ বিশ্লেষক ও পুলিশ কর্তারা বলছেন, অপরাধ দমনে শুধু তাৎক্ষণিক অভিযান যথেষ্ট নয়। তদন্তের মান, আদালতে সাক্ষ্যপ্রমাণের টিকে থাকা, বিচারাধীন মামলার দীর্ঘসূত্রতা এবং জামিনে বেরিয়ে আসামিদের পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধে জোরালো নজরদারি দরকার।


গত ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে কেরানীগঞ্জের আরশীনগরে ফরহাদ হোসেন (২৫) নামে এক মাছ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। মোহাম্মদপুরের ফুটপাতে দোকান বসানো ও চাঁদা না দেওয়া কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা এ হামলা চালায় বলে অভিযোগ। তবে পুলিশের দাবি, নিহত ফরহাদ নিজেও কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পূর্বশত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটেছে।


এর দুই দিন আগে, ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে বাড্ডার বউবাজার এলাকায় ঘরে ঢুকে মো. রানা (৩৫) নামে এক যুবককে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনার পেছনেও চাঁদা না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।


চট্টগ্রামেও এক চিকিৎসকের কাছে বিদেশে অবস্থানরত পরিচয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। টাকা না দিলে চেম্বারে ঢুকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। ৩ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী থানায় করা জিডিতে ডা. এম ওয়াই এফ পারভেজ উল্লেখ করেন, ২ সেপ্টেম্বর রাতে তার সহকারীকে ফোন করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টাকা প্রস্তুত রাখার কথা বলা হয়।


চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করে উল্টো অপপ্রচারের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন মোহাম্মদপুরের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. মান্নান হোসেন শাহীন। গত ১০ সেপ্টেম্বর ক্রাইম রিপোর্টাস অ্যাসোসিয়েশনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ৫ আগস্টের পর এলাকায় পাহারা দেওয়ার জেরে তাঁর ওপর হামলা হয়। গত ৪ সেপ্টেম্বর চাঁদ উদ্যানে সুয়ারেজ লাইনের কাজে চাঁদা দাবির প্রতিবাদ করলে আবারও তাঁর ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়। এ সময় তাঁর সঙ্গী আহত হন। শাহীনের অভিযোগ, এ ঘটনার পর উল্টো তাঁকেই চাঁদাবাজ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে এবং নির্বাচনে দাঁড়ালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।


সাবেক আইজিপি বাহারুল আলম মনে করেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কেবল পুলিশি অভিযান বা গ্রেপ্তার যথেষ্ট নয়। পুলিশ, বিচার বিভাগ ও কারাগার—এই তিন কাঠামোর সমন্বিত কাজ প্রয়োজন। একটি স্থায়ী ও পেশাদার প্রসিকিউশন সার্ভিস গঠনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, মামলা কেন ব্যর্থ হলো, তদন্ত বা প্রমাণের দুর্বলতা কোথায় ছিল—তা নিয়মিত পর্যালোচনা করা উচিত।


পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশ অপরাধীদের ধরলেও আইনের নানা ফাঁকফোকরে তারা দ্রুত জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধে জড়ায়। তা ছাড়া বছরের পর বছর বিচার ঝুলে থাকা এবং বিচার বিভাগের সক্ষমতার ঘাটতি দূর না করে শুধু পুলিশের ওপর চাপ দিয়ে ফল আসবে না।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম সোহাগ জানান, নগরে আসা কর্মহীন ও ভাসমান মানুষকে অপরাধী চক্রগুলো ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। পারিবারিক অশান্তি, বেকারত্ব ও সচেতনতার অভাবে কিশোররা গ্যাং বা মাদক কারবারে জড়াচ্ছে। তাই শুধু শাস্তি নয়, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে অপরাধের পথ বন্ধ করা জরুরি।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

0 Comments

No comments yet. Be the first to share your thoughts!

Leave a Comment

Moderated — may take a moment.