মিরপুরে প্লট দখল, রাস্তা বন্ধ-বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ
রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর আবাসিক এলাকায় প্লট দখল, রাস্তা বন্ধ এবং ভবন নির্মাণে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা না পেয়ে নির্মাণশ্রমিকদের মারধর ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী প্লট ও ফ্ল্যাটমালিকেরা।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্র্যাব) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করে ‘সম্প্রসারিত রূপনগর আবাসিক এলাকা প্লট, বাড়ি ও ফ্ল্যাট মালিক কল্যাণ সমিতি’। এতে সমিতির সভাপতি এ কে এম শামসুজ্জামান লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের (জাগৃক) আওতাধীন রূপনগরের দুয়ারীপাড়া এলাকার এই আবাসন প্রকল্পের ‘ক’ ও ‘খ’ ব্লকে অন্তত অর্ধশত প্লটের মালিক চাঁদাবাজদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। গভীর রাতে ইট-বালু ও টিন দিয়ে স্থাপনা নির্মাণ, দেয়াল তুলে গেট তৈরি এবং ২০ ফুট চওড়া রাস্তায় লোহার অ্যাঙ্গেল ঝালাই করে চলাচলের পথ আটকে দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া প্রকল্পের খ-ব্লকের পূর্ব পাশে ৪০ ফুট প্রশস্ত রাস্তাসহ প্রায় ৯০ কাঠা জায়গা দখল করে বস্তি ও গ্যারেজ বসানো হয়েছে, যার আড়ালে চলছে মাদক ব্যবসা। এসব ঘটনায় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের মিরপুর কার্যালয় থেকে রূপনগর থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি ও লিখিত অভিযোগ করা হলেও পুলিশ কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, গত ১৮ জুলাই রূপনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুলসহ দুজন পুলিশ সদস্যের উপস্থিতিতে চাঁদাবাজেরা ড্যাফোডিল হোমস লিমিটেডের একটি নির্মাণাধীন প্রকল্পে গিয়ে শ্রমিকদের তাড়িয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। সিসিটিভি ফুটেজেও এর প্রমাণ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান এ ঘটনায় থানায় গিয়ে প্রতিকার না পেয়ে পরে সিএমএম আদালতে মামলা করেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্যের জন্য রূপনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নোমান হোসাইনকে দুপুর থেকে কয়েক দফায় ফোন করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ রাত সোয়া ১০টায় ফোন করলে তিনি কেটে দেন।
রূপনগর আবাসিক এলাকা প্লট, বাড়ি ও ফ্ল্যাট মালিক সমিতির অভিযোগ, এলাকায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে থাকা ২২ সদস্যের আনসার ক্যাম্পটি প্রায় দুই মাস আগে প্রত্যাহার করা হয়। ওই দিন রাতেই ক্যাম্পসহ দুটি প্লট দখল করে নেয় চক্রটি। শামসুজ্জামান বলেন, ১৯৯৬ সাল থেকে বরাদ্দ পাওয়া এই প্রকল্পে অনেকে ভবন তুলেছেন, অনেকে সীমানা ঘিরে রেখেছেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে একটি চক্র রাতের আঁধারে অন্যের জমিতে ঘর তুলে জবরদখল শুরু করেছেন।
দখলদার চক্রে ৩৬ থেকে ৩৮ জন জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়। এই চক্রের সদস্য হিসেবে সালাউদ্দিন শিপু মোল্লা, আমজাদ হোসেন মোল্লা, জাকির হোসেন ওরফে শান্ত, শিহাব উদ্দিন, জামাল উদ্দিন ওরফে লম্বা জামাল, আব্দুল হক, নজরুল ইসলাম (নজু), আক্তার হোসেন, হুমায়ুন কবির স্বপন, মামুন, আইজল, মোবারক হোসেন মেম্বার, গালিব হোসেন আরিফ, রাজু, সুমন, এরশাদ খোকন, জাহিদ হোসেন, মিজান, রকি, ফয়েজ, কামাল ওরফে সিএনজি কামাল, আজিজুল হক জামাল, দুলাল, সোহেল, সোহেল আনসারী, আবুল কালাম আনসারী, বাশার ও সফিকসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়।
সমিতির দাবি, অভিযুক্তদের কেউ কেউ আগে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে এসব অপকর্ম করছেন। দখলে বাধা দিলে উল্টো হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
প্লটমালিকদের নিরাপত্তা ও সম্পত্তির সুরক্ষায় অবিলম্বে এই চক্রের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন সমিতির নেতারা।